📌 মেটলাইফের সর্বশেষ গবেষণা জানায়, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ৫৫% কর্মী এআই ব্যবহার করছেন এবং এর ৯১% ইতিবাচক প্রভাব অনুভব করছেন। কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে এআই টুলসের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য একটি অপরিহার্য সহায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেটলাইফ বাংলাদেশের সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’ প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে দেশের বেসরকারি খাতের প্রায় ৫৫ শতাংশ কর্মী এআই ব্যবহার করছেন। এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী কর্মীদের মধ্যে ৯১ শতাংশই এআই-এর ইতিবাচক প্রভাব অনুভব করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৫ শতাংশ বেসরকারি কর্মী এআই ব্যবহার করছেন, যার মধ্যে ৯১ শতাংশ ইতিবাচক প্রভাব অনুভব করছেন
- 📌 ৫৪ শতাংশ কর্মী মনে করেন এআই তাদের কাজের মানসিক চাপ কমিয়ে দিচ্ছে
- 📌 ৪৮ শতাংশ কর্মী এআই-এর মাধ্যমে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ছে
- 📌 ৪৬ শতাংশ কর্মী এআই-এর কারণে অতিরিক্ত কাজের বোঝা থেকে মুক্ত পাচ্ছেন
- 📌 ৩৪ শতাংশ কর্মী এআই তাদের মানসিক ক্লান্তি কমিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে
- 📌 ৮৪ শতাংশ কর্মী এআই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলেও মাত্র ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মীদের এআই ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে
- 📌 ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আগামী ১-৫ বছরে এআই টুলস গ্রহণের পরিকল্পনা করছে
- 📌 ২০২৬ সালে কর্মসন্তুষ্টির হার ৮৩ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়েছে
- 📌 ৭৩ শতাংশ কর্মী জীবনবিমা চায়, কিন্তু মাত্র ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এর সুবিধা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’ গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বেসরকারি খাতের কর্মীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের হার ৫৫ শতাংশ। এই গবেষণায় ৭০৯ জন কর্মী ও নিয়োগকর্তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৮৩ জন পূর্ণকালীন কর্মী এবং ১২৬ জন নিয়োগকর্তা। গবেষণায় অংশ নেওয়া খাতের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, এনজিও, ব্যাংক, দ্রুত বর্ধনশীল ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি), টেলিকম এবং খুচরা বিক্রেতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯১ শতাংশ মনে করেন এআই তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, ৫৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে এআই টুলস তাদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করছে। ৪৮ শতাংশ কর্মী মনে করেন এআই তাদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে। আবার ৪৬ শতাংশ কর্মী মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার তাদের অতিরিক্ত কাজের বোঝা থেকে মুক্ত রাখে। এছাড়া ৪০ শতাংশ কর্মী জানান, এআই তাদের গতানুগতিক কাজের চাপ কমিয়ে আরও বেশি অর্থবহ ও সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কর্মীদের মধ্যে এআই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন ৮৪ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া নিয়োগকর্তাদের মধ্যে মাত্র ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মীদের দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারে উৎসাহ বা সুযোগ দিচ্ছেন। তবে আশার কথা হলো, এই খাতের প্রায় ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই অদূর ভবিষ্যতে এআই টুলস গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
গবেষণায় কর্মীদের সার্বিক কাজের সন্তুষ্টির হার ২০২৬ সালে ৮৩ শতাংশ হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়েছে। এছাড়া, কর্মীরা চান ‘কেয়ার কালচার’ বা সহানুভূতিশীল সংস্কৃতি। যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা মনে করেন তাদের প্রতি নিয়োগকর্তা বা ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকদের সহানুভূতি ও যত্ন রয়েছে, সেখানে চাকরির সন্তুষ্টির হার অনেক বেশি। এই সন্তুষ্টির হার ৯২ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
"করোনার সময় থেকে স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ও সচেতনতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিডনি রোগী, হৃদ্রোগ, ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ উদ্বেগে রয়েছেন। এসব রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। এ জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাশা করেন।"
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কর্মীরা জীবনবিমা, মৃত্যুর বিমা, অক্ষমতা ও গুরুতর অসুস্থতার মতো সুরক্ষাগুলোকে অত্যন্ত জরুরি মনে করলেও নিয়োগকর্তারা বাস্তবে যা প্রদান করেন, তার মধ্যে একটি বড় ব্যবধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৭৩ শতাংশ কর্মী জীবনবিমা অত্যন্ত জরুরি মনে করলেও মাত্র ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এর বাস্তব প্রয়োগ রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (রাজধানী: মতিঝিল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নওফেল আনোয়ার (মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট), সাইফুর রহমান (হেড অব কমিউনিকেশনস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫% (এআই ব্যবহারকারী কর্মী), ৯১% (ইতিবাচক প্রভাব অনুভবকারী), ৭০৯ জন (জরিপে অংশগ্রহণকারী), ৮৩% (২০২৬ সালের কর্মসন্তুষ্টির হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!