📌 কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ইউএনও, এসিল্যান্ড ও থানার ওসির পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিনের শূন্যতায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ইউএনও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য পদেও পদায়নের উদ্যোগ চলছে
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ওসির পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিনের শূন্যতায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম সেবা বঞ্চনার মুখোমুখি হচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাস থেকে থানার ওসির দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক (তদন্ত) পালন করে আসছেন। অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ গত ১৭ মে বদলি হওয়ার পর থেকে ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে গত ২৫ আগস্ট তাঁর মাতৃত্বজনিত ছুটি ও বদলির পর উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউএনও, এসিল্যান্ড ও থানার ওসির পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে
- 📌 উপজেলার ছয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের শূন্যতা এক বছর থেকে নয় বছর পর্যন্ত দীর্ঘ
- 📌 উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে
- 📌 উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ জন চিকিৎসকের বিপরীতে নিয়মিত রোগী দেখছেন মাত্র ৭ জন
- 📌 স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় প্রশাসনিক শূন্যতার কারণে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম সেবা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ওসির পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থানার ওসি গত জুলাই মাসে বদলি হওয়ার পর থেকে একজন পরিদর্শক (তদন্ত) ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ গত ১৭ মে বদলি হন। তাঁর পদে ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও গত ২৫ আগস্ট তাঁর মাতৃত্বজনিত ছুটি ও বদলির পর উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থাও নাজুক। উপজেলার ডিগ্রি কলেজ, সরকারি মডেল হাই স্কুলসহ অন্তত ছয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এই শূন্যতা এক বছর থেকে নয় বছর পর্যন্ত দীর্ঘ। প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমেও রয়েছে বিপর্যয়। উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে। স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা আরও করুণ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ জন চিকিৎসকের বিপরীতে নিয়মিত রোগী দেখছেন মাত্র ৭ জন। ফলে হাওরাঞ্চলের মানুষকে জরুরি চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক ও সেবা প্রদানকারী পদগুলোতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া না হলে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাঁরা জনস্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
"উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া না হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা আরও প্রকট হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিকলী, কিশোরগঞ্জ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ইউএনও রেহেনা মজুমদার, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ মে, ২৫ আগস্ট, ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৯ জন চিকিৎসক, ৭ জন নিয়মিত চিকিৎসক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!