📌 রাজশাহীর শিরোইল কলোনি, যা বক্সিংপাড়া নামে পরিচিত, বাংলাদেশের বক্সিংয়ের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এখান থেকে ৩০ জনের বেশি বক্সার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দলের হয়ে খেলছেন। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে সেলিম হোসেন ও উৎসব আহমেদের মতো বক্সাররা ঘাম ঝরাচ্ছেন, কিন্তু স্থায়ী বক্সিং রিং না থাকায় তাদের প্রশিক্ষণে বাধা পড়ছে
রাজশাহীর শিরোইল কলোনি, যা স্থানীয়ভাবে ‘বক্সিংপাড়া’ নামে পরিচিত, বাংলাদেশের বক্সিং ইতিহাসে একটি অনন্য স্থান দখল করেছে। এই সাধারণ আবাসিক এলাকায় বর্তমানে পাঁচটি বক্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে ৩০ জনের বেশি বক্সার জাতীয় ও সার্ভিসেস দলের হয়ে প্রতিযোগিতা করছেন। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে সেলিম হোসেন ও উৎসব আহমেদের মতো বক্সাররা ঘাম ঝরাচ্ছেন, কিন্তু স্থায়ী বক্সিং রিং না থাকায় তাদের প্রশিক্ষণে বাধা পড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শিরোইল কলোনি থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের বক্সিংয়ের ৩০ জনের বেশি বক্সার, যার মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশ আনসার বক্সিং দলের সদস্য
- 📌 সেলিম হোসেন ও উৎসব আহমেদ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করবেন ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায়
- 📌 ১৯৮৬ সালে রাজশাহীর মোশাররফ হোসেনের সাফল্য এই এলাকার বক্সিং সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছিল, যার ফলে বর্তমানে এখানে পাঁচটি বক্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে
- 📌 মোশাররফ হোসেন ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে ৮১ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন, যা বাংলাদেশের বক্সিং ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তিগত পদক
- 📌 সেলিম হোসেন ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন এবং ২০২২ এশিয়ান গেমসে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন
- 📌 উৎসব আহমেদ ২০২৩ সালে ভুটানে চার জাতির আন্তর্জাতিক বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিলেন এবং এবার প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করছেন
- 📌 শিরোইল কলোনিতে এখনও পর্যন্ত স্থায়ী বক্সিং রিং গড়ে ওঠেনি, বক্সারদের প্রশিক্ষণে অস্থায়ী রিং ব্যবহার করতে হয়
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর শিরোইল কলোনির বক্সিং সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। সেই বছর সিউল এশিয়ান গেমসে ৮১ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন মোশাররফ হোসেন। তার সাফল্য শিরোইলের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মোশাররফের বাড়ি শিরোইলের পাশেই তালাইমারীতে অবস্থিত। সেই সাফল্যের গল্প শুনে ছোটদের মনে জন্মেছিল একটি বিশ্বাস—‘তিনি পারলে আমরাও পারব’। সেই বিশ্বাসই বর্তমানে শিরোইলকে বাংলাদেশের বক্সিংয়ের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
বর্তমানে শিরোইলে পাঁচটি বক্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে এসেছে ৩০ জনের বেশি বক্সার, যারা জাতীয় ও সার্ভিসেস দলের হয়ে প্রতিযোগিতা করছেন। তাদের মধ্যে শুধু বাংলাদেশ আনসার বক্সিং দলেই ১০ জন বক্সার রয়েছে। সেলিম হোসেন ও উৎসব আহমেদের মতো বক্সাররা এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন। সেলিম হোসেন ২০১৫ সালে জাতীয় ক্যাম্পে সুযোগ পান এবং ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। তিনি ২০২২ এশিয়ান গেমসে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, কিন্তু পদক জেতা থেকে বঞ্চিত হন। এবার তিনি পদক জেতার লক্ষ্যে প্রস্তুত।
উৎসব আহমেদের গল্প অন্যরকম। ছোটবেলায় তিনি বক্সিং ভয় পেতেন, কিন্তু ২০১০ সালের সাফ গেমসে তাঁর মামা জুয়েল আহমেদের সাফল্য তাঁকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। তিনি ২০১৭ সালে জুনিয়র বক্সিং দিয়ে শুরু করেন এবং ২০২৩ সালে ভুটানে চার জাতির আন্তর্জাতিক বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিলেন। এবার তিনি প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করছেন এবং তাঁর লক্ষ্য পদক জেতা।
কিন্তু শিরোইলের বক্সারদের প্রশিক্ষণে একটি বড় সমস্যা রয়েছে—স্থায়ী বক্সিং রিং না থাকা। বর্তমানে তারা অস্থায়ী রিং ব্যবহার করছেন। সেলিম হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের পাড়া থেকে এত খেলোয়াড় বের হয়, অথচ এখনো একটা স্থায়ী রিং পেলাম না।’ এই সমস্যা সত্ত্বেও শিরোইলের বক্সাররা তাদের প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্য লড়াই করছেন।
"গতবার পারিনি। অনেক দূর গিয়েও হেরে গেছি। এবার পদক নিয়েই ফিরতে চাই।"
"লক্ষ্য অবশ্যই পদক জেতা। জানি, এটা সহজ হবে না। তারপরও পদকের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শিরোইল কলোনি, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোশাররফ হোসেন, সেলিম হোসেন, উৎসব আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ জন বক্সার, ১০ জন আনসার বক্সিং দলের সদস্য, ৮১ কেজি ওজন শ্রেণি, ১৯ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!