📌 ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রায়হানা ইসলাম ও মো. আমিনুল্লাহ তাদের উদ্ভাবিত ‘ফায়ারগার্ড ওয়ান পয়েন্ট জিরো’ রোবট নিয়ে মালয়েশিয়ার বিশ্ব প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছেন। এই রোবট আগুন, ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করে ৭০ মিটার দূর থেকে পানি ছুড়তে পারে এবং উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির দুজন শিক্ষার্থী তাদের উদ্ভাবিত স্বয়ংক্রিয় রোবট ‘ফায়ারগার্ড ওয়ান পয়েন্ট জিরো’ নিয়ে মালয়েশিয়ার অষ্টম ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশনে স্বর্ণপদক জিতেছেন। এই উদ্ভাবনটি আগুন, ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করে ৭০ মিটার দূরত্ব থেকে পানি ছুড়তে পারে এবং উচ্চ তাপমাত্রায়ও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রায়হানা ইসলাম ও মো. আমিনুল্লাহ তাদের উদ্ভাবিত রোবট ‘ফায়ারগার্ড ওয়ান পয়েন্ট জিরো’ নিয়ে মালয়েশিয়ার সেগি ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব প্রতিযোগিতায় আইটি অ্যান্ড রোবোটিকস বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছেন।
- 📌 এই রোবট ৭০ মিটার দূরত্ব থেকে পানি ছুড়তে এবং উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম, যা আগুন, ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করে।
- 📌 মালয়েশিয়ার প্রতিযোগিতায় ২২৫টি প্রকল্পের মধ্যে তাদের উদ্ভাবন সেরা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
- 📌 দুজন শিক্ষার্থী ইনফারনোটিকস নামে একটি স্টার্টআপ গড়ে তুলেছেন এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির রোবোটিকস ক্লাবের সদস্য।
- 📌 তাদের উদ্ভাবনটি বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানা, কেমিক্যাল প্ল্যান্ট ও পাওয়ার স্টেশনে প্রয়োগের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
📰 বিস্তারিত
রায়হানা ইসলামের মনে আগুন লাগা কারখানায় উদ্ধারকর্মীদের সম্মুখীন হওয়া চ্যালেঞ্জের কথা চিন্তা করে উদ্ভাবিত হয় এই রোবট। তিনি তার সহপাঠী মো. আমিনুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দুজনেরই লক্ষ্য ছিল অটোমেশন দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করা। রায়হানা অটোমেশনে আগ্রহী ছিলেন, আর আমিনুল্লাহ হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রনিকসে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তাদের এই দক্ষতার সমন্বয়ে তৈরি হয় ‘ফায়ারগার্ড ওয়ান পয়েন্ট জিরো’।
সিএসই বিভাগের ডিন অধ্যাপক আহমেদ ওয়াসিফ রেজাও তাদের উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। তবে কাজটি ছিল কঠিন। সেন্সরগুলো ঠিকমতো কাজ করছিল না, ভুল তথ্য দিচ্ছিল, বা প্রত্যাশামতো কাজ করছিল না। কিন্তু দুজনই হাল ছাড়েননি। ক্লাস, পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপের মধ্যেও তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাবে সময় কাটিয়েছেন।
প্রথম পরীক্ষা হিসেবে ৯ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় তাদের রোবট জেতে স্বর্ণপদক ও সেরা প্রকল্পের স্বীকৃতি পায়। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে তারা ওয়াটার মনিটরের প্রেশার কন্ট্রোল উন্নত করেন এবং সেন্সরগুলো আরও নিখুঁত করেন। মালয়েশিয়ার প্রতিযোগিতায় তারা ২২৫টি প্রকল্পের মধ্যে সেরা হিসেবে স্বর্ণপদক জিতেছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন দেখে রায়হানা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ‘স্মার্ট সিপিআর-ড্রোন ফর ইএমএস’ প্রকল্পটি। তারা মনে করেন, অটোমেশন সরাসরি মানুষের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
"আমরা দুজন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই এসব কারিগরি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।"
— মো. আমিনুল্লাহ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মালয়েশিয়ার সেগি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা (ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রায়হানা ইসলাম ও মো. আমিনুল্লাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ মিটার (পানি ছুড়তে সক্ষম), ১৯-২৫ সেপ্টেম্বর (প্রতিযোগিতার তারিখ), ২২৫টি প্রকল্পের মধ্যে সেরা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!