📅 ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকারেন্সি: কীভাবে লাখ লাখ তরুণ ও ফ্রিল্যান্সার গোপনে লেনদেন করছেন?

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকারেন্সি: কীভাবে লাখ লাখ তরুণ ও ফ্রিল্যান্সার গোপনে লেনদেন করছেন?

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল পর্যায়ে এর ব্যবহার ব্যাপক। ফ্রিল্যান্সিং খাতের বিকাশ ও ব্যাংকিং সিস্টেমের অসুবিধার কারণে লাখ লাখ মানুষ পিটুপি লেনদেনের মাধ্যমে ক্রিপ্টো ব্যবহার করছেন। সরকারের নজরদারি ও আইনি কাঠামোর অভাব এই অপরাধমূলক লেনদেনকে আরো জটিল করেছে

বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দেশের তরুণ ও ফ্রিল্যান্সাররা গোপনে এই ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন করছেন। ক্রিপ্টোকারেন্সির বিকেন্দ্রীভূত প্রকৃতি এবং ব্যাংকিং সিস্টেমের অসুবিধার কারণে লাখ লাখ মানুষ এই পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। প্রযুক্তিবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এই লেনদেনের পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে এবং কেন তা ক্রমাগত বাড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 **ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের পদ্ধতি**: বাংলাদেশে সাধারণত পিয়ার-টু-পিয়ার (পিটুপি) লেনদেনের মাধ্যমে ক্রিপ্টো ব্যবহার করা হয়। ক্রেতারা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মে অর্ডার দেন, বিক্রেতার অ্যাকাউন্ট থেকে ক্রিপ্টো এস্ক্রো ব্যবস্থায় আটকে রাখা হয়। ক্রেতা টাকা পাঠানোর পর বিক্রেতা নিশ্চিত করলে ক্রিপ্টো ক্রেতার ওয়ালেটে চলে যায়।
  • 📌 **ফ্রিল্যান্সিং খাতের ভূমিকা**: ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে মার্কিন ডলারের সমমূল্যের ইউএসডিটি পেমেন্ট গ্রহণ করেন। পেমেন্ট পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে স্থানীয় টাকা তুলে নেওয়া যায়।
  • 📌 **হুন্ডি নেটওয়ার্কের সংযোগ**: কিছু ক্ষেত্রে ক্রিপ্টো স্থানান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরিত হয়। হুন্ডি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশে দেওয়া টাকার বিপরীতে বিদেশে অন্য ব্যক্তি অর্থ পরিশোধ করেন।
  • 📌 **বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা**: বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে ক্রিপ্টোকারেন্সির কোনো সার্বভৌম নিশ্চয়তা নেই বলে জানিয়েছে। এটি মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • 📌 **আইনগত কাঠামোর অভাব**: ভারত ক্রিপ্টো লেনদেনের ওপর ৩০ শতাংশ কর আরোপ করে নিয়ন্ত্রণ করেছে। বাংলাদেশে এটি পুরোপুরি অনানুষ্ঠানিক থেকে যাচ্ছে। সরকার এটিকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনলে প্রতিবছর শতকোটি টাকার রাজস্ব আয় করা সম্ভব হতো।

📰 বিস্তারিত

ক্রিপ্টোকারেন্সি মূলত ব্লকচেইন নামের একটি বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কে লেনদেন করা হয়। এখানে কোনো একক প্রতিষ্ঠান প্রতিটি লেনদেন অনুমোদন করে না। একজন ব্যবহারকারীর ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে অন্য ওয়ালেটে ক্রিপ্টো পাঠানো হয়। নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো সেই লেনদেন যাচাই করে ব্লকচেইনে যুক্ত করে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিপ্টো ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ অন্যতম।

নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব আমস্টারডামের গবেষক মোহাম্মদ সুমন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেছেন, ক্রিপ্টো ব্যবহারকারীরা মূলত এক্সচেঞ্জের পিটুপি প্ল্যাটফর্মে গিয়ে ইউএসডিটি বা অন্য কোনো ক্রিপ্টো কেনার অর্ডার দেন। বিক্রেতার অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রিপ্টো এস্ক্রো ব্যবস্থায় আটকে রাখা হয়। ক্রেতা মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিক্রেতাকে টাকা পাঠান। বিক্রেতা টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে এস্ক্রো থেকে ক্রিপ্টো ক্রেতার ওয়ালেটে চলে যায়।

ফ্রিল্যান্সিং খাতের বিকাশ এবং প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলের অসুবিধার কারণে ফ্রিল্যান্সাররা ক্রিপ্টোকে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তারা কাজের জন্য আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে মার্কিন ডলারের সমমূল্যের ইউএসডিটি পেমেন্ট গ্রহণ করেন। পেমেন্ট পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পিটুপি বিক্রেতাদের মাধ্যমে স্থানীয় টাকা সরাসরি তুলে নেওয়া যায়। এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে ক্রিপ্টো স্থানান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরিত হয়। হুন্ডি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশে দেওয়া টাকার বিপরীতে বিদেশে অন্য ব্যক্তি বা এজেন্ট অর্থ পরিশোধ করেন। ক্রিপ্টো স্থানান্তরের মাধ্যমে দুই পক্ষের হিসাব সমন্বয় করা হয়।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, পেশাদার ট্রেডিং ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ের তরুণদের একটি বড় অংশ ক্রিপ্টো অর্জনে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। টেলিগ্রাম ও ডিসকর্ডে হাজার হাজার বাংলাদেশি সদস্য নিয়ে একাধিক গোপন বা উন্মুক্ত গ্রুপ পরিচালিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন গেম, ক্রিপ্টো প্রজেক্টের প্রচার এবং ডেটা টেস্টে অংশ নিয়ে তরুণেরা বিনা মূল্যে টোকেন পেয়ে থাকেন। পরবর্তী সময় এগুলো আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জে বিক্রি করে পিটুপির মাধ্যমে টাকায় রূপান্তর করা হয়।

"শুধু নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ক্রিপ্টো লেনদেন থামানো সম্ভব হচ্ছে না। ভারত যেখানে ক্রিপ্টো লেনদেনের ওপর ৩০ শতাংশ কর আরোপ করে এটি নজরদারির আওতায় এনেছে। বাংলাদেশে এটি পুরোপুরি অনানুষ্ঠানিক থেকে যাচ্ছে। সরকার এটিকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনলে প্রতিবছর শতকোটি টাকার রাজস্ব আয় করা সম্ভব হতো।"

মোহাম্মদ সুমন মোল্লা আরও বলেছেন, ক্রিপ্টোর নেটওয়ার্ক কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকার এক্সচেঞ্জ বন্ধ করতে, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠানো সীমিত করতে এবং সন্দেহজনক হিসাব নজরদারিতে রাখতে পারে। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডস
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ সুমন মোল্লা, মোস্তাফিজুর রহমান
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ শতাংশ

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖