📌 রংপুরে আলুর উৎপাদন ৫১ লাখ ৭৬ হাজার টন হলেও সংরক্ষণ ক্ষমতা মাত্র ২৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ। হিমাগার ভাড়া, কম দাম ও নতুন চাষের কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার উপরে
রংপুর বিভাগে আলুর বাম্পার উৎপাদন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। ৫১ লাখ ৭৬ হাজার টন উৎপাদনের বিপরীতে মাত্র ২৩ শতাংশ আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। হিমাগারে পড়ে থাকা পুরোনো আলু, নতুন চাষের শুরু এবং কম দামের কারণে কৃষকদের সম্ভাব্য লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার টন আলু উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণ করা হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৯৪ হাজার টন (২৩ শতাংশ)
- 📌 হিমাগারে পড়ে থাকা ৭৩.৮ শতাংশ আলু এখনো বের হয়নি, নতুন চাষ শুরু হওয়ায় সংকট বেড়েছে
- 📌 কেজিপ্রতি ১০-১১ টাকা লোকসান হচ্ছে, মোট সম্ভাব্য ক্ষতি ৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা
- 📌 কৃষকদের বাধ্য হয়ে ৮-৯ টাকা দামে বিক্রি করতে হয়েছে, উৎপাদন ব্যয় ১৭-১৮ টাকা
- 📌 হিমাগার ভাড়া ৫ টাকা কেজি কমিয়ে দাবি করা হলেও মালিকরা মানছেন না
📰 বিস্তারিত
রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত আলুর মধ্যে মাত্র ১২৪টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। সংরক্ষিত আলুর ৭৩.৮ শতাংশ (৮ লাখ ৮২ হাজার টন) এখনো হিমাগারে পড়ে আছে। এরই মধ্যে নতুন আলুর চাষ শুরু হওয়ায় পুরোনো মজুত বের না হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
কৃষক আমজাদ হোসেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মুসা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘আগের মৌসুমের আলু এখনো হিমাগারে পড়ে আছে। লোকসান কমানোর আশায় নতুন আলু চাষ শুরু করেছি।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন ব্যয় ১৭-১৮ টাকা হলেও বর্তমানে হিমাগারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪-১৫ টাকা। এর মধ্যে ৭ টাকা হিমাগার ভাড়া দিতে হয়। ফলে কৃষকের হাতে মাত্র ৭-৮ টাকা থাকে।
কৃষক নাহিদুজ্জামান তারাগঞ্জের বামনদীঘি গ্রাম থেকে বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে আলু পচে উৎপাদন কমে গেছে। এক কেজি আলু উৎপাদনে ২০ টাকা খরচ পড়েছে। বাধ্য হয়ে ১০ টাকা দামে বিক্রি করেছি। মৌসুমের শুরুতে কেজিতে ১০ টাকা লোকসান হয়েছে।’
"হিমাগার ভাড়া বেশি হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করেও লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না। ভাড়া কমানোর দাবি হলেও মালিকরা তা মানছেন না। আমরা ৫ টাকা কেজি ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছি।"
— রংপুর আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর বিভাগ (৮ জেলা), নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা, তারাগঞ্জ, বামনদীঘি গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমজাদ হোসেন, নাহিদুজ্জামান, তৈয়বুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১ লাখ ৭৬ হাজার টন (উৎপাদন), ২৩ শতাংশ (সংরক্ষণ), ৫ হাজার কোটি টাকা (লোকসান), ১০-১১ টাকা (কেজিপ্রতি লোকসান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!