📌 কক্সবাজারের দু'জন সার্ফার ফাতেমা আক্তার (১৬) ও মো. মান্নান (২২) কটূক্তি ও অর্থনৈতিক বাধার মধ্যেও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। ফাতেমা পরিবারের একমাত্র মেয়ে হিসেবে সার্ফিংয়ে অগ্রসর হলেও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। মান্নান দিনে সার্ফিং অনুশীলন করে রাতে ঝিনুকের মালা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন
কক্সবাজারের দু’জন সার্ফার ফাতেমা আক্তার (১৬) ও মো. মান্নান (২২) কটূক্তি, অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ফাতেমা আক্তার (১৬)** কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে সার্ফিংয়ে অগ্রসর হলেও সামাজিক কটূক্তির শিকার হন। একবার সাত দিন সার্ফিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল পরিবারের সম্মতির অভাবে।
- 📌 **মো. মান্নান (২২)** শৈশবে মায়ের মৃত্যুর পর বাবার একাকী সংসার চালানোর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দিনে সার্ফিং অনুশীলন করে রাতে ঝিনুকের মালা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
- 📌 **দুজনেরই স্বপ্ন পূরণের পথে** ছিল অসহায়তা, বাজেটের অভাব ও প্রশিক্ষণের অভাবে। তবে কক্সবাজারের সৈকতের অনুশীলন ও কোচ রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে তারা এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
- 📌 **কক্সবাজারের ঢেউয়ের সাথে জাপানের শক্তিশালী ঢেউয়ের পার্থক্য** মোকাবেলায় তারা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অভ্যস্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন।
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে ভোরের সূর্য উঠার সাথে সাথে ফাতেমা আক্তার ও মো. মান্নান সার্ফিং অনুশীলনে মেতে ওঠেন। ফাতেমা কক্সবাজার শহরের ঘোনাপাড়ায় বসবাসকারী দশম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি পরিবারের তিন বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। পরিবারের বোনেরা আগেই বিয়ে হয়ে গেছে, কিন্তু ফাতেমা সার্ফিংয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করছেন।
ফাতেমা জানান, “আমি যখন সার্ফিং করতে আসতাম, তখন অনেক কটূক্তি শুনতাম। মানুষ আমাকে খারাপ চোখে দেখত। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও বলত, ‘মেয়ের বিয়ে হবে না’। একবার এমন কটূক্তির কারণে সাত দিন সার্ফিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কিন্তু কোচ রাশেদ আলম ও আমার মা আমাকে বোঝাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আমার মা আমার পক্ষে দাঁড়ালেন। এখন আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি।”
মো. মান্নান অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাহার ছড়ায় বাস করেন। তিনি চতুর্থ শ্রেণি পড়েন। শৈশবে মায়ের মৃত্যুর পর বাবা ভাঙারির জিনিসপত্র বিক্রি করে সংসার চালানোর দায়িত্ব তার কাঁধে চেপে পড়ে। দিনে সার্ফিং অনুশীলন করার পর রাতে সৈকতে ঝিনুকের মালা বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। মান্নান বলেন, “অনেক বাধা ছিল, এখনো আছে। কিন্তু সার্ফিংকে আঁকড়ে ধরে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি, যা আমার জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূরণ।”
সার্ফারদের কোচ ও সাবেক সার্ফার রাশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, “ফাতেমা ও মান্নান সীমাবদ্ধতার পাহাড় ডিঙিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রতিভা ও লড়াই দেখে আমি আশাবাদী। কক্সবাজারের সৈকতে যে ঘাম ঝরাচ্ছেন, তার ফলাফল জাপানের মাটিতে দেখা যাক।”
"সীমাবদ্ধতার পাহাড় ডিঙিয়েও মান্নান-ফাতেমা বিশ্বমঞ্চে চমক দেখাতে পারবেন। তাদের সেই প্রতিভা আছে।"
কক্সবাজারের সৈকত প্রাকৃতিকভাবে সার্ফিংয়ের জন্য উপযুক্ত হলেও, জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের ঢেউয়ের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। সার্ফাররা জানান, কক্সবাজারের ঢেউ তাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে, কিন্তু জাপানের শক্তিশালী ও টেকনিক্যাল ঢেউয়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত (লাবণী পয়েন্ট), জাপানের আইচি-নাগোয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাতেমা আক্তার (১৬), মো. মান্নান (২২), রাশেদ আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ (ফাতেমার বয়স), ২২ (মান্নানের বয়স), ১৯ (সেপ্টেম্বর), ৪ (অক্টোবর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!