📌 ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী আইপিও প্রক্রিয়া দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ৪৫ থেকে ৬০ দিনের প্রক্রিয়াকে ১৫ দিনে সীমাবদ্ধ করে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির প্রবেশ বাড়ানো সম্ভব
পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল ও আকর্ষণীয় করতে আইপিও প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী। তিনি বলেছেন, বর্তমান আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **আইপিও প্রক্রিয়া ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ১৫ দিনে সীমাবদ্ধ করার দাবি** করেছেন আহমেদ রশিদ লালী। বর্তমানে ডিএসইর কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ৬০ দিন সময় নেয়, যা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিন করা যেতে পারে।
- 📌 **পাঁচজন সিএ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব** দিয়েছেন তিনি। প্রসপেক্টাস যাচাইয়ের জন্য এই কমিটি দ্রুত সমস্যা সমাধান করতে পারবে।
- 📌 **পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য স্ট্যাম্প ডিউটি ও পুনর্মূল্যায়ন ব্যয় মওকুফের দাবি** করেছেন আহমেদ রশিদ লালী। বর্তমানে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নে অতিরিক্ত ব্যয় উদ্যোক্তাদের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
- 📌 **বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করতে পুঁজিবাজারে ‘মার্কেটিং বিভাগ’ গঠনের পরামর্শ** দিয়েছেন তিনি। এ বিভাগের মাধ্যমে পিএইচপি গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ ও পারটেক্স গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
- 📌 **৪৫ থেকে ৬০ দিনের পুরো তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়াকে ১৫+১০+৫ দিনে (সিডিবিএল) সম্পন্ন করার পরিকল্পনা** করেছেন তিনি। ডিএসই বোর্ড থেকে নথি পাওয়ার পর বিএসইসি ১০ দিনের মধ্যে শেয়ার সাবস্ক্রিপশন তারিখ ঘোষণা করতে পারে।
📰 বিস্তারিত
রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী বলেছেন, আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমানো জরুরি। কারণ, প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজারের পরিবর্তে ব্যাংকঋণসহ অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু ডিএসইর কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ৬০ দিন সময় নেয়। এ সময়সীমা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিন করা যেতে পারে।
তিনি দাবি করেছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা সহজ হবে। এজন্য তিনি সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে চিহ্নিত করে পুঁজিবাজারে পৃথক ‘মার্কেটিং বিভাগ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিভাগের মাধ্যমে পিএইচপি গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ ও পারটেক্স গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তালিকাভুক্তির সুবিধা তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আইপিও প্রক্রিয়া দ্রুত করতে তিনি পাঁচজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের প্যানেল থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে তা দ্রুত সমাধান করা যেতে পারে। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে ডিএসই বোর্ডে প্রতিবেদন দেওয়া যেতে পারে। ডিএসই বোর্ড থেকে নথি পাওয়ার পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১০ দিনের মধ্যে পর্যালোচনা শেষ করে শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে। এরপর সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) পাঁচ দিনের মধ্যে লটারি, শেয়ার লেনদেন ও আবেদনকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।
"আইপিও প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করা গেলে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত ব্যয় উদ্যোক্তাদের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।"
আহমেদ রশিদ লালী আরও বলেছেন, একটি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে একাধিক বছরের ব্যালেন্সশিট প্রস্তুতসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর সঙ্গে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নে স্ট্যাম্প ডিউটি, ভ্যাট ও করের মতো অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়। তিনি বলেন, পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বহু বছর আগে কেনা জমির হিসাবমূল্য অনেক কম থাকলেও বর্তমান বাজারমূল্যে তা পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়। ফলে তালিকাভুক্তির আগেই উদ্যোক্তার ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী আইপিও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আহমেদ রশিদ লালী (রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫-৬০ দিন (বর্তমান প্রক্রিয়া), ১৫ দিন (কাগজপত্র যাচাই), ১০ দিন (বিএসইসি পর্যালোচনা), ৫ দিন (সিডিবিএল প্রক্রিয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!