📌 ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ কেভিন কিগান ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। দুইবার ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী এই মহানায়ক ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে থাকবেন তাঁর আবেগঘন মুহূর্ত ‘আই উড লাভ ইট!’-এর জন্য
ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি কেভিন কিগান আর নেই। গত ২০ জুলাই ৭৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিদায়ে ইংলিশ ফুটবলের এক বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। কিগান ছিলেন একাধারে বিশ্বসেরা ফুটবলার, অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক ও স্বপ্নবান কোচ। তবে তাঁর অসাধারণ কৃতিত্বের চেয়ে মানুষের মনে বেশি জায়গা করে নিয়েছে ১৯৯৬ সালের সেই বিখ্যাত টেলিভিশন সাক্ষাৎকার—‘আই উড লাভ ইট!’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ কেভিন কিগান ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন
- 📌 দুইবার ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহানায়ক ছিলেন লিভারপুলের প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ বিজয়ের অন্যতম কারিগর
- 📌 নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কোচ থাকাকালে ‘আই উড লাভ ইট!’ মুহূর্তটি ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে আছে
- 📌 দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা কিগান জীবনের শুরুতে পিতলের কারখানায় কাজ করতেন
- 📌 লিভারপুল ছেড়ে জার্মানির হামবুর্গে যোগ দিয়ে জিতেছিলেন বুন্দেসলিগা শিরোপা
📰 বিস্তারিত
কেভিন কিগান ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যাঁর নাম শুধু ট্রফির তালিকায় লেখা থাকেনি; মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের ডনকাস্টারের আর্মথর্পে জন্মগ্রহণ করা কিগানের শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। যুদ্ধফেরত খনিশ্রমিক বাবার সংসারে বিদ্যুৎ ছিল না, গোসল করতে হতো পুরোনো জিংকের টবে। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন মহান হওয়ার।
ফুটবল জীবনের শুরুটা ছিল মোটেও সহজ নয়। ডনকাস্টার রোভার্স তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পিতলের কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। স্থানীয় একটি পাব দলের হয়ে খেলার সময় তাঁর ভাগ্য খুলে যায়। স্কানথর্প ইউনাইটেডের এক স্কাউট তাঁর খেলা দেখে ট্রায়ালের সুযোগ করে দেন। সেখান থেকেই তাঁর জীবনে আসেন কিংবদন্তি কোচ বিল শ্যাঙ্কলি। লিভারপুলে নিয়ে গিয়ে শ্যাঙ্কলি তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি শুধু একজন ভালো খেলোয়াড় নও, তুমি হবে মহানদের একজন।’ ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছিল।
লিভারপুলে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন কিগান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনটি লিগ শিরোপা, দুটি উয়েফা কাপ, একটি এফএ কাপ এবং ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয় করেন তিনি। এরপর সবাইকে অবাক করে লিভারপুল ছেড়ে জার্মানির হামবুর্গে যোগ দেন। শুরুটা সহজ ছিল না। সতীর্থদের বিরূপ আচরণ ও মাঠে অবহেলার শিকার হন তিনি। এমনকি এক প্রতিপক্ষকে ঘুষি মেরে আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞাও পেয়েছিলেন। কিন্তু হার মানেননি। এক বছরের মধ্যেই জিতে নেন প্রথম ব্যালন ডি’অর, পরে দ্বিতীয়বারও। হামবুর্গকে এনে দেন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার বুন্দেসলিগা শিরোপা।
খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারের শেষ বড় সিদ্ধান্তও ছিল অপ্রত্যাশিত। সাউদাম্পটন ছেড়ে যোগ দেন দ্বিতীয় বিভাগের নিউক্যাসল ইউনাইটেডে। তাঁর আগমনে ক্লাবের দর্শকসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই দলকে প্রথম বিভাগে তুলে এনে মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই বুটজোড়া তুলে রাখেন। কিন্তু ফুটবল তাঁকে বেশি দিন দূরে থাকতে দেয়নি। ১৯৯২ সালে প্রায় ভেঙে পড়া নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন কোচ হিসেবে। ক্লাব তখন অবনমনের মুখে। কিগান শুধু দলকে বাঁচাননি, কয়েক বছরের মধ্যে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম শক্তিতে পরিণত করেন। অ্যান্ডি কোল, রব লি, পিটার বিয়ার্ডসলি, পরে ডেভিড জিনোলা ও লেস ফার্দিনান্দদের নিয়ে গড়ে ওঠে আক্রমণাত্মক, রোমাঞ্চকর এক দল।
“মানুষ তাঁকে প্রায়ই ‘লাভ ইট’ বলে ডাকত। অটোগ্রাফ চাইতে এসে সেই বিখ্যাত মুহূর্তের ছবিই এগিয়ে দিত।”
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা প্রায় হাতের মুঠোয় ছিল নিউক্যাসলের। জানুয়ারিতে ১২ পয়েন্ট এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে শিরোপা হারাতে হয়। সেই ব্যর্থতার মধ্যেই জন্ম নেয় ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত ‘আই উড লাভ ইট!’ মুহূর্ত। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে শিরোপা লড়াইয়ের উত্তেজনার মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মন্তব্যের জবাবে আবেগভরা প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন কিগান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগ তখনো আসেনি। কিন্তু সেই মুহূর্ত পরিণত হয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ভিডিও ক্লিপগুলোর একটিতে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইংল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেভিন কিগান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ বছর, ১৬ বছর, ৩৩ বছর, ১২ পয়েন্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!