📌 রংপুরের পালিচড়া গ্রামের মেয়েরা ১৫ বছর ধরে ফুটবলে সাফল্য পাচ্ছে। তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেছে, কিন্তু প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোর অভাব তাদেরকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে
রংপুরের পালিচড়া গ্রামের মেয়েরা ফুটবল খেলায় দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে। এই গ্রাম থেকে বেরিয়ে আসা কিশোরীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করলেও প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোর অভাব তাদেরকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের পালিচড়া গ্রাম থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম যেখানে মেয়েদের ফুটবল সাফল্য দেশজুড়ে আলোচিত
- 📌 ২০২২ সালে সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে পালিচড়ার মেয়েদের অবদান ছিল
- 📌 গ্রামের মেয়েরা ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ প্রতিযোগিতায় ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল
- 📌 গ্রামের মেয়েরা ১০ জন জাতীয় দলের খেলোয়াড় এবং ১২ জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছে
- 📌 স্টেডিয়ামের জন্য সরকারি বরাদ্দ না থাকায় প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোর অভাব রয়েছে
- 📌 রংপুর সদরের ইউএনও লোকমান হোসেন বলেছেন, মেয়ে ফুটবলারদের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
রংপুর শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পালিচড়া গ্রামে মেয়েদের ফুটবল সাফল্য দেশজুড়ে আলোচিত। এই গ্রামের মেয়েরা ১৫ বছর ধরে বয়সভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। তারা ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবেও নিয়মিত ফুটবল খেলে। ২০২২ সালের সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে পালিচড়ার মেয়েদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
২০২২ সালে এই গ্রামের মাঠ থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নির্মাণ করে একটি ছোট্ট স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামে মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে স্টেডিয়াম পরিচালনার জন্য সরকার কোনো বরাদ্দ দেয় না। প্রশিক্ষণে উন্নত সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। স্টেডিয়ামের মাঠও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তার সমস্যা এবং প্রশিক্ষণে আসা কিশোরীদের খাবারের ব্যবস্থাও নেই।
পালিচড়া গ্রামের মেয়েরা ২০১১ সালে জাতীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। প্রথম বছরেই তারা জাতীয় পর্যায়ে রানারআপ হয়। পরের বছর ২০১২ সালে তারা জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল প্রতিযোগিতায় শেষ ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। বিজয়ী দলে পালিচড়ার তিন মেয়ে ফুটবলার ছিলেন।
সাবেক ফুটবলার নিয়ামুল আতিকুর রহমান বলেছেন, পালিচড়ার মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের জন্য স্বীকৃতি এনেছে। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে তারা বহুদূর এগিয়ে যাবে।
বর্তমানে পালিচড়া স্টেডিয়ামে ৫০ জনের থাকার মতো জায়গা রয়েছে, তবে বর্তমানে শুধুমাত্র ২০টি বেড রয়েছে। প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৮ থেকে ২০ বছর বয়সী শতাধিক কিশোরী। তাদের মধ্যে ২৫ জন স্টেডিয়ামের ডরমিটরিতে থেকেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তবে রান্নাঘরের ব্যবস্থা নেই।
"বর্তমানে এই মাঠের অন্তত ১৫ জন খেলোয়াড় ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। এর মধ্যে আর্মি স্পোর্টস ক্লাবে খেলছেন জয়নব বিবি, সুলতানা আক্তার, বৃষ্টি আখতার, নাসরিন বেগম ও কাকলি সরেন। আইএম ১০ এফসি ক্লাবে খেলছেন শীলা আক্তার এবং ঢাকা ওয়ারিয়র্সে ইন্নিমা খানম ও হৈমন্তী শুক্লা খালকো।" — প্রশিক্ষক মিলন মিয়া
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পালিচড়া গ্রাম, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেয়েরা, প্রশিক্ষক মিলন মিয়া, সাবেক ফুটবলার নিয়ামুল আতিকুর রহমান, ইউএনও লোকমান হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ কিলোমিটার, ১৫ বছর, ১০ জন জাতীয় দলের খেলোয়াড়, ১২ জন সেনাবাহিনীতে চাকরি, ৪-০ গোল, ২০টি বেড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!