📌 পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে হকির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বাবুল মিয়া। ১৯৭৫ সালে হকি ফেডারেশনে পিয়ন হিসেবে যোগ দিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মাঠের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। খেলোয়াড়দের অনুশীলন থেকে শুরু করে জাতীয় দলের সহায়ক স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হকিই তাঁর জীবন, পরিবার, সবকিছু
ভোরের আলো ফুটতেই তাঁর পা হকির মাঠে। বয়স ৬৫ পেরিয়েছেন তিনি। তবুও অভ্যাস বদলায়নি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে যে টান তাঁকে প্রতিদিন মাঠে নিয়ে আসে, তার নাম হকি। কোনো একদিন হয়তো শরীর আর সায় দেবে না। প্রকৃতির নিয়মে সকাল হবে, খেলোয়াড়েরা টার্ফে আসবেন; শুধু বাবুল মিয়াকে আর দেখা যাবে না পরিচিত সেই জায়গাটিতে। তার আগপর্যন্ত হকিই তাঁর ঠিকানা, হকিই জীবন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে হকি ফেডারেশনে পিয়ন হিসেবে যোগ দেন বাবুল মিয়া
- 📌 ১৯৯০ থেকে প্রায় এক দশক জাতীয় দলের সহায়ক স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন
- 📌 ২০০০ সালে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ডসম্যানের দায়িত্ব পান
- 📌 জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন তাঁকে অভিভাবকের মতো মনে করেন
- 📌 পাঁচ সন্তানকে পড়াশোনা করিয়েছেন হকির মাঠ থেকেই উপার্জিত অর্থে
📰 বিস্তারিত
পুরান ঢাকার জিন্দাবাহারে কেটেছে তাঁর শৈশব। আরমানিটোলা আর ধুপখোলা মাঠে ছিল নিয়মিত যাতায়াত। হাতে তুলে নিয়েছিলেন হকির স্টিক। টুকটাক খেলেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন বড় খেলোয়াড় হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে তাঁর জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে হকি। ১৯৭৫ সালে ফেডারেশনে পিয়ন হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মাঠের মানুষগুলোর সঙ্গে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক।
১৯৯০ থেকে প্রায় এক দশক তিনি ছিলেন জাতীয় দলের সহায়ক স্টাফ। দলের ক্যাম্প, খেলোয়াড়দের অনুশীলন, ট্যুর, জয়–পরাজয়—কতশত গল্পের সাক্ষী তিনি। ২০০০ সালে তাঁর কাজ ও পদবি পরিবর্তিত হয়। দায়িত্ব পান মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ডসম্যানের। এর পর থেকে স্টেডিয়াম, মাঠ, খেলোয়াড় আর হকির মানুষগুলোই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
একসময় যাঁরা তাঁর সামনে ক্যাম্প করতেন, তাঁদের কেউ আজ কোচ, কেউ কর্মকর্তা। পাঁচ দশকে বদলে গেছে অসংখ্য মুখ, এসেছে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু বাবুল মিয়া থেকে গেছেন একই জায়গায়—হকির মাঠে। তিনি যেন প্রজন্ম বদলের নীরব সাক্ষী।
"আমার কাছে মনে হয়নি, এরা কেউ খেলোয়াড় বা দূরের কেউ। সবাইকে একটা পরিবারের মতোই মনে হয়।"
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন বলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অভিভাবকের মতো। "বাবুল ভাইকে আমরা শুধু মাঠকর্মী হিসেবে দেখি না। তিনি আমাদের পরিবারের একজন। ক্যারিয়ারের প্রথম দিন থেকে মাঠে এসে তাঁকে দেখেছি। কখনো বকা দিয়েছেন, কখনো সাহস দিয়েছেন, আবার প্রয়োজন হলে নিজের মানুষ হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের কাছে তিনি সত্যিকারের হিরো।"
বিকেএসপির কোচ মওদুদুর রহমান বলেন, "আমরা যখন খেলোয়াড় ছিলাম, বাবুল ভাই তখনো মাঠে ছিলেন। আজ আমি কোচ, একইভাবে তিনি মাঠে আছেন। এত বছর ধরে একজন মানুষ কীভাবে একই ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে যেতে পারেন, বাবুল ভাইকে না দেখলে সেটা বোঝা যাবে না।"
এই ভালোবাসার বিনিময়ে বাবুল মিয়া কী পেয়েছেন? বড় কোনো পুরস্কার নয়, পদ–পদবিও নয়। তারপরও এই হকির মাঠেই তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর সংসার। এই কাজ করেই পাঁচ সন্তানকে পড়াশোনা করিয়েছেন, তাঁদের জীবনের পথে দাঁড় করিয়েছেন। পাঁচ দশকের বেশি সময় যে জগতে কেটেছে, সেই জগতের উপার্জনেই চলছে পরিবার।
"ফ্যামিলিকে সরি, আমি কখনো তাদের সেভাবে সময় দিতে পারিনি।"
একদিকে হকির প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অন্যদিকে পরিবারের জন্য সময় না দিতে পারার অপরাধবোধ। তবু শেষ পর্যন্ত হকিই তাঁর কাছে সব। "হকিই আমার সবকিছু। এখানে (হকি স্টেডিয়াম) না আসলে দিনটাই তো কাটে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পুরান ঢাকা, মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাবুল মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১ বছর, ৬৫ বছর, ১৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!