📌 নিউইয়র্কের ইউএস ওপেনে জার্মান টেনিস খেলোয়াড় আলেক্সান্দার জভেরেভ ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতলেন। তার জয়ের পিছনে ছিল তার মায়ের অদম্য সাহস, যিনি ছেলের ডায়াবেটিস রোগের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, 'আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে'
নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে এক অদ্ভুত আবেগের সাথে জিতলেন আলেক্সান্দার জভেরেভ। ২৯ বছর বয়সী জার্মান টেনিস তার ক্যারিয়ারের প্রথম ইউএস ওপেন শিরোপা জিতলেন বেন শেলটনের বিপক্ষে ৬-৩, ৭-৬ (২), ৫-৭, ৬-২ গেমে। কিন্তু এই জয়ের পিছনে ছিল একটি মায়ের অদম্য সাহস, যিনি ছেলের ডায়াবেটিসের লড়াইয়ে তার স্বপ্নকে অক্ষুণ্ণ রাখতে সাহায্য করেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৯ বছর বয়সী জার্মান টেনিস খেলোয়াড় আলেক্সান্দার জভেরেভ** ইউএস ওপেনে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতলেন বেন শেলটনের বিপক্ষে ৬-৩, ৭-৬ (২), ৫-৭, ৬-২ গেমে।
- 📌 **ট্রফি গ্রহণের সময় জভেরেভ তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছিলেন**, "আমি আসলে আরও একজন মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি কখনো আমার ম্যাচ দেখেন না, কিন্তু আমার টেনিস জীবন এবং ব্যক্তিজীবনে তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।"
- 📌 **ছয় বছর আগে এইই স্টেডিয়ামে পঞ্চম সেটের টাইব্রেকে জভেরেভ ডমিনিক থিমের কাছে হেরে গিয়েছিলেন**। এবার সেই আক্ষেপ মুছে দিলেন তিনি।
- 📌 **৪ বছর বয়সে জভেরেভের শরীরে ধরা পড়ে টাইপ-১ ডায়াবেটিস**। মায়ের সাহসেই তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
- 📌 **ম্যাচের সময় জভেরেভের হাতে ছিল একটি বিশেষ ডিভাইস**, যা তার শরীরের শর্করার মাত্রা মাপতো। তিনি বলেছিলেন, ডায়াবেটিস নিয়ে টেনিস খেলা মানে 'একসঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলা' — একটা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, আরেকটা নিজের শরীরের বিপক্ষে।
📰 বিস্তারিত
গ্যালারি তুমুল করতালিতে ভরে ছিল গতকালের ইউএস ওপেন ফাইনাল। আলেক্সান্দার জভেরেভের হাতে ট্রফি পৌঁছালে বাবা জভেরেভ সিনিয়র চোখের জল আটকাতে পারছিলেন না। কিন্তু জভেরেভের জয়ের পিছনে ছিল তার মায়ের অদম্য সাহস। জভেরেভের মা ইরিনা জভেরেভের কথায়, "আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে" — এই কথাটি ছিল জভেরেভের জীবনের একটি মাইলফলক।
৪ বছর বয়সে জভেরেভের শরীরে টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, এই রোগ ভবিষ্যতে তার জীবনযাপন এবং খেলাধুলার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু মা ইরিনা সেটাকে শেষ কথা হিসেবে মেনে নেননি। তিনি প্রতিদিন রাতের পর রাত, দিনের পর দিন ছেলেকে ঘুম থেকে তুলতেন রক্তের শর্করার পরীক্ষা এবং ইনসুলিন দেওয়ার জন্য। ধীরে ধীরে তারা শিখে নিলেন কীভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
ম্যাচ চলাকালীন জভেরেভের হাতে ছিল একটি বিশেষ ডিভাইস, যা তার শরীরের শর্করার মাত্রা মাপতো। তিনি বলেছিলেন, "ডায়াবেটিস নিয়ে টেনিস খেলা মানে একসঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলা — একটা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, আরেকটা নিজের শরীরের বিপক্ষে।" প্রথম দুই সেট জেতার পর বেন শেলটন তৃতীয় সেট জিতে নিয়ে গ্যালারির সমর্থন নিজের দিকে টেনে নিলেন। কিন্তু জভেরেভ চতুর্থ সেটে দ্রুত ব্রেক আদায় করে ৬-২ গেমে জিতলেন এবং সেই রাতের ট্রফি জয়ের সাক্ষী হলেন।
"আমার ছেলে যা হতে চায়, তা–ই হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম, নিউইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেক্সান্দার জভেরেভ (টেনিস খেলোয়াড়), ইরিনা জভেরেভ (মা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ বছর (জভেরেভের বয়স), ৬ বছর আগে (পূর্বের হেরে যাওয়া ম্যাচ), ৪ বছর (ডায়াবেটিস ধরা পড়ার বয়স), ৬-৩, ৭-৬ (২), ৫-৭, ৬-২ (ম্যাচের স্কোর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!