📌 যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা শক্তিশালী নিউট্রন ইমেজিং ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম টি-রেক্স ডাইনোসর 'স্কটি'-এর মৃত্যুরহস্য উন্মোচন করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, শিংয়ের আঘাতে আহত হয়ে লোনা পানিতে মারা গিয়েছিল এই দানবীয় প্রাণী
বিশ্বের বৃহত্তম টি-রেক্স ডাইনোসর 'স্কটি'-এর মৃত্যুরহস্য উন্মোচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ওক রিডজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকরা শক্তিশালী নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই দানবীয় প্রাণীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৬৬ কোটি বছর আগে কানাডার মাটিতে ঘুরে বেড়ানো এই ৪২ ফুট দীর্ঘ ডাইনোসর তার জীবনের শেষ সময়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে লোনা পানির জলাভূমিতে মারা গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৬ কোটি বছর আগে কানাডার মাটিতে ঘুরে বেড়ানো বিশ্বের বৃহত্তম টি-রেক্স 'স্কটি' শিংয়ের আঘাতে আহত হয়ে মারা গিয়েছিল।
- 📌 গবেষকরা নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্কটির জীবাশ্মীভূত হাড়ের ভেতর থেকে রক্তনালির জাল আবিষ্কার করেছেন, যা ক্ষত নিরাময়ের চেষ্টা দেখায়।
- 📌 ৪২ ফুট দীর্ঘ এই দানবীয় ডাইনোসর তার জীবনের শেষ সময়ে শিংওয়ালা ট্রাইসেরাটপসের আঘাতে আহত হয়েছিল।
- 📌 ৩০ বছর বয়সী স্কটি ছিল সবচেয়ে বয়স্ক টি-রেক্স ডাইনোসর, যার জীবাশ্ম ১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচোয়ান অঞ্চলে পাওয়া যায়।
📰 বিস্তারিত
গবেষকদের মতে, স্কটি ডাইনোসর শিকার করতে গিয়ে অন্য একটি ট্রাইসেরাটপসের শিংয়ের আঘাতে তার পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল। এর ফলে শরীরের ভেতরে রক্তনালির জাল তৈরি হয়েছিল। তবে দ্রুত পচন না হওয়ায় এই ক্ষতের সন্ধান জীবাশ্মের ভেতর থেকে পাওয়া যায়। নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি হাইড্রোজেনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নরম টিস্যুর চিহ্ন খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। গবেষণায় দেখা যায়, স্কটির হাড়ের ভেতরে লোহা সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ থেকে প্রমাণিত হয় যে ক্ষত নিরাময়ের চেষ্টা চলছিল। কিন্তু হাড় পুরোপুরি জোড়া লাগার আগেই ডাইনোসরটি মারা যায়।
রেজিনা ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মরিসিও বারবি এই ঘটনাকে লটারি জেতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, স্কটির পাঁজরে খনিজযুক্ত রক্তনালির বিশাল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে, যা আগে কোনো জীবাশ্মে দেখা যায়নি। এই আবিষ্কারটি ডাইনোসর বিজ্ঞানের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলেছে।
১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচোয়ান অঞ্চলের ফ্রেঞ্চম্যান রিভার ভ্যালিতে স্কটির জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়। গবেষকদের তথ্যমতে, স্কটি ছিল সবচেয়ে বয়স্ক টি-রেক্স ডাইনোসর। মৃত্যুর সময় তার বয়স প্রায় তিরিশ বছর ছিল, যা এই প্রজাতির জন্য বিরল।
"স্কটির পাঁজরে খনিজযুক্ত রক্তনালির বিশাল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে, যা আগে কোনো জীবাশ্মে দেখা যায়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কানাডা (সাসকাচোয়ান), যুক্তরাষ্ট্র (টেনেসি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মরিসিও বারবি (রেজিনা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৬ কোটি বছর (মৃত্যুর সময়কাল), ৪২ ফুট (স্কটির দৈর্ঘ্য), ৩০ বছর (বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!