📌 দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) অনুপাত গত নয় মাসে ৩ শতাংশ কমে ৩২.৭৮% এ দাঁড়িয়েছে। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও ব্যাংক খাতের সংস্কার উদ্যোগের ফলে এনপিএল অনুপাত কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত অবস্থা প্রকাশের ফলে স্বচ্ছতা বাড়লেও ঋণ আদায় ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ (এনপিএল) অনুপাত গত নয় মাসে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে এনপিএল অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৩২.৭৮ শতাংশ, যা গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ৩ শতাংশ কমে এসেছে। তবে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগের ফলে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যদিও এখনও ঋণ আদায় ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নতি অর্জন সম্ভব নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত নয় মাসে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) অনুপাত কমে ৩২.৭৮ শতাংশে নেমেছে, যা গত বছরের ৩৫.৭৩ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ কম
- 📌 খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ব্যাংক খাতের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে আগে আড়াল করা ঋণগুলো প্রকাশ পেয়েছে
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা, যা সরকারি হিসেবের চেয়ে অনেক বেশি
- 📌 ব্যাংক খাতের সংস্কারের জন্য ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ৩৫.৭৩ শতাংশ, যা মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। তবে ২০২৬ সালের জুন মাসে এই অনুপাত কমে ৩২.৭৮ শতাংশে নেমেছে, যদিও মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। এর ফলে আগে গোপন বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা ঋণগুলো প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেছেন, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত অবস্থা পুরোপুরি তুলে ধরেনি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ২০০৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা থাকলেও সরকারি হিসেব অনুযায়ী তা ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে প্রকৃত খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা বলে মনে করা হয়। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে এসব সংস্কারের বিকল্প নেই।
ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমার বর্তমান প্রবণতা উৎসাহব্যঞ্জক হলেও এটিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় শুরুতে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করাই টেকসই সংস্কারের প্রথম শর্ত। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংক খাতের হিসাব পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে, তবে দীর্ঘ মেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
"২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে আসে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ব্যাংক খাত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ হোসেন খান (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক), ড. মোস্তাফিজুর রহমান (সিপিডি ফেলো), আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (সাউথ বাংলা ব্যাংক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২.৭৮% (এনপিএল অনুপাত), ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণ পরিমাণ), ৩ শতাংশ (কমে গেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!