📌 সোনালী ব্যাংকের কর্মচারীদের ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য বাড়তি পাঁচটি বোনাসের মধ্যে ১১৬ কোটি টাকা ফেরত নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারি চাপে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বোনাস ফেরত নেয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু কর্মচারীদের পকেটে টাকা চলে গেলে তা ফেরত আনার বাস্তবতা প্রশ্নবিদ্ধ
সোনালী ব্যাংকের কর্মচারীদের ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য বাড়তি পাঁচটি উৎসাহ বোনাসের মধ্যে ১১৬ কোটি টাকা ফেরত নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, দেড় বছর পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চাপে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বোনাস ফেরত নেয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু কর্মচারীদের পকেটে টাকা চলে গেলে তা ফেরত আনার বাস্তবতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোনালী ব্যাংকের ২১ হাজার কর্মচারী ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য বাড়তি পাঁচটি উৎসাহ বোনাসের মধ্যে ১১৬ কোটি টাকা পেয়েছেন, কিন্তু নীতিমালা লঙ্ঘন বলে তা ফেরত নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবায়িত হয়নি।
- 📌 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি আফজাল করিমকে অবরুদ্ধ করে একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা বোনাসের দাবিতে আন্দোলন চালিয়েছিলেন।
- 📌 ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ ফেরত নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি।
- 📌 গত ১১ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়ে পাঁচটি বোনাসের বিষয়ে অসম্মতি জানিয়ে বাড়তি বোনাসের অর্থ ফেরত নেয়ার নির্দেশ পুনরায় দিয়েছে।
- 📌 সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান বলেছেন, বোনাসের সিদ্ধান্তটি তার আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং টাকা পরিশোধ করা হয়ে গেছে, তাই সরকারকে তা মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য সোনালী ব্যাংকের কর্মচারীদের পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী তিনটির বেশি বোনাস দেওয়ার সুযোগ ছিল না। বোনাসের দাবিতে কর্মচারীরা আন্দোলন চালালে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর আগে পরিচালনা পর্ষদ চাপের মুখে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে পাঁচটি বোনাস অনুমোদন করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকও এই বিষয়ে সম্মতি দেয়নি।
২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আসেন সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের আগপর্যন্ত বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বোনাস ফেরত নেয়ার বিষয়টি সফল হয়নি। ব্যাংকের একজন পরিচালক জানান, কর্মচারীদের ‘মব’ করে বোনাস আদায়ের কারণে ব্যাংকটি জটিলতায় পড়েছে। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এর কোনো সমাধান হবে না।
২০২৫ সালের ২৭ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়ে বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ ফেরত নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু দেড় বছর পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। গত ১১ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পুনরায় চিঠি দিয়ে বাড়তি বোনাসের অর্থ ফেরত নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
"৫ বোনাসের সিদ্ধান্তটি আমি এ ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগেই নেওয়া হয়েছে। যেকোনোভাবেই হোক, টাকা যেহেতু পরিশোধ করা হয়ে গেছে, সেহেতু আমরা সরকারকে তা মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। নতুন করে আবার একই অনুরোধ জানাব।"
— সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও শওকত আলী খান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনালী ব্যাংক, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান, সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১৬ কোটি টাকা (বাড়তি বোনাস), ২১ হাজার কর্মচারী, ৫টি বোনাস, ৬০ কোটি টাকা (একটি বোনাসের পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!