📌 দিনাজপুরের বিরামপুরের কৃষিশ্রমিক ইয়াকুব আলী আপন মায়ের নাম সংশোধনের জন্য চার বছর ধরে সরকারি দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরছেন। সৎমায়ের নামের জায়গায় আপন মায়ের নাম সংশোধনের আবেদন বাতিল হওয়ায় তিনি সম্পত্তি ভোগের অধিকার হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালককে সমাধান চাইতে বাধ্য হন তিনি
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কৃষিশ্রমিক ইয়াকুব আলী আপন মায়ের নাম সংশোধনের জন্য চার বছর ধরে সরকারি দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরছেন। সৎমায়ের নামের জায়গায় আপন মায়ের নাম সংশোধনের আবেদন বাতিল হওয়ায় তিনি সম্পত্তি ভোগের অধিকার হারিয়েছেন এবং নিজেকে আপন মায়ের সন্তান প্রমাণ করতে বাধ্য হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিনাজপুরের বিরামপুরের কৃষিশ্রমিক ইয়াকুব আলী (৩৪) আপন মায়ের নাম সংশোধনের জন্য ২০২১ সাল থেকে চারবার আবেদন করলেও সবগুলো বাতিল হয়
- 📌 ১৯৯৮ সালে মা আয়েশা বেগমের মৃত্যুর পর বাবা আজগর আলী সৎমায়ের নাম বসিয়ে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করান, যার কারণে ইয়াকুবের সম্পত্তি ভোগের অধিকার বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 বিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, ইয়াকুবের আবেদন ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালককে সমাধান করতে হবে
- 📌 ইয়াকুবের মা আয়েশা বেগমের রেখে যাওয়া সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি আপন মায়ের নাম সংশোধনের দাবি জানাচ্ছেন
- 📌 বাবা আজগর আলী দাবি করেন, তিনি জন্মসনদ সংশোধন করার সময় ইয়াকুবের আসল মায়ের নাম দিয়েছিলেন, কিন্তু সৎমায়ের নাম বসানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের পারভবানীপুর গ্রামের বালুপাড়া বাসিন্দা ইয়াকুব আলী (৩৪) আপন মায়ের নাম সংশোধনের জন্য ২০২১ সাল থেকে সরকারি দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরছেন। তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে মা আয়েশা বেগমের মৃত্যুর পর বাবা আজগর আলী সৎমায়ের নাম বসিয়ে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করান। এর ফলে ইয়াকুবের আপন মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার অধিকার বন্ধ হয়ে যায়।
ইয়াকুবের বাবা আজগর আলী ২০০৯ সালে ইয়াকুবের জন্মসনদ সংশোধন করার সময় সৎমায়ের নাম বসিয়ে দেন। পরে ২০১৫ সালে জাতীয় পরিচয়পত্রেও সৎমায়ের নাম সংযোজন করা হয়। ইয়াকুবের মা আয়েশা বেগমের রেখে যাওয়া সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ভাগ পাওয়ার জন্য তিনি আপন মায়ের নাম সংশোধনের দাবি জানাচ্ছেন। তবে বাবা আজগর আলী দাবি করেন, তিনি জন্মসনদ সংশোধন করার সময় ইয়াকুবের আসল মায়ের নাম দিয়েছিলেন।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হাকিম মণ্ডল জানান, ইয়াকুবের আবেদন ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে। এটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক দেখেন। তিনি বলেন, “এই সমস্যা সমাধান উপজেলা কার্যালয়ে সম্ভব নয়। তবে মহাপরিচালক চাইলে এ বিষয়ে একটি তদন্ত দিতে পারেন। তখন আমি তদন্ত করব, প্রতিবেদন পাঠাব।”
"আমি (যখন মায়ের নাম পরিবর্তন) করিছি, তখন ওর মা আছিল না। আমি জানি না, ওটা কীভাবে ওখানে (ইউনিয়ন পরিষদ) করিছে। ছেলেটার যে মা বেঁচে আছে, ওই মায়ের (সৎমা) নাম তুলে দিয়ে ওটা (জন্মসনদ) করিছে। আমি ওটা করলে ওর আসল (আপন) মায়ের নামই দিতাম।"
ইয়াকুবের মা আয়েশা বেগমের মৃত্যুর পর বাবা আজগর আলী মোছা. রেজিনাকে বিয়ে করেন। ২০১২ সালে ইয়াকুবের ছোট ভাই ইউসুফ আলী মারা যাওয়ার পর জমির ভাগ বেশি পাওয়ার পথটি আরও পরিষ্কার হয়। তবে সৎমা রেজিনা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ইয়াকুবের আপন মায়ের নামের পরিবর্তে তাঁর নাম দেওয়ার বিষয়ে সৎমা রেজিনা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিরামপুর উপজেলা, দিনাজপুর, মুকুন্দপুর ইউনিয়ন, পারভবানীপুর গ্রাম, বালুপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়াকুব আলী (৩৪), আজগর আলী, আয়েশা বেগম, মোছা. রেজিনা, আবদুল হাকিম মণ্ডল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৯৮ (মা মৃত্যু), ২০০৯ (জন্মসনদ সংশোধন), ২০১৫ (জাতীয় পরিচয়পত্র), ২০২১ (প্রথম আবেদন), ২০২৪ ও ২০২৫ (আবেদন বাতিল), ২০ (অক্টোবর ২০২৬, সর্বশেষ আবেদন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!