📌 জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, বিদেশি কোচের পরিবর্তে দেশি কোচদের অধীনে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সেরা ফলাফল দেখাচ্ছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও দেশি কোচদের সাফল্য আশা প্রকাশ করেছেন
জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বিদেশি কোচের পরিবর্তে দেশি কোচদের অধীনে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশি কোচদের অধীনে ক্রিকেটাররা নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনা প্রকাশ করতে পারছে এবং বিদেশি কোচের প্রয়োজন নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দেশি কোচের পক্ষে**: খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ক্রিকেটাররা দেশি কোচদের অধীনে ভালো করছে এবং বিদেশি কোচের প্রয়োজন নেই।
- 📌 **দেশি কোচদের সাফল্য**: তিনি উল্লেখ করেছেন, আশরাফুল, তালহা সালাউদ্দিন, সোহেল বাবুল এবং সালাউদ্দিনের মতো ক্রিকেটারদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে দেশি কোচদের অধীনে।
- 📌 **দীর্ঘমেয়াদী পদ**: সুজন বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে কোচ থাকলে ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণে স্থিতিশীলতা আসবে। বিদেশি কোচরা সাধারণত ট্যুরভিত্তিক আসে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদে থাকার সম্ভাবনা কম।
- 📌 **ভাষাগত সুবিধা**: তিনি বলেছেন, ক্রিকেটের ভাষা একই হলেও দেশি কোচরা ক্রিকেটারদের ভাষাগত সমস্যা সমাধান করতে পারে।
- 📌 **দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আশা**: তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দেশি কোচদের সাফল্য আশা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশের সেরা সাফল্য দক্ষিণ আফ্রিকাতেই আসে।
📰 বিস্তারিত
খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ‘এটাই হওয়া উচিৎ আসলে। অনেকের লেভেল থ্রি শেষ করা। এই সুযোগ আরও আগেই দেওয়া উচিৎ ছিল। বাংলাদেশ দলে এখন আশরাফুল, তালহা, সালাউদ্দিন, সোহেল, বাবুল ভাই অনেককেই দেখতে পাচ্ছি, খুবই খুশি। এইচপি দলে সালাউদ্দিন দায়িত্ব নিচ্ছে। জুনিয়র লেভেলের জন্য এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেছেন, ক্রিকেট রকেট সায়েন্স না যে অস্ট্রেলিয়ানরা ভালো শেখাতে পারবে আর বাংলাদেশিরা পারবে না।
সুজন বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে বড় বড় কোচ হবে যারা বিদেশেও কাজ করবে। বিদেশিদের চাইলে সীমিত সময়ের জন্য পরামর্শক হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। তবে আমি বারবার বলি, ক্রিকেট রকেট সায়েন্স না। পাওয়ার হিটিং কোচ এনে সুফল কতটা দেখেছি সবাই। বিদেশি কোচ যে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে খুব পরিবর্তন করে দিয়েছে, অনেক বড় জায়গায় গিয়েছে- এমন তো না। হ্যাঁ উন্নতি হয়েছে অস্বীকার করব না। ফাস্ট বোলিং কোচদের কথা বলতেই হবে। ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির কথা বলব আলাদা করে। ওর সময়ে দারুণ উন্নতি হয়েছে। তবে স্থানীয় কোচরা এখানেই পিছিয়ে গেছে। ক্রিকেটের ভাষা একটাই। ওরা ইংরেজিতে বলে, আমরা বাংলায় বলি। টেকনিক্যাল বিষয়টা তো আলাদা কিছু না। ইনসুইং বোলার কীভাবে ইনসুইং করবে, গ্রিপ কী হবে সব তো সব দেশে একইভাবে চর্চা হয়। তাই কোচরা পিছিয়ে আছে এটা বিশ্বাস করতে চাই না। বরং জুনিয়র লেভেলে ভাষাগত সমস্যা থাকে, দেশি কোচরা আরও ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে পারে।’
সুজন বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা তো পৃথিবীর বাইরের না। সবার আইডিয়া আছে, কেমন খেলা হবে। বাংলাদেশের সেরা সাফল্য তো দক্ষিণ আফ্রিকাতেই- (অনূর্ধ্ব-১৯) বিশ্বকাপ জয়। দীর্ঘ মেয়াদে পদ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশিরা তো অনেক সময় ট্যুর ভিত্তিক আসে। ট্যুর শেষে ১৫ দিনের ছুটি, কেউ আসে এক মাস পর। ওই সময় ছেলেরা কাকে নিয়ে কাজ করবে? দীর্ঘ মেয়াদে থাকা ভালো। স্থানীয় থাকলে কাজ করতে পারে ট্যুর শেষেও। আমি বিদেশি কোচের বিপক্ষে না। তবে টি-২০ স্পেশালিস্ট বা এমন স্পেশালিস্ট কোচ এসব বানানো কথা। ব্যাটিং একই জিনিস। বেসিক ভালো থাকলে আপনি যেকোনো ফরম্যাটে ভালো করতে পারবেন।’
"আপনি যদি বোলিং কোচ চান, তালহা আছে, সোহেল আছে। সহকারী না করে… সিমন্স ব্যাটিং দেখছে। একজন লাগবে স্পিন, একজন ফাস্ট বোলিং, একজন ফিল্ডিং কোচ। এদেরই সহকারী বলুন। আলাদা করে যদি রাখেন, দুইরকম দায়িত্ব তৈরি হবে। মূল পরিকল্পনা তো কোচ-ক্যাপ্টেনই করবে। সহকারী কোচের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। এখন ব্যাটিংয়ে আশরাফুল আছে। ফাস্ট বোলিংয়ে তালহা। সোহেল তো অনেক অভিজ্ঞ, সব সিনিয়র স্পিনারকে নিয়ে ও কাজ করে। ওরও দলের সাথে থাকা উচিৎ। বিদেশি আনলে ভাবতে হবে, কোথায় আনবেন? তালহা বা আশরাফুল ভালো মনে না হলে আনতে পারেন। তবে দলের প্রয়োজন বুঝতে হবে। কাকে আমার দরকার সেটা বুঝতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খালেদ মাহমুদ সুজন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ দিন (ছুটি), ১৯ (অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!