📌 সুইডেনের গবেষকরা ম্যাজেন্টা রঙের আংশিক স্বচ্ছ সোলার প্যানেলের নিচে ব্রকলি চাষ করে ফলনের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। প্যানেলের নিচে চাষ করা ব্রকলির ফলন স্বাভাবিকের মতোই হলেও পরিপক্বতা লেগেছে ২৫ দিন বেশি। তবে আলোর কার্যকারিতা ৪.৫ থেকে ২.৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ফসল চাষের একই জমিতে সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে পেয়েছেন সুইডেনের গবেষকরা। ম্যালারডালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল ম্যাজেন্টা রঙের আংশিক স্বচ্ছ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি বিকাশ করেছেন। এই প্যানেল উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় লাল ও নীল আলোক তরঙ্গকে নিচে পৌঁছাতে সহায়তা করে, পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ভূমিকা রাখে। গবেষণায় ব্রকলি চাষের মাধ্যমে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ফলাফল আশাবাদী বলে মনে হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুইডেনের গবেষকরা ম্যাজেন্টা রঙের সোলার প্যানেলের নিচে ব্রকলি চাষ করে ফলনের সম্ভাবনা প্রমাণ করেছেন
- 📌 ২০ বর্গমিটার জমিতে ৫০% ও ৭০% স্বচ্ছতা সম্পন্ন প্যানেলের নিচে চাষ করা ব্রকলির ফলন স্বাভাবিকের মতোই হলেও পরিপক্বতা লেগেছে ২৫ দিন বেশি
- 📌 প্যানেলের নিচে আলোর কার্যকারিতা ৫০% স্বচ্ছ প্যানেলে ৪.৫ গুণ এবং ৭০% স্বচ্ছ প্যানেলে ২.৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 নিউজিল্যান্ডের গবেষক রমেশ রায়দু বলেছেন, প্রচলিত সোলার প্যানেলের তুলনায় এই প্যানেলগুলো হেক্টরপ্রতি কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে
- 📌 ছোট আকারের কমিউনিটি গার্ডেন বা গ্রিনহাউসের ছাদে এই প্রযুক্তি এখনই কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব
📰 বিস্তারিত
সুইডেনের ম্যালারডালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিলভিয়া মা লু এবং তাঁর দল একটি আকর্ষণীয় গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। তারা ম্যাজেন্টা রঙের সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ফসল চাষের সম্ভাবনা পরীক্ষা করেছেন। এই প্যানেলের বিশেষত্ব হলো, এটি উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় লাল ও নীল আলোক তরঙ্গকে নিচে পৌঁছাতে সাহায্য করে। গবেষণায় ব্রকলি চাষের মাধ্যমে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষকরা ২০ বর্গমিটারের তিনটি আলাদা প্লটে ব্রকলি চাষ করেন। একটি প্লটে স্বাভাবিক রোদে, আর দুটি প্লটে যথাক্রমে ৫০ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশ স্বচ্ছতা সম্পন্ন ম্যাজেন্টা সোলার প্যানেলের নিচে চাষ করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফল আশাবাদী। দুটি প্যানেলের নিচে চাষ করা ব্রকলির ফলন প্রায় একই রকম হলেও, পরিপক্বতা লেগেছে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ দিন বেশি। তবে আলোর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০ শতাংশ স্বচ্ছ প্যানেলের নিচে আলোর কার্যকারিতা ৪.৫ গুণ এবং ৭০ শতাংশ স্বচ্ছ প্যানেলের নিচে ২.৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্যানেলগুলোর কাচের ভেতরে অস্বচ্ছ ক্যাডমিয়াম টেলুরাইড স্ট্রিপ যুক্ত থাকায় আলো প্রবেশ করতে পারে।
গবেষণায় কিছু সীমাবদ্ধতাও উঠে এসেছে। ম্যাজেন্টা প্যানেলগুলো মূলত ভবনের নান্দনিক নকশার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়াও প্যানেলগুলোর ফিল্টার সবুজ আলো আটকে দিলেও সেই শক্তির পুরোটা সোলার সেল দ্বারা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের গবেষক রমেশ রায়দু বলেছেন, প্রচলিত সোলার প্যানেলের তুলনায় এই ম্যাজেন্টা প্যানেলগুলো হেক্টরপ্রতি কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত ফলন পাওয়া যাবে কি না, তা যাচাই করার জন্য আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।
"প্রচলিত সোলার প্যানেলের তুলনায় এই ম্যাজেন্টা প্যানেলগুলো হেক্টরপ্রতি কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। অতিরিক্ত ফলন পাওয়ার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুইডেনের ম্যালারডালেন বিশ্ববিদ্যালয়, নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিলভিয়া মা লু, রমেশ রায়দু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বর্গমিটার (জমি), ৫০% ও ৭০% (প্যানেলের স্বচ্ছতা), ২৫ দিন (পরিপক্বতার সময়), ৪.৫ ও ২.৮ (আলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!