📌 যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন করছে, যার মধ্যে ৪০ হাজার ২০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় একক অস্ত্র সরবরাহ হবে। তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে ৪০ হাজার ২০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন করদাতাদের এই বড় খরচ বহন করতে হবে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় একক মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ ইসরায়েলের জন্য প্রস্তুত করছে যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে ৪০ হাজার ২০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা রয়েছে।
- 📌 এমকে–৮৪ এবং বিএলইউ–১১৭ বোমাসহ ২০ হাজার আই–২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- 📌 ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি প্রস্তুত করেছে, যা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে আরও জটিল করবে।
- 📌 মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘সব বিদেশি অস্ত্র বিক্রি যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে’।
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, এই অস্ত্র প্যাকেজে ২০০০ পাউন্ড ওজনের মোট ৪০ হাজার বোমা রয়েছে। এতে এমকে–৮৪ এবং বিএলইউ–১১৭ বোমাসহ ২০ হাজার আই–২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বোমাগুলো পশ্চিমা অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক গোলাবারুদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এমকে–৮৪ বোমা বিস্ফোরণের সময় শ্র্যাপনেল বা ধাতব টুকরো আঘাতের স্থান থেকে কয়েকশ মিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারে এবং ধাতু ও পুরু কংক্রিট ভেদ করতে সক্ষম।
অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের কমিটিগুলোকে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, কারণ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ইতোমধ্যে দুই দেশের সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘সব বিদেশি অস্ত্র বিক্রি যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। আমরা চলমান অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মন্তব্য করি না’। তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা জোরালো। সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন যা করছে, তার কোনো নজির নেই। ইসরায়েল সরকার কোনো যুদ্ধ করছে না, বরং গাজায় নিরস্ত্র বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে নিয়োজিত।’
মার্কিন সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড এই অস্ত্র চুক্তিকে ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন ধনকুবের মিরিয়াম অ্যাডেলসনের প্রতি ট্রাম্পের ‘ঋণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ট্রাম্পের ইসরায়েলের প্রতি অবিচল আনুগত্য তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণে চিরস্থায়ী এবং সীমাহীন ঋণের প্রতিফলন।’
এই অস্ত্র প্যাকেজের আগে ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের করা ২.০৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তিও ছিল, যা কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে অনুমোদন করা হয়েছিল। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল শত শতবার ২০০০ পাউন্ডের বোমা ব্যবহার করেছে, যার ফলে বেসামরিক মানুষের ওপর ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কার্যকলাপকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
"ট্রাম্প প্রশাসন যা করছে, তার কোনো নজির নেই। ইসরায়েল সরকার কোনো যুদ্ধ করছে না, বরং গাজায় নিরস্ত্র বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে নিয়োজিত।"
"আপনি যদি ভাবেন, মিরিয়াম অ্যাডেলসন এবং তার ইসরায়েলি চক্রের কাছে ট্রাম্পের ঋণ কখনো পরিশোধ হবে কি না, তাহলে উত্তর হলো: কখনোই না। এই ঋণ চিরস্থায়ী এবং সীমাহীন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, টাকার কার্লসন, গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২.৮ বিলিয়ন ডলার, ৪০ হাজার বোমা, ২০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা, ২০ হাজার আই–২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!