📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০১৭ ও ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু করেছে। WHO-এর পরামর্শে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের কী ভূমিকা রাখতে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু অতীত সরকারগুলো এই পরামর্শগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। বর্তমান বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান এখন সবার মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে WHO-এর প্রাক্তন পরামর্শগুলো, যা এবার বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৭ সালে WHO-এর রোগতত্ত্ববিদ ড. কে কৃষ্ণমূর্তি বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ২২ পৃষ্ঠার একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন, যা বাস্তবায়িত হয়নি।
- 📌 পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছিল ১২টি মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে যুক্ত করতে হবে এবং র্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করতে হবে, যা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
- 📌 ২০১৯ সালে WHO-এর কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপাল বলেছিলেন, এডিস মশা এক বছরেরও বেশি সময় সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং পানির স্পর্শ পেলে আবার মশা হয়।
- 📌 ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের একা যথেষ্ট নয়—নাগরিকদের নিজস্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে, কারণ মশা বাসা করে টেবিল-চেয়ার-সোফা-বিছানার নিচে এবং অন্ধকার জায়গায়।
- 📌 ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবারই আছে, বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী, প্রবীণ এবং রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ক্যানসার রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের।
📰 বিস্তারিত
ডেঙ্গু বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০০০ সালের পর থেকে এই রোগের প্রকোপ প্রতিবছর বাড়ছে। অতীত সরকারগুলো ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যাওয়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শগুলো ভুলে যেত। কিন্তু বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন পরামর্শগুলো, যা এবার বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
২০১৭ সালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ দেখা দিলে WHO-এর রোগতত্ত্ববিদ ড. কে কৃষ্ণমূর্তি ঢাকায় এসেছিলেন এবং একটি ২২ পৃষ্ঠার পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। এই পরিকল্পনায় দুটি মূল উদ্দেশ্য ছিল: প্রথমত, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের হার কমানো এবং দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গুতে মৃত্যু হ্রাস করা। পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছিল, ১২টি মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে যুক্ত করতে হবে এবং একটি র্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করতে হবে, যাতে রোগতত্ত্ববিদ, কীটতত্ত্ববিদ, অণুজীববিজ্ঞানী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতে পারেন।
২০১৯ সালে WHO-এর কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপাল ঢাকায় এসেছিলেন এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এডিস মশা এক বছরেরও বেশি সময় সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং কোনো পাত্রে ডিম থাকলে পানির স্পর্শ পেলে আবার মশা হয়। তিনি আরও বলেছিলেন, এডিস মশা নর্দমায় ডিম পাড়ে না—তারা ছোট ছোট পানির আধারে ডিম পাড়তে পছন্দ করে। তিনি সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়েছিলেন, কারণ শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কর্মীরা সব মানুষের বাড়ির মধ্যে ঢোকার অনুমতি পাবেন না, কিন্তু মশা বিশ্রাম নেয় টেবিল-চেয়ার-সোফা-বিছানার নিচে এবং অন্ধকার জায়গায়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো জানতে হবে এবং জ্বর দেখা দিলে তৎক্ষণাত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জ্বর সেরে যাওয়া মানেই ডেঙ্গুমুক্ত হওয়া নয়। প্রতিটি পরিবারে শিশু, গর্ভবতী, প্রবীণ এবং রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ক্যানসার রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের প্রতি বেশি নজর রাখতে হবে, কারণ তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে।
"শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দিয়ে এডিস মশা কমানো সম্ভব না। কর্মীরা সব মানুষের বাড়ির মধ্যে ঢোকার অনুমতি পাবেন না। অথচ এই মশা বিশ্রাম নেয় টেবিল-চেয়ার-সোফা-বিছানার নিচে, পর্দা-আলমারির পেছনে—অর্থাৎ যেখানে অন্ধকার থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ড. কে কৃষ্ণমূর্তি, বি এন নাগপাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ পৃষ্ঠা, ১২টি মন্ত্রণালয়, ১২ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!