📌 শীতলক্ষ্যা নদীর রহস্যময় মাছ 'বাহোক' বা 'বাসুকি' গভীর রাতে ডাঙায় উঠে আসে। স্থানীয় কৃষক বুরুজ মিয়া ছাই ছিটিয়ে শিকার করে ৪ ফুট লম্বা, ৭ কেজি ওজনের এই মাছকে ধরে। বৈজ্ঞানিক নাম Anguilla bengalensis, মাছটি নিশাচর মাংসাশী এবং স্থানীয় লোককথায় ঘিরে আছে অসংখ্য রহস্যময় গল্প
শীতলক্ষ্যা নদীর গভীর রাতে ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের গল্প স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত। এই মাছের নাম 'বাহোক' বা 'বাসুকি'। স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই মাছের সাথে প্রাচীন বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনির বাসুকি নাগের যোগসূত্র আছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর নাম Anguilla bengalensis এবং ইংরেজিতে এটি পরিচিত Indian mottled eel।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বুরুজ মিয়া গভীর রাতে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় থেকে ছাই ছিটিয়ে শিকার করে ৪ ফুট লম্বা, ৭ কেজি ওজনের বাহোক মাছ।
- 📌 স্থানীয় কৃষকরা এই মাছকে 'বাহোক', 'বাসুকি', 'ক্ষীরাবাইম' বা 'তেলকোমা' নামে ডাকতেন।
- 📌 ১৯৮৮ সালে চরসিন্দুর থেকে ধরা পড়েছিল ৯ কেজি ওজনের, ৫ ফুট লম্বা বাহোক মাছ।
- 📌 বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, বাহোক নিশাচর মাংসাশী মাছ; খাদ্য হিসেবে ছোট মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ ও চিংড়ি গ্রহণ করে।
- 📌 স্থানীয় লোককথায়, এই মাছ নদী থেকে ডাঙায় উঠে আসে এবং ক্ষীরাখেতেও দেখা যায়।
📰 বিস্তারিত
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বাসকারী কৃষক বুরুজ মিয়া গভীর রাতে নদী থেকে ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সাক্ষী হন। তিনি বলেন, মধ্যরাতে ক্ষীরাখেতে অদ্ভুত শব্দ শুনে নদীর দিকে যান। টর্চের আলোয় তিনি একটি সাপের মতো দেখতে মাছের পথ খুঁজে পান। ছাই ছিটিয়ে মাছটিকে ধরে ফেলেন। মাছটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় চার ফুট এবং ওজন সাত কেজি। স্থানীয় লোকদের মতে, এই মাছের মাংসের স্বাদ খাসির মাংসের মতো।
বুরুজ মিয়া জানান, এই মাছের নাম স্থানীয়ভাবে 'বাহোক' বা 'বাসুকি'। কৃষকরা এই মাছকে শিকার করার জন্য ছাই ছিটিয়ে পথ বন্ধ করে দিতেন। স্থানীয় লোককথায়, এই মাছের সাথে প্রাচীন বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনির বাসুকি নাগের যোগসূত্র আছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর নাম Anguilla bengalensis এবং এটি Indian mottled eel নামে পরিচিত।
১৯৮৮ সালে চরসিন্দুরের বান্ধব কটন মিলের কেয়ারটেকার রহমান মিয়া একটি বড় বাহোক ধরে ফেলেন। মাছটির ওজন ছিল প্রায় ৯ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ৫ ফুট। স্থানীয়রা বলেন, এই মাছের জীবন অত্যন্ত বিচিত্র। নদীর গভীর গর্তে থাকতে পছন্দ করে, কিন্তু রাত গভীর হলে কখনো কখনো জল ছেড়ে ডাঙায় উঠে আসে। বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, বাহোক মূলত নিশাচর মাংসাশী মাছ। ছোট মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এদের খাদ্য।
“বাহোক এতটাই বেপরোয়া শিকারি ছিল যে নদীতে পেতে রাখা চাইয়ের ভেতর ঢুকে মাছ খেয়ে চাই ভেঙে পালিয়ে যেত।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শীতলক্ষ্যা নদী, চরসিন্দুর, নরসিংদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বুরুজ মিয়া, রহমান মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ ফুট (দৈর্ঘ্য), ৭ কেজি ওজন, ৯ কেজি ওজন (১৯৮৮ সালে), ৫ ফুট দৈর্ঘ্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!