📌 কুয়াকাটার ঝাউবনে প্রথমবারের মতো দেখা গেল বিরল পাখি ভুজঙ্গকে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিবিজ্ঞানী আ ন ম আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পাখিপ্রেমী এই বিরল পাখিকে খুঁজে পেয়েছেন। বাংলাদেশে এই পাখির দেখা মেলার রেকর্ড মাত্র ১০ বারও কম। পাখির নামের ইতিহাস অজানা থাকলেও, এর বৈশিষ্ট্য ও আচরণের সাথে সাপের নামের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে
বাংলাদেশের কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবনে একদল পাখিপ্রেমী প্রথমবারের মতো বিরল পাখি ভুজঙ্গের দেখা পেয়েছেন। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিবিজ্ঞানী আ ন ম আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে এই দলটি দুই যুগ ধরে এই বিরল পাখিকে খুঁজছিলেন। বাংলাদেশে এই পাখির দেখা মেলার রেকর্ড মাত্র ১০ বারও কম। এই বিরল পাখির নাম ‘ভুজঙ্গ’ — যার অর্থ সাপ। কিন্তু পাখির শরীরে সাপের কোনো বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না। তাহলে কেন এই নাম?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিবিজ্ঞানী আ ন ম আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পাখিপ্রেমী কুয়াকাটার ঝাউবনে প্রথমবারের মতো ভুজঙ্গ পাখি দেখেছেন।
- 📌 এই বিরল পাখির বাংলাদেশে দেখা মেলার রেকর্ড মাত্র ১০ বারও কম।
- 📌 পাখির নাম ‘ভুজঙ্গ’ — যার অর্থ ‘সাপ’। কিন্তু পাখির শরীরে সাপের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।
- 📌 পাখির দৈর্ঘ্য ২৭ থেকে ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪৪ থেকে ৬৮ গ্রাম।
- 📌 পাখির পিঠ কালো, বুক-পেটে সাদা ফোঁটা এবং ঠোঁট শক্তপোক্ত।
- 📌 পাখিটি অক্টোবরে বাংলাদেশে অল্পদিনের জন্য থামে বলে মনে করা হয়।
- 📌 পাখির প্রজননকাল এপ্রিল থেকে জুন। তখন এটি থাকে হিমালয় আর উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি বনে।
📰 বিস্তারিত
অক্টোবরের মাঝামাঝি এক সকালে কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবনে ঢুকলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিবিজ্ঞানী আ ন ম আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পাখিপ্রেমী। তারা এই বিরল পাখিকে খুঁজছিলেন দুই যুগ ধরে। গাছগুলো সরু আর উঁচু, দেখলে বিদেশি বনের কথা মনে পড়ে। কাঠঠোকরার ঠকঠক আর হাঁড়িচাঁচার চিৎকারের মধ্যে একটা ফিঙে হঠাৎ তেড়ে গেল বনমালির দিকে। তার পর থেকে ডালপালায় ফিঙের আনাগোনা বেড়ে গেল, বেশির ভাগই অল্পবয়সী। এই ভিড় থেকে একটা পাখি এসে বসল লতার ওপর। গা কালো, বুক-পেটে সাদা ফোঁটা, ঠোঁট খাটো আর শক্তপোক্ত, মাথা আর লেজের গড়নও ফিঙের মতো নয়। দুজন একসঙ্গে ক্যামেরা তুললেন। তিনটা ছবি তুলতেই পাখিটা উড়ে গেল।
পাখির নাম ‘ভুজঙ্গ’ — যার অর্থ ‘সাপ’। শিবকে বলা হয় ভুজঙ্গভূষণ, কারণ সাপ তাঁর অলংকার। কিন্তু পাখির শরীরে সাপের কোনো বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না। পাখির দৈর্ঘ্য ২৭ থেকে ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪৪ থেকে ৬৮ গ্রাম। পালক চকচকে কালো, চোখ গাঢ় বাদামি। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। অল্পবয়সী পাখির পিঠ ফ্যাকাশে কালচে-বাদামি, গলা আর বুকে সাদা তিল। ফিঙের মতোই কুচকুচে কালো গা এবং লম্বা চেরা লেজের এই পাখির বুকের পাটাও কম নয়। তবে ভুজঙ্গের লেজ তুলনায় চওড়া, আগাটা বাইরের দিকে সামান্য ছড়ানো, চেরা প্রায় নেই।
পাখির নামের ইতিহাস অজানা থাকলেও, এর বৈশিষ্ট্য ও আচরণের সাথে সাপের নামের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। পাখিটি থাকে বনের নিচের দিকে, ঝোপঝাড় আর লতাগুল্মের ভেতর, একা কিংবা জোড়ায়, আর মিশে থাকে ফিঙের দলে। অনেকের মতে, এটি বাংলাদেশে পন্থ-পরিযায়ী, অর্থাৎ অন্য কোথাও যাওয়ার পথে অক্টোবরে অল্প কয়েক দিনের জন্য থামে। কেউ কেউ বলেন, এটি ভবঘুরে, পথ হারিয়ে এসে পড়া অতিথি। ঘন পাতার আড়ালে একটা কালো শরীর মিলিয়ে যাচ্ছে, এই দৃশ্য কারও সাপের কথা মনে করালে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
প্রজননকাল এপ্রিল থেকে জুন। তখন এটি থাকে হিমালয় আর উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি বনে। মাটি থেকে ৪-১২ মিটার ওপরে গাছের দোডালায় মাকড়সার জালের সঙ্গে বাকল আর ঘাস জড়িয়ে বাটির মতো চ্যাপটা বাসা বানায়। স্ত্রী-পুরুষ মিলে বাসা গড়ে, কিন্তু তিন-চারটা ফিকে গোলাপি ডিমে তা দেয় একা স্ত্রী পাখি। ছানা ফুটতে ১৪-১৫ দিন লাগে বলে অনেকের ধারণা, উড়তে শিখতে আরও ১৫ থেকে ২২ দিন। ডাকে দুই রকম সুর পাওয়া যায়, মিষ্টি ‘ফুউইইইট্...ফুউইইইট্...’ আর কর্কশ ‘কোয়্যারশকোয়্যারশ’।
"এই পাখির নামের ইতিহাস কেউ ঘটা করে লিখে রাখবেন, এমন আশা কমই। নামটা কে দিয়েছেন, কবে দিয়েছেন, কোনো বই বা প্রতিবেদনে তার হদিস মেলে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুয়াকাটা সৈকত, ঝাউবন, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আ ন ম আমিনুর রহমান (গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিবিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বার (দেখার রেকর্ড), ২৭-৩২ সেন্টিমিটার (দৈর্ঘ্য), ৪৪-৬৮ গ্রাম (ওজন), ৪-১২ মিটার (বাসা উচ্চতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!