📌 ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির একটি অবৈধ বাজার গড়ে উঠেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, কল ডিটেল রেকর্ড, লাইভ লোকেশনসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে। ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে এমন ১০টি ওয়েবসাইট ও শতাধিক বিজ্ঞাপনের সন্ধান মিলেছে
সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে অবাধে বিক্রির ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল ফোনের লাইভ লোকেশন, এসএমএসের তালিকা, টিআইএন, পাসপোর্ট তথ্য ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব বিবরণী টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রিতে জড়িত ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে প্রকাশিত ৬০০টির বেশি বিজ্ঞাপনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেসবুক ও টেলিগ্রামে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অবৈধ তথ্য বাজারের চিত্র
- 📌 জাতীয় পরিচয়পত্র বিক্রিতে মাত্র ৫০০ টাকায় পিডিএফ ফাইল সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যেখানে নাম, ছবি ও জন্মতারিখসহ সব তথ্য সঠিক ছিল
- 📌 কল ডিটেল রেকর্ড বিক্রিতে ১ হাজার ৫০ টাকা ব্যয়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে ফাইল সরবরাহের দাবি করা হয়েছে
- 📌 মোবাইল ফোনের লাইভ লোকেশন জানতে চেয়ে ১৬ মিনিটের মধ্যে টাওয়ারভিত্তিক অবস্থান ও গুগল ম্যাপ লিংক প্রদানের বিজ্ঞাপন মিলেছে
- 📌 ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রিতে ব্যবহৃত ১১২টি ভিন্ন মোবাইল নম্বর ও ৩৬টি ফেসবুক গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপনগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম গ্রুপে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। গত জুন মাসে ভোটার তালিকা বিক্রির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ডিসমিসল্যাবের গবেষকেরা ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন খুঁজে পান। 'সাইন কপি' শব্দটি দিয়ে সার্চ করলে ৬৭৫টি পোস্ট পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশিত ৬০৫টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির প্রস্তাব ছিল।
এরপর 'ভোটার লিস্ট' নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশ করে ডিসমিসল্যাবের গবেষকেরা নিজেদের ক্রেতা পরিচয়ে বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিজ্ঞাপনদাতাকে একটি মুঠোফোন নম্বর ও ৫০০ টাকা প্রদানের পর মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে গ্রাহকের এনআইডি কার্ডের পিডিএফ ফাইল সরবরাহ করা হয়। ফাইলে থাকা নাম, ছবি, জন্মতারিখসহ সব তথ্য সংশ্লিষ্ট সিম মালিকের সঙ্গে মিলে যায়। এমনকি দুই মাস আগে সংশোধন করা তাঁর মায়ের নামটিও হালনাগাদ অবস্থায় পাওয়া যায়।
'হেল্প বিডি' নামের আরেকটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে এনআইডির পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, মোবাইল অবস্থান, সিডিআর, এসএমএস তালিকা, আইএমইআই নম্বর, টিআইএন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট কপি ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল। ২৫ জুন ওই অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাবের গবেষকেরা একটি গ্রামীণফোন নম্বরের তিন মাসের কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর) চান। ১ হাজার ৫০ টাকা প্রদানের আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফাইলটি পাঠানো হয়। ফাইলে থাকা সাম্প্রতিক ২০টি যোগাযোগ নম্বর, কলের সময় ও ধরন মিলিয়ে দেখা যায় সব তথ্য সঠিক।
অন্য একটি ওয়েবসাইটে একটি গ্রামীণফোন নম্বরের লাইভ লোকেশন জানতে চেয়ে টাকা দেওয়ার মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে নম্বরটির সর্বশেষ সক্রিয় সময়, মোবাইল টাওয়ারভিত্তিক অবস্থান, একটি ঠিকানা ও গুগল ম্যাপের লিংক প্রদান করা হয়।
"কল ডিটেলস রেকর্ড ও অবস্থান তথ্যের মাধ্যমে একজন মানুষের যোগাযোগ ও চলাফেরার ধরন জানা সম্ভব। ফলে এসব তথ্য নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইট
- 👥 ব্যক্তি: ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রেতা, ক্রেতা, ডিসমিসল্যাবের গবেষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি ওয়েবসাইট, ৬০০টি বিজ্ঞাপন, ৬৭৫টি পোস্ট, ৬০৫টি বিক্রির প্রস্তাব, ৫০০ টাকা, ১৭ মিনিট, ১ হাজার ৫০ টাকা, ১৬ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!