📌 সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হওয়ার পরও পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে। একই পদে একই কাজ করেও বেতনে ১৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা দিয়েছে। ব্যাংকের কর্মীরা অভিন্ন বেতনকাঠামোর দাবি জানিয়েছেন
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হওয়ার পরও পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্যের সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। একই পদে একই কাজ করেও বেতনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা দিয়েছে, যা কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে পাঁচটি সংকটগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের একীভূত হয়ে — এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।
- 📌 একই পদে একই কাজ করেও বেতনে ১৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে।
- 📌 এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির কর্মীসংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি।
- 📌 পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪৮.২০% থেকে ৯৮% পর্যন্ত।
- 📌 সম্মিলিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগামী রোববার বেতনকাঠামোর বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।
📰 বিস্তারিত
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান জানিয়েছেন, পাঁচটি আলাদা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার কারণে বেতনকাঠামোও ভিন্ন। তিনি বলেছেন, “আমরা চেষ্টা করছি নতুন একটি মডেল দাঁড় করাতে, যেখানে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সন্তুষ্ট করা যায়। শিগগির এ বিষয়ে একটি ফলাফল সবাই দেখতে পাবে।”
কর্মীদের অভিযোগ, একীভূত হওয়ার পর পাঁচটি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী একই প্রতিষ্ঠানের জনবল হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে এখনো বহাল রয়েছে সাবেক ব্যাংকভিত্তিক পৃথক কাঠামো। একই পদে কর্মরতদের বেতনে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। বিশেষ করে জুনিয়র অফিসার থেকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন ব্যবধান ১৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কর্মীদের প্রশ্ন, একই গ্রেড, একই দায়িত্ব, একই অফিস এবং একই ব্যবস্থাপনার অধীনে কাজ করার পরও একজন কর্মী বেশি এবং অন্যজন কম বেতন পাবেন কেন?
ব্যাংকের সংকট ও দায়িত্ব যদি সম্মিলিত হয়, তাহলে কর্মীদের বেতনকাঠামোও অভিন্ন হওয়া উচিত — এমন দাবি করছেন কর্মীরা। এক্সিম ব্যাংকের কর্মীদের দাবি, সম্মিলিত ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখতে তারা নিয়মিত ঋণ আদায়, আমানত সংগ্রহ ও গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ একই প্রতিষ্ঠানের অন্য চারটি ব্যাংকের কর্মীদের তুলনায় তাদের বেতন কম।
"তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক কম। এখন আমরা একই পদে একই কাজ করছি। অথচ অন্য ব্যাংকের তুলনায় কম বেতন পাচ্ছি। এটা আমাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।"
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি মাস থেকে সম্মিলিত ব্যাংকের আইডি কার্ড এবং অভিন্ন বেতন-ভাতা চালু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়েছে। তবে বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর আপত্তি বা ভিন্নমতের কারণে অভিন্ন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী শায়রুল হাসান (চেয়ারম্যান), কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি ব্যাংক একীভূত, ১৮ হাজার+ কর্মী, ১৫-৭০ হাজার টাকা বেতন পার্থক্য, ৪৮.২০% থেকে ৯৮% খেলাপি ঋণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!