📌 বাংলাদেশের পার্থ সাহা আল্পস পর্বতমালা দিয়ে ১৭০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করে ফ্রান্স, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডের পাঁচটি চেকপয়েন্ট পার করলেন। দৌড়ের শেষ পর্যায়ে ক্লান্তি ও অসুস্থতার মুখোমুখি হলেও তিনি সময়সীমা ছয় মিনিট আগে চেকপয়েন্টে পৌঁছালেন
বিশ্বের অন্যতম কঠিন আলট্রাম্যারাথন চ্যালেঞ্জে সফলতা অর্জন করেছেন বাংলাদেশের পার্থ সাহা। আল্পস পর্বতমালা দিয়ে ১৭০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করে তিনি ফ্রান্স, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডের পাঁচটি চেকপয়েন্ট পার করে বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ ইউটিএমবি (Ultra-Trail du Mont Blanc) দৌড়ের শিরোপা জিতেছেন। দৌড়ের শেষ পর্যায়ে ক্লান্তি ও অসুস্থতার মুখোমুখি হলেও তিনি সময়সীমা ছয় মিনিট আগে চেকপয়েন্টে পৌঁছান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৭০ কিলোমিটার দৌড়** শেষ করে পার্থ সাহা ইউরোপের তিন দেশের পর্বতমালা দিয়ে দৌড় শেষ করেছেন — ফ্রান্সের শামোনি থেকে শুরু করে ইতালি ও সুইজারল্যান্ডের পাঁচটি চেকপয়েন্ট পার করে শেষ হয়েছে দৌড়।
- 📌 **১৫০ কিলোমিটার দৌড়ের পর** ক্লান্তি ও ঠান্ডা-জ্বরের কারণে পাহাড়ের ধারে বসে পড়েন পার্থ, কিন্তু সংশয় কাটিয়ে তিনি সময়সীমা ছয় মিনিট আগে চেকপয়েন্টে পৌঁছান।
- 📌 **বিশ্বের অন্যতম কঠিন দৌড়** ইউটিএমবি-তে অংশ নেওয়ার জন্য পার্থ সাহা ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন আলট্রাম্যারাথনে যোগ্যতা অর্জন করেছেন, যার মধ্যে ছিল নেপালের ১০০ কিলোমিটার ফিশটেইল আলট্রা ও জাপানের কাগা স্পা ট্রেইল।
- 📌 **ভিসা প্রত্যাখ্যাতের পরও** পার্থ সাহা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন — প্রথমবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলেও দ্বিতীয়বার আবেদনে সফল হন।
- 📌 **স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং ট্রেইনার** হিসেবে পেশা গড়েছেন পার্থ সাহা, কিন্তু দৌড়ের খরচ জোগাড়ের জন্য নিজের আগ্রহের কাজ ছেড়ে দৌড়ের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন।
📰 বিস্তারিত
সকালের সূর্যোদয়েই পার্থ সাহা আল্পস পর্বতমালার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। দৌড়ের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার শেষ হওয়ার পর তিনি ভ্যালোরসিন চেকপয়েন্টের দিকে অগ্রসর হন। কিন্তু ক্লান্তি ও ঠান্ডা-জ্বরের কারণে পাহাড়ের ধারে বসে পড়েন। সেখানে তাঁকে দেখে দৌড়বিদরা জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি অসুস্থ কি না?” কিন্তু পার্থ সাহা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। একসময় তিনি পোল দুটো নিয়ে জঙ্গলের ঢালে ফেলে দিলেন এবং সাপের মতো কিছু দেখে সেটি খুঁজতে লাগলেন। পরে তিনি দুই হাতের ওপর কপাল রেখে বসে পড়লেন।
বেলা সোয়া ১১টার মধ্যে ভ্যালোরসিন পৌঁছাতে হলে সময় ছিল খুব কম। সংশয় কাটিয়ে নামতে শুরু করলেন পার্থ সাহা। কীভাবে শেষ করলেন, জানেন না তিনি। শুধু জানেন, সময়সীমার মাত্র ছয় মিনিট আগে পৌঁছান। চেকপয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবকরা পানির বোতল ভরতে সাহায্য করলেন। একজন বললেন, “কিছু খাবার আছে, তুমি নাও।” পার্থ সাহা একটা কলা নিলেন, কিন্তু এক কামড় দিয়ে ফেলে দিলেন এবং পরের চেকপয়েন্টের দিকে ছুটলেন।
পার্থ সাহার দৌড়ের শুরু ছিল মিরপুর থেকে। সাইক্লিং ও ম্যারাথনের প্রতি আগ্রহের কারণে তিনি ২০১৮ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পে চাকরি করতেন। বাসার কাছেই মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে সকালে অনুশীলন করতেন। ভারতের লাদাখ ম্যারাথন দিয়ে শুরু হলো তাঁর দৌড়ের যাত্রা। ধীরে ধীরে আলট্রাম্যারাথনের দিকে ঝোঁক বাড়ে। তিনি অংশ নেন লাদাখ সিল্ক রুট আলট্রা, খারদুংলা লা চ্যালেঞ্জ ও দার্জিলিংয়ের বুদ্ধা ট্রেইল আলট্রায়।
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইউটিএমবি দৌড়ের যোগ্যতা অর্জনের জন্য পার্থ সাহা ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন আলট্রাম্যারাথনে অংশ নেন। তিনি অংশ নেন নেপালের ১০০ কিলোমিটার ফিশটেইল আলট্রা, থাইল্যান্ডের চিয়াং দাও ইউটিএমবি ওয়ার্ল্ড সিরিজ এশিয়া মেজর, নেপালের মঞ্জুশ্রী ট্রেইল রেস ও জাপানের কাগা স্পা ট্রেইলে। যোগ্যতা অর্জন করলেও ইউটিএমবি ফাইনালের জন্য লটারি হয়। পার্থ সাহার নামও লটারিতে ওঠে। কিন্তু অংশগ্রহণ ও যাতায়াতের খরচ জোগাড় করা ছিল কঠিন। প্রকল্পের চাকরি ছেড়ে তিনি নিজের আগ্রহের কাজটিকেই পেশা করে নিয়েছেন — স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং ট্রেইনার হিসেবে কাজ করছেন।
"আমি অসুস্থ কি না, জিজ্ঞেস করছিলেন কেউ। কেউ তাঁদের সঙ্গে যেতে বলছিলেন। আমি কখনো বলছিলাম, ‘আমার রেস শেষ।’ কখনো বলছিলাম, ‘বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছি।’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আল্পস পর্বতমালা (ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পার্থ সাহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭০ কিলোমিটার দৌড়, ১৫০ কিলোমিটার শেষে ক্লান্তি, ১১ টা চেকপয়েন্ট, ১০০ কিলোমিটার নেপালের ফিশটেইল আলট্রা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!