📌 সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণহীন বিক্রেতাদের ওপর নির্ভর করছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতার পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করেন, যার ফলে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। সরকারি তদারকির ঘাটতি ও তথ্যের অভাব এই সমস্যার মূল কারণ
সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণহীন বিক্রেতাদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে বিপজ্জনক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। সরকারি তদারকির ঘাটতি ও তথ্যের অভাব এই সমস্যার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কৃষক শহিদুল ইসলাম স্থানীয় বিক্রেতা মোহাম্মদ সোনাউল্লার পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করেন।
- 📌 ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতার পরামর্শে কীটনাশক ব্যবহার করেন।
- 📌 প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কৃষক সুপারিশের চেয়ে বেশি ঘনত্বে কীটনাশক প্রয়োগ করেন।
- 📌 টাঙ্গাইলে ১২ শতাংশ ও সিরাজগঞ্জে ২০ শতাংশ কৃষক নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করেন।
- 📌 সিরাজগঞ্জে প্রায় ৩ শতাংশ কৃষক ডব্লিউএইচওর অত্যন্ত বিপজ্জনক শ্রেণির কীটনাশক ব্যবহার করেন।
📰 বিস্তারিত
ফসলের খেতে পোকা দেখলেই সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বারাকান্দী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম স্থানীয় কীটনাশকের দোকানে ছুটে যান। কোন কীটনাশক ব্যবহার করবেন, কতটুকু দেবেন বা কতবার ছিটাবেন—এসব বিষয়ে তিনি দোকানদারের পরামর্শই মেনে চলেন। শহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ বা মাঠপর্যায়ে তদারকি খুব একটা পান না তিনি। ফলে সমস্যা সমাধানে তাঁকে দ্রুত কীটনাশকের দোকানে যেতে হয়।
শহিদুল ইসলামকে কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেন একই এলাকার বিক্রেতা মোহাম্মদ সোনাউল্লা। তাঁর নিজের কোনো কীটনাশক বিক্রির অনুমতি বা লাইসেন্স নেই। অন্য একজনের লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা করেন তিনি। কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও নেননি তিনি। মোহাম্মদ সোনাউল্লা জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি কৃষকদের ওষুধ বেছে দেন এবং ব্যবহারবিধি বুঝিয়ে দেন। তবে নিরাপদ মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, ফসল তোলার আগে অপেক্ষা করার সময় (উইথহোল্ডিং পিরিয়ড) বা কোন কোন কীটনাশক দেশে নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের গবেষকেরা টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের ৬০০ কৃষকের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালের চাষ মৌসুমে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা নিতে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতা বা ডিলারের ওপর নির্ভর করেন। কীটনাশকের গায়ে লেখা নির্দেশনা অনুসরণ করেন মাত্র প্রায় ১৯ শতাংশ কৃষক। আর প্রায় ১২ শতাংশ কৃষক নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।
"কৃষকদের বড় অংশই নির্ভর করছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর, যাঁদের অনেকের কৃষিবিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। ফলে বিপজ্জনক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ সোনাউল্লা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ শতাংশ, ৬০০ জন কৃষক, ১৯ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ৬৯ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৩ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!