📌 জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সমান মর্যাদার সম্পর্ক চায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া সৎ প্রতিবেশীসুলভ নয় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ চলছে
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সমান মর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। সোমবার ভোলার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বামী-স্ত্রীর নয়, সার্বভৌমত্বের সমান মর্যাদা চায় বাংলাদেশ — স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
- 📌 ভারতে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া সৎ প্রতিবেশীসুলভ নয় — স্পিকার
- 📌 ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে সঠিক মর্যাদা না দেওয়া — স্পিকারের দাবি
- 📌 ১৭ বছরের দুঃশাসনের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে উদ্ধার করতে সংস্কার শুরু — স্পিকার
- 📌 জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ চলছে — স্পিকার
📰 বিস্তারিত
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক ছিল, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন সেটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না। দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সমমর্যাদার ভিত্তিতে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেটাই চাই। বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে চায়।’
স্পিকার উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশেরও কিছু রিজার্ভেশন বা আপত্তি রয়েছে।’
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘বিগত সরকার ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করলেও অন্যপক্ষ থেকে তেমন উৎসাহ দেখা যায়নি। এমনকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি।’
‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ (সকালই দিবসের প্রতিচ্ছবি) দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘গত ১৭ বছরের দুঃশাসনের ফলে দেশের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম-খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তুলতে সময় লাগবে। তবে সংস্কারপর্ব ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আইনকানুনে বড় ধরনের সংস্কার আনতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে স্পিকার বলেন, ‘কিছুটা জটিলতা দেখা যাচ্ছে। সংস্কার কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি একমত হতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। তবে বিএনপি এবং নির্বাচনে বিরোধী দলের আসনে যারা বসছে, তারা সমঝোতায় এলে দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছরের বঞ্চনা ও দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই এই সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দল সংস্কার প্রস্তাবে একমত হলে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব। আইনগতভাবে সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন হলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত ফল দেখতে পাবে।’
স্পিকার সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
"আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না। দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সমমর্যাদার ভিত্তিতে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেটাই চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলা, সার্কিট হাউস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বছর (দুঃশাসন), ১৬-১৭ বছর (বঞ্চনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!