📌 নওগাঁ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে একটি খামারে আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপে গরুর খামার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও অ্যামোনিয়া গ্যাসের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা যায় অ্যাপের মাধ্যমে। প্রযুক্তি ব্যবহারে কমছে শ্রমিকের নির্ভরতা এবং বাড়ছে গবাদিপশুর উৎপাদন।
নওগাঁ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে একটি খামারে প্রযুক্তির মাধ্যমে পশুপালন ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এখানে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে গরুর খামারের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) প্রযুক্তির ব্যবহারে খামার পরিচালনা সহজ হয়ে গেছে এবং গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নওগাঁ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে একটি খামারে মোবাইল অ্যাপে গরুর খামার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে
- 📌 ২৪ ঘণ্টা খামারের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও অ্যামোনিয়া গ্যাসের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা যায় অ্যাপের মাধ্যমে
- 📌 খামারিরা মোবাইল ফোন থেকে দূর থেকে ফ্যান, ব্লোয়ার, লাইট, স্প্রিংকলার ও এক্সহস্ট ফ্যান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন
- 📌 প্রযুক্তি ব্যবহারে গবাদিপশুর রোগবালাই কমে উৎপাদন বেড়েছে
- 📌 খামারিরা শ্রমিকের নির্ভরতা কমিয়ে খামার পরিচালনা সহজ করে নিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৌসুমী’র বাস্তবায়নে গোবিন্দপুর গ্রামের খামারি নূরে আলমের খামারে আইওটি প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এখানে প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে স্মার্ট সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সেন্সরের মাধ্যমে খামারের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের তথ্য মুহূর্তেই খামারির মোবাইল ফোনের অ্যাপে পৌঁছায়।
খামারিরা জানান, গবাদিপশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য খামারের পরিবেশ অনুকূলে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গরমে গরু হিট স্ট্রেসে আক্রান্ত হতে পারে, যা পশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। গ্রামাঞ্চলে দক্ষ খামার শ্রমিকের সংকটও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইওটি প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
খামারের তাপমাত্রা বা আর্দ্রতায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটলে কিংবা অ্যামোনিয়া গ্যাসের মাত্রা বেড়ে গেলে খামারির মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা আসে। এছাড়াও অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে খামারের ফ্যান, ব্লোয়ার, লাইট, স্প্রিংকলার ও এক্সহস্ট ফ্যান চালু বা বন্ধ করা যায়। ফলে খামারে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
খামারি নূরে আলম বলেন, ‘আগে আবহাওয়া খারাপ হলে বা অতিরিক্ত গরমে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ত। খামারে গ্যাস জমেছে কি না, তা বুঝতে পারা কঠিন ছিল। এখন সেন্সরের মাধ্যমে ফোনের অ্যাপেই সব তথ্য পেয়ে যাই। দূরে থাকলেও মোবাইল থেকে ফ্যান বা স্প্রিংকলার চালু করে দিতে পারি। এতে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমেছে, তেমনি গবাদিপশুর রোগবালাই কমে উৎপাদনও অনেক বেড়ে গেছে।’
স্থানীয় খামারি একরামুল হক বলেন, ‘হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে খামার সামলানো এবং গরুর সুস্বাস্থ্য টিকিয়ে রাখা সব সময় আমাদের জন্য কঠিন ছিল। এখন দেখি মোবাইল ফোনের অ্যাপ দিয়েই খামারের ফ্যান আর তাপমাত্রা সব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। এটা দেখে সত্যি অবাক হয়েছি। আমাদের মতো প্রান্তিক খামারিদের খামারে যদি এমন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যায়, তবে লোকসানের ঝুঁকি আর থাকবে না।’
"গরুর খামারে আইওটি প্রযুক্তির ব্যবহার গবাদিপশু পালনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রথাগত খামারে হিট স্ট্রেস ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে পশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতো, যা খামারিদের বড় ঝুঁকিতে ফেলত। গোবিন্দপুরের খামারি নুর এ আলম এখন একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।"
উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমীর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূর হোসেন বলেন, ‘এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে খামারের ঝুঁকি কমিয়ে এটিকে লাভজনক ব্যবসায় রূপ দেওয়া সম্ভব। পিকেএসএফের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের জীবনযাত্রা উন্নত হবে।'
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গবাদিপশু পালনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। প্রথাগত পদ্ধতিতে তাপমাত্রা বা হিট স্ট্রেসের কারণে খামারিরা প্রায়ই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। নওগাঁর গোবিন্দপুর গ্রামের এই খামারে আইওটি প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ আমাদের ডেইরি খাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে আমরা এ ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক খামারগুলোকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিতে সব সময় প্রস্তুত আছি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোবিন্দপুর গ্রাম, নওগাঁ সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নূরে আলম, একরামুল হক, নূর হোসেন, ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!