📌 বিশ্ববাজারে এলএনজি সরবরাহ সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চরম সংকট দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। সরকার অব্যবহৃত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে তাৎক্ষণিক সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে তীব্র সংকটের মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কাতার ও রাশিয়া থেকে এলএনজি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলোও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো প্রয়োজনমতো এলএনজি কিনতে পারছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারে এলএনজি সরবরাহে ব্যাঘাতকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা
- 📌 সরকার অব্যবহৃত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ৬০ শতাংশ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরামর্শ দিয়েছেন
- 📌 তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করলে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও করভার কমানোর মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব
- 📌 দেশীয় কয়লা উত্তোলন ও গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধির পাশাপাশি ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
- 📌 আগামী নভেম্বর থেকে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে বলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটে পুরো অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রতি ডলার ব্যয়ের বিপরীতে অর্থনীতিতে ৩০ ডলারের সমপরিমাণ মূল্য যোগ হয়। তাই সরকারকে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অব্যবহৃত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ৬০ শতাংশ সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কিছু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা যেতে পারে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হবে, যা শিল্পখাতে সরবরাহ করা যাবে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বর্তমানে এলএনজির ওপর করভার মাত্র ২ শতাংশ হলেও ফার্নেস তেলের ওপর তা ৩০ শতাংশের বেশি। করভার কমিয়ে দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় হ্রাস পাবে।
আগামী নভেম্বর থেকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও হ্রাস পাবে। ফলে সরকারকে মূলত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে মানুষ ও শিল্পখাতকে স্বস্তি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্য মেয়াদে দেশীয় কয়লা উত্তোলন ও গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ টিসিএফ, যা সাত বছরের মতো চলতে পারে। তবে কয়লার মজুত আরও বেশি হওয়ায় তা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
"জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। দেশের সম্পদ মাটির নিচে রেখে দিয়ে লাভ কী, যেখানে জ্বালানির কারণে পুরো দেশই সংকটে পড়ে যাচ্ছে।"
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধির পাশাপাশি ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছোট ক্ষমতার এসব কেন্দ্র বিভিন্ন অঞ্চলে স্থাপন করা গেলে স্থানীয় চাহিদা মেটানো সহজ হবে। সৌরবিদ্যুৎকে প্রচলিত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে না দেখে সহায়ক উৎস হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কে এম রেজাউল হাসনাত (বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ শতাংশ, ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ৩০ কোটি ঘনফুট, ৭ টিসিএফ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!