📌 তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা। ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সচেতনতা কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত ও অন্যান্য বক্তারা এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন
তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্টিগমা দূর করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা। ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা বন্ধের দাবি তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত** বলেছেন, আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নেওয়ার বাধা সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক স্টিগমা বাড়াচ্ছে।
- 📌 **১০ সেপ্টেম্বর** আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আইন পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।
- 📌 **ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী** বলেছেন, বর্তমান আইন আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিতে বাধা দেয়।
- 📌 **মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণে** সরকার পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক সেবা কাঠামো গড়ে তোলার কাজ করছে।
- 📌 **আত্মহত্যার পেছনে একক কারণ নেই**—বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের সম্মিলিত প্রভাবের কারণে তরুণরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
📰 বিস্তারিত
‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে দেখে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানসিক সংকটের সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আঁচল ফাউন্ডেশনের লিড সাইকিয়াট্রিস্ট সায়েদুল ইসলাম সাইদ বলেন, আত্মহত্যা বিশ্বের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি দাবি করেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, আত্মহত্যার পেছনে একক কারণ থাকে না—বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের সম্মিলিত প্রভাবের কারণে একজন ব্যক্তি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, কেউ আত্মহত্যার কথা বললে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে ব্যক্তিরা আইনি বাধার মুখে পড়েন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান আইন পরিবর্তনের সময় এসেছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুন নাহার বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা থাকা ব্যক্তিদের দূরে সরিয়ে না দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, কোনোভাবেই তাদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
"আত্মহত্যার চেষ্টা করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নেওয়ার বাধা সৃষ্টি করছে। সামাজিক স্টিগমা দূর করতে হবে এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মানসিক সহায়তার আওতায় আনা উচিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, রিপোর্টার্স ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম এ মুহিত (স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী), সায়েদুল ইসলাম সাইদ (আঁচল ফাউন্ডেশন), মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ সেপ্টেম্বর (আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!