📌 ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে অভাবনীয় জয় পায় বাংলাদেশ দল। কোচ ফিল সিমন্স জানান, দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ম্যাকাইয়ের ভিন্ন উইকেটেও একই মান ধরে রাখার পরিকল্পনা তাদের
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সামান্য অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্সও। তাঁর উত্তর ছিল সরল ও স্পষ্ট—‘আমি জানি না, ঈশ্বরই ভালো জানেন।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ দলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়
- 📌 ফিল সিমন্সের মুখে উচ্চারিত হয়েছিল, ‘আমরা ভালো খেলেছি, একটি ভালো টেস্ট ম্যাচ জিতেছি।’
- 📌 দলের অনুশীলনের মান ও পরিশ্রমের ধারা অপরিবর্তিত রাখার কারণে কোচের আত্মবিশ্বাস ছিল দলের প্রতি
- 📌 ম্যাকাইয়ের উইকেট ভিন্ন হলেও দলের পরিকল্পনা একই—পাঁচ দিন ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদেহী পেসারদের সুবিধা থাকলেও দলের জয়ী একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম
📰 বিস্তারিত
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন কোচ ফিল সিমন্স। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশ দল কি পাঁচ দিন টেস্ট খেলতে সক্ষম হবে কি না। এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সামান্য অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘আমি তো জানি না। তিনি (ঈশ্বর) হয়তো এসে আমাকে তা বলে দিতে পারেন; কিন্তু আমি তো এখনই তা বলতে পারব না।’
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস যে কতটা উঁচুতে উঠেছে, তা প্রকাশ করেন ফিল সিমন্স। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস তো থাকবেই। আমরা ভালো খেলেছি, একটি ভালো টেস্ট ম্যাচ জিতেছি। তাই আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে আছে।’ ডারউইনের সেই জয়কে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। এমনকি ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে বলে তাঁর আগে থেকেই আত্মবিশ্বাস ছিল বলে জানান সিমন্স।
ম্যাকাইয়ে অনুশীলন শেষের সংবাদ সম্মেলনে ফিল সিমন্স দলের অনুশীলনের মান ও পরিশ্রমের ধারা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি দলের অনুশীলনগুলো দেখেছি। তিন দিনের ম্যাচের আগে আমরা কীভাবে অনুশীলন করেছি, তা দেখেছি। টেস্ট ম্যাচের আগের তিন দিন কীভাবে অনুশীলন করেছি, সেটাও দেখেছি। আমাদের কাজের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এমনকি আমরা ৫৪ রানে অলআউটের পরও কাজের ধরন বদলাইনি, পরিশ্রমের মাত্রাও কমেনি।’ তাঁর মতে, এতেই দলের প্রতি তাঁর আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল।
ফিল সিমন্স তাঁর খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেন, অস্ট্রেলিয়া আরও কঠিনভাবে ফিরে আসবে। তাই দলকে হয় নিজেদের পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখতে হবে, নয়তো আরও একটু ভালো করতে হবে। তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা যদি মাত্র ১ শতাংশও উন্নতি করতে পারি, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।’ অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদেহী পেসারদের সুবিধা থাকলেও দলের জয়ী একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত জয়ী একাদশে পরিবর্তন করতে খুব একটা পছন্দ করি না।’
ম্যাকাইয়ের উইকেট ভিন্ন হলেও দলের পরিকল্পনা একই বলে জানান ফিল সিমন্স। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা হলো ব্যাটিং করা। টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের খেলা। দল যদি ওই পাঁচ দিনের মধ্যে অন্তত ১১ ঘণ্টা ব্যাট করতে পারে, তাহলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারবে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’ অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বলেছিলেন, তিনি চান ভালো ক্রিকেট খেলতে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের প্রত্যাশা ছিল ‘সম্মান অর্জন।’ বাংলাদেশ দল ইতিমধ্যেই সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে বলে জানান সিমন্স। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও কিছুটা সম্মান অর্জন করেছি। আমি বলব না যে আমাদের আগে কোনো সম্মান ছিল না। আমাদের সম্মান ছিল। তবে বিদেশের মাটিতে ভালো খেলে আমরা আরও কিছুটা সম্মান অর্জন করছি।’
‘আমি তো জানি না। তিনি (ঈশ্বর) হয়তো এসে আমাকে তা বলে দিতে পারেন; কিন্তু আমি তো এখনই তা বলতে পারব না।’ — ফিল সিমন্স
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ডারউইন, অস্ট্রেলিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিল সিমন্স
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ উইকেট, ৫৪ রান, ১ শতাংশ, ১১ ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!