📌 বাইন্যান্স থেকে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টো হ্যাকিং ঘটে ২০ মিনিটে। ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করে হ্যাকাররা। বিশেষজ্ঞরা উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করে দিচ্ছেন, তবে প্রতিষ্ঠানটি হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। চুরি হওয়া অর্থের অর্ধেক জব্দ করা হলেও হ্যাকাররা অর্থের নগদ রূপান্তর এড়াতে চেষ্টা করছে
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সাইবার হ্যাকিং ঘটে মাত্র ২০ মিনিটে। হ্যাকাররা ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করে, যা ডিজিটাল অর্থের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা বাইন্যান্সের লেনদেন অনুমোদনকারী সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে অর্থ সরিয়ে নেয়। তবে কারা এই হামলার পেছনে, কীভাবে ঘটল এবং চুরি হওয়া অর্থ কোথায় গেল — এসব প্রশ্ন এখনও অব্যাহত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০ মিনিটে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার চুরি: বাইন্যান্স থেকে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টো হ্যাকিং ঘটে মাত্র ২০ মিনিটে। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানের ওয়ালেট থেকে অর্থ সরিয়ে নেয়।
- 📌 হ্যাকাররা কীভাবে করল?: বাইন্যান্সের লেনদেন অনুমোদনকারী ‘সাইনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নিয়ন্ত্রণ করে হ্যাকাররা অর্থ সরিয়ে নেয়। ব্লকচেইন রেকর্ড অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর রাত ৮টার পরপরই এই হামলা শুরু হয়।
- 📌 চুরি হওয়া অর্থের অর্ধেক জব্দ: বাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া অর্থের প্রায় অর্ধেক জব্দ করা হয়েছে। তবে হ্যাকাররা অর্থের নগদ রূপান্তর এড়াতে চেষ্টা করছে।
- 📌 উত্তর কোরিয়া হ্যাকারদের দায়ী?: যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার আগের সাইবার অভিযানের মিল রয়েছে। তবে বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং বলেছেন, হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
- 📌 চুরি হওয়া অর্থের পরিণতি: চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে টেথার, সার্কেল, রিপল এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টেবলকয়েন ছিল। এসব মুদ্রা জব্দ হওয়ায় হ্যাকারদের পক্ষে অর্থ নগদ করতে কঠিন হয়ে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির ধারণা ছিল, হামলাটি একটি ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে করা হয়েছে। তবে পরবর্তী তদন্তে আরও কয়েকটি নিরাপত্তা দুর্বলতার সন্ধান পাওয়া গেছে। বাইন্যান্সের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষায় একটি বিশেষ তহবিল রয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে টেথারের ইউএসডিটি এবং সার্কেলের ইউএসডিসি-এর মতো স্টেবলকয়েনের জব্দের ফলে হ্যাকারদের অর্থের নগদ রূপান্তর অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের তথ্যমতে, হ্যাকাররা বাইন্যান্সের লেনদেন অনুমোদনকারী ‘সাইনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নিয়ন্ত্রণ করে অর্থ সরিয়ে নেয়। এই সিস্টেমের মাধ্যমে তারা আক্রান্ত ওয়ালেটগুলো থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে সক্ষম হয়। ব্লকচেইন রেকর্ড অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৮টার পরপরই এই অর্থ চুরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই লুটের বড় অংশ সম্পন্ন করে হ্যাকাররা। অর্থ সরিয়ে নেওয়ার পর সেগুলো দ্রুত বিভিন্ন ঠিকানায় স্থানান্তরের চেষ্টা করে হামলাকারীরা, যাতে বাইন্যান্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও স্টেবলকয়েন ইস্যুকারীরা সেগুলো জব্দ করতে না পারে।
বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেছেন, চুরি হওয়া অর্থের ক্ষতি এই তহবিল এবং কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ থেকে পূরণ করা হবে। তবে হ্যাকাররা কারা, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার আগের সাইবার অভিযানের মিল রয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
"বাইন্যান্সের লেনদেন অনুমোদনকারী ‘সাইনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নিয়ন্ত্রণ করে হ্যাকাররা অর্থ সরিয়ে নেয়। এই সিস্টেমের মাধ্যমে তারা আক্রান্ত ওয়ালেটগুলো থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে সক্ষম হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিঙ্গাপুর (বাইন্যান্সের সদর দপ্তর)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: রিচার্ড টেং (বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা), জশুয়া চু (হংকংয়ের ক্রিপ্টো আইনজীবী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬.৩ বিলিয়ন ডলার (চুরি হওয়া অর্থ), ২০ মিনিট (হামলার সময়কাল), ২৯ অক্টোবর (হামলার তারিখ), ২৪০ কোটি ডলার (জব্দ হওয়া অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!