📌 ১৯৩২ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিন ব্র্যাডম্যানকে থামাতে বডিলাইন নামক বিতর্কিত কৌশলের আশ্রয় নেন। শর্ট পিচ বল ও লেগ সাইড ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনকে ভেঙে দেওয়ার এই পরিকল্পনা ক্রিকেট ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে পরিচিতি পায়
ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে পরিচিত ‘বডিলাইন সিরিজ’। ১৯৩২-৩৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড দল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এমন এক কৌশলের আশ্রয় নেয়, যা ক্রিকেটের মৌলিক নিয়ম ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করেছিল। সেই সময় ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং সামর্থ্যের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড দল। ফলে দলনেতা ডগলাস জার্ডিন এমন একটি পরিকল্পনা করেন, যা পরবর্তীকালে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অ্যাশেজ সিরিজের ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ‘বডিলাইন’ নামক বিতর্কিত কৌশল প্রয়োগ করে
- 📌 ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিন ব্র্যাডম্যানকে থামাতে এই পরিকল্পনা করেন
- 📌 ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির বোলার হ্যারল্ড লারউড ছিলেন এই কৌশলের প্রধান অস্ত্র
- 📌 বডিলাইন কৌশলে বারবার শর্ট পিচ বল ও লেগ সাইডে অতিরিক্ত ফিল্ডার রাখা হতো
- 📌 সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বিল উডফুল ও উইকেটকিপার বার্ট ওল্ডফিল্ড গুরুতর আহত হন
- 📌 অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড এমসিসিকে কড়া প্রতিবাদ জানায়, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে
- 📌 ব্র্যাডম্যান সিরিজে ৯৭৪ রান করেন, যা এখনো অ্যাশেজের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড
📰 বিস্তারিত
১৯৩০ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিস্ময় ডন ব্র্যাডম্যান পাঁচ টেস্টে ৯৭৪ রান করেন, যা ছিল ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। তাঁর ব্যাটিং সামর্থ্যের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড দল। ফলে দলনেতা ডগলাস জার্ডিন এমন একটি কৌশলের পরিকল্পনা করেন, যা পরবর্তীকালে ক্রিকেট ইতিহাসে ‘বডিলাইন’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্র্যাডম্যানকে থামানো এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনকে ভেঙে দেওয়া।
ইংল্যান্ড দলের প্রধান অস্ত্র ছিলেন দ্রুতগতির বোলার হ্যারল্ড লারউড। তিনি বারবার ব্যাটসম্যানদের শরীর লক্ষ্য করে শর্ট পিচ বল করতেন। একই সঙ্গে লেগ সাইডে অতিরিক্ত ফিল্ডার রাখা হতো। উদ্দেশ্য ছিল ব্যাটসম্যান আত্মরক্ষার জন্য ব্যাট তুললে বল ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়বে। সেই সময় এই কৌশলকে বলা হতো ‘লেগ থিওরি’, কিন্তু পরে তা ‘বডিলাইন’ নামে পরিচিতি পায়।
১৯৩২ সালের শেষ দিকে শুরু হয় ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া সফর। সিরিজের প্রথম টেস্ট ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত হয়। অসুস্থ থাকায় ব্র্যাডম্যান সেই ম্যাচে অংশ নেননি। ফলে ইংল্যান্ড সহজেই জয় লাভ করে। দ্বিতীয় টেস্টে ব্র্যাডম্যান ফিরে এলেও ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা কাজ করতে শুরু করে। যদিও ব্র্যাডম্যান শতক হাঁকান, তবু অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে বডিলাইন কৌশল।
তৃতীয় টেস্ট অ্যাডিলেডে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে। ইংল্যান্ডের শর্ট পিচ বল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের শরীরে বারবার আঘাত করতে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বিল উডফুলের বুকে বল লাগলে তিনি ব্যথায় কুঁকড়ে যান। উইকেটকিপার বার্ট ওল্ডফিল্ডও গুরুতর আহত হন। যদিও পরে জানা যায় তাঁর আঘাত সরাসরি বডিলাইন ডেলিভারিতে নয়, তবু জনমনে এর প্রভাব ছিল প্রবল। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্রগুলো ‘নট ক্রিকেট!’ শিরোনামে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড ইংল্যান্ডের মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবকে (এমসিসি) কড়া ভাষায় টেলিগ্রাম পাঠিয়ে জানায়, এই কৌশল ক্রিকেটের চেতনার পরিপন্থী এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। পাল্টা জবাবে এমসিসি জানায়, ইংল্যান্ড কোনো নিয়ম ভঙ্গ করেনি। এই চিঠি ও পাল্টা চিঠি দুই দেশের রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই উত্তেজনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারত।
"এটি ছিল ক্রিকেটের নামে অতিরাধিক আগ্রাসন। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে এমন কৌশল গ্রহণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডন ব্র্যাডম্যান, ডগলাস জার্ডিন, হ্যারল্ড লারউড, বিল উডফুল, বার্ট ওল্ডফিল্ড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৭৪ রান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!