📌 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক জোসেফ ওয়াইজেনবম তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানবতার জন্য প্রযুক্তির বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এলিজা চ্যাটবট তৈরির পর তাঁর নিজের সচিব পর্যন্ত যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন
মানবতার প্রতি প্রযুক্তির বিপদ সম্পর্কে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সতর্ক করেছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জনক জোসেফ ওয়াইজেনবম। তাঁর তৈরি প্রথম চ্যাটবট ‘এলিজা’ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হওয়ার পর তিনি প্রযুক্তির নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এমআইটির অধ্যাপক জোসেফ ওয়াইজেনবম ১৯৬০-এর দশকে বিশ্বের প্রথম চ্যাটবট ‘এলিজা’ তৈরি করেন
- 📌 ওয়াইজেনবমের নিজস্ব সচিব এলিজার সঙ্গে কথা বলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন
- 📌 ‘এলিজা ইফেক্ট’ নামে পরিচিত এই ঘটনা মানুষের যন্ত্রের প্রতি অত্যধিক নির্ভরতার বিপদ তুলে ধরে
- 📌 ওয়াইজেনবম তাঁর বিখ্যাত বই ‘কম্পিউটার পাওয়ার অ্যান্ড হিউম্যান রিজন’-এ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন
- 📌 তিনি সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন
- 📌 ওয়াইজেনবম ভিয়েতনাম যুদ্ধের তীব্র বিরোধী ছিলেন
- 📌 তাঁর মেয়ে মিরাম বলেন, মানুষ এখন কোড ও সংখ্যার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে
📰 বিস্তারিত
১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এমআইটির অধ্যাপক জোসেফ ওয়াইজেনবম বিশ্বের প্রথম চ্যাটবট ‘এলিজা’ তৈরি করেন। এলিজার কাজ ছিল সাইকোথেরাপিস্টের মতো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। এটি কিছু নির্দিষ্ট মূল শব্দ ধরে ব্যবহারকারীকে ফিরতি প্রশ্ন করত। ওয়াইজেনবম ভেবেছিলেন, এটি শুধু প্রযুক্তির একটি সাধারণ নিদর্শন। তবে তাঁর নিজস্ব সচিব এলিজার সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলার সময় তাঁকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। ওয়াইজেনবম দেখেন, সামান্য একটি কোড মানুষের মনে তীব্র বিভ্রম তৈরি করতে পারে। মানুষ সহজেই যন্ত্রের মধ্যে মানবীয় গুণ খুঁজে পায়। এই ঘটনা ইতিহাসে ‘এলিজা ইফেক্ট’ নামে পরিচিতি পায়।
এই অভিজ্ঞতার পর ওয়াইজেনবম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের প্রযুক্তি ব্যবহারও সাধারণ মানুষের মনে শক্তিশালী বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাঁর সহকর্মী জন ম্যাকার্থি ও মারভিন মিনস্কির মতো বিজ্ঞানীরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, ওয়াইজেনবম তখন এর নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
ওয়াইজেনবম ১৯৭৬ সালে তাঁর বিখ্যাত বই ‘কম্পিউটার পাওয়ার অ্যান্ড হিউম্যান রিজন’ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করতেন, মানুষের সিদ্ধান্ত ও বিবেচনার বিকল্প কখনোই প্রযুক্তি হতে পারে না। সামরিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে মারাত্মক আপত্তি ছিল এই বিজ্ঞানীর। ওয়াইজেনবম ভিয়েতনাম যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কম্পিউটারচালিত কর্মকর্তারা বোমার স্থান নির্ধারণ করছেন, অথচ তাঁরা যন্ত্রের ভেতরের কাজ সম্পর্কে কিছুই বোঝেন না। তিনি নজরদারির কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।
বর্তমান যুগে চ্যাটজিপিটির মতো আধুনিক চ্যাটবট কয়েক শত কোটি তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর দেয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হার্বার্ট লিনের মতে, এলিজার সঙ্গে বর্তমান চ্যাটবটের তুলনা করা রাইট ব্রাদার্সের উড়োজাহাজের সঙ্গে বিশাল বোয়িং ৭৪৭ মডেলের তুলনা করার মতো।
"আমরা এমন এক জটিল পৃথিবী তৈরি করেছি, যার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। জটিল প্রোগ্রামের নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাত থেকে চলে যাচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: এমআইটি, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জোসেফ ওয়াইজেনবম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪৭ (বোয়িং মডেল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!