📌 বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পুঁজিবাজারে অর্থ পাচার ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহক পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং এবং কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরাপদ রাখতে এবং অর্থ পাচার, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনায় ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ডিলার, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকসহ পুঁজিবাজারের ৭টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- 📌 বেনামী বা ভুয়া নামের কোনো হিসাব খোলা বা সেবা দেওয়া যাবে না — গ্রাহকের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জন্মসনদ ব্যবহার করে।
- 📌 ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডারদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
- 📌 রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তহবিলের উৎস যাচাই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া হিসাব খোলা যাবে না।
- 📌 সন্দেহজনক লেনদেন বা আর্থিক বৈধতা না থাকলে অবিলম্বে বিএফআইইউকে রিপোর্ট করতে হবে।
- 📌 জাতিসংঘের নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ব্যক্তির হিসাব পাওয়া গেলে অবিলম্বে লেনদেন স্থগিত করে বিএফআইইউকে জানাতে হবে।
- 📌 প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট (সিসিইউ) গঠন এবং শাখা পর্যায়ে শাখা পরিপালন কর্মকর্তা নিয়োগ বাধ্যতামূলক।
- 📌 গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত নথি অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের প্রবেশ রোধে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান বেনামে বা ভুয়া নামে হিসাব খোলা বা সেবা প্রদান করবে না। গ্রাহকের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘যথাযথ গ্রাহক পরিচিতি’ এবং ‘কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট বা জন্মসনদ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। প্রাতিষ্ঠানিক বা কোম্পানির ক্ষেত্রে, নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার বা ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ ধরনের গ্রাহকের তহবিলের উৎস অনুসন্ধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পরও অন্তত এক বছর পর্যন্ত তাঁরা এই ক্যাটাগরিতে বিবেচিত হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ (সিসিইউ) গঠন করতে হবে এবং তাঁকে চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে মনোনীত করতে হবে। শাখা পর্যায়ে শাখা পরিপালন কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার প্রধান কার্যালয় ও শাখা কর্মকর্তাদের নিয়ে ঝুঁকি পর্যালোচনা সভা করতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সন্দেহজনক লেনদেন বা আর্থিক বৈধতা না থাকলে তা অবিলম্বে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশন এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ব্যক্তি ও সত্তার ওপর কড়া নজরদারি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনো ব্যক্তির হিসাব পাওয়া গেলে অবিলম্বে লেনদেন বা পেমেন্ট স্থগিত করে বিএফআইইউকে জানাতে হবে।
"প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে এবং সন্দেহজনক লেনদেন অবিলম্বে রিপোর্ট করতে হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন এবং ঝুঁকি পর্যালোচনা সভা নিয়মিতভাবে করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠানসমূহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ ব্যাংক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতাংশ শেয়ারধারী, ৫ বছর (নথি সংরক্ষণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!