📌 ঢাকার শনির আখড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শাখায় নিরক্ষর নারগিস আক্তারের ১ কোটি ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে
ঢাকার শনির আখড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখায় নিরক্ষর গৃহিণী নারগিস আক্তারের ১ কোটি ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকের কর্মকর্তারা জালিয়াতির মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাত করে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তরিত করেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে নারগিস আক্তার মামলা দায়ের করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ কোটি ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নারগিস আক্তার মামলা দায়ের করেছেন
- 📌 ৮৫ লাখ টাকা জাল চেকের মাধ্যমে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তরিত
- 📌 ৯ জন আসামি — ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের ৪ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটিকে আসামি করা হয়েছে
- 📌 ৪ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের; পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
- 📌 ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাল চেক ও অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটে
📰 বিস্তারিত
নারগিস আক্তার, একজন নিরক্ষর গৃহিণী, জমি ও গাড়ি বিক্রি ও ভাড়া থেকে সঞ্চিত টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখায় জমা দিয়েছিলেন। ব্যাংকের কর্মকর্তারা তার নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়ে জাল চেক পূরণ ও অর্থ স্থানান্তরের কাজে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নারগিস আক্তার ব্যাংকে পাঁচ লাখ টাকা তুলতে গেলে কর্মকর্তারা অতিরিক্ত চেক রেখে দেন এবং ডিপিএস খোলার কথা বলে তার স্বাক্ষর নেন। এরপর ৪ অক্টোবর তিনি হিসাবের স্থিতি জেনে দেখেন, তার হিসাবে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। কিন্তু আসলে জমা ছিল ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহিত মোরশেদ নারগিসকে জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর ‘পজিটিভ পে ইনস্ট্রাকশন’ ফরমের মাধ্যমে একটি চেকে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নারগিসের দাবি, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানকে কোনো চেক দেননি। বরং জাল স্বাক্ষর ও টাকার অঙ্ক বসিয়ে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, জাল চেকের বিপরীতে পজিটিভ পে ফরম তৈরি করে পূবালী ব্যাংক পিএলসির রাজবাড়ী শাখায় অর্থ স্থানান্তরিত করা হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আসামি শওকত হাসান পূবালী ব্যাংকের শাখা থেকে নগদ ৮৫ লাখ টাকা তুলে নেন।
নারগিস আক্তার দাবি করেন, তিনি কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তবে তার হিসাব থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. গোলাম কিবরিয়া সহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ম্যানেজার কাজী এনামুল কবির ও শওকত হাসান এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আসামি করা হয়েছে।
"আমি কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু আমার হিসাব থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল এই কাজে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, শনির আখড়া, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক দনিয়া শাখা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নারগিস আক্তার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক, মাজেদুর রহমান (আইনজীবী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা (জমা), ৮৫ লাখ টাকা (আত্মসাত), ৯ জন আসামি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!