📌 সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত মাটি ও পানির অভাবের মধ্যেও নারীরা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে সবজি চাষে সফলতা পাচ্ছেন। ১২টি পদ্ধতিতে চাষ করে তারা দৈনিক ১০-১২ কেজি সবজি উৎপাদন করছেন
সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত মাটি ও নোনা পানির কারণে কৃষিকাজে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও স্থানীয় নারীরা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে সবুজ বিপ্লবের সাক্ষী হয়ে উঠেছেন। দিনে ১০ থেকে ১২ কেজি সবজি উৎপাদন করে তারা নিজেদের ও পরিবারের পুষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় ১২টি আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন নারীরা
- 📌 দিপীকা রাণী ও ইতি বিশ্বাসের মতো নারীরা বাড়ির আঙিনায় মিষ্টি পানির পুকুর তৈরি করে সবজি উৎপাদন করছেন
- 📌 দৈনিক ১০ থেকে ১২ কেজি সবজি বিক্রি করে তারা পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে চাষাবাদ করছেন
- 📌 ‘লিডার্স’ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় স্থানীয় নারীদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে
- 📌 লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি প্রসারিত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলি গ্রামের দিপীকা রাণী তার বাড়ির আঙিনায় মিষ্টি পানির পুকুর তৈরি করে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, “সুন্দরবন এলাকাটি লবণাক্ততাকবলিত। এখানে আগে আমরা ঠিকঠাক শাকসবজি চাষ করতে পারতাম না। আগে শাকসবজি লাগালে মাটি লবণাক্ত থাকায় সেগুলো মরে যেত। তবে এখন আমরা ‘লিডার্স’ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেছি।”
দিপীকা রাণী মাচা পদ্ধতিতে ঝুলিয়ে সবজি চাষ করছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার বাড়ির আঙিনায় মিষ্টি পানির আধার করেছি। সেখানে সারা বছর বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করি। সেখান থেকে আমি খাওয়ার পানি সহ গৃহস্থালির সব কাজ সম্পন্ন করতে পারি। পাশাপাশি সবজি চাষেও সেই মিষ্টি পানি ব্যবহার করতে পারি। বেড পদ্ধতি, মালচিং পদ্ধতি, বস্তা পদ্ধতি, ভার্টিক্যাল টাওয়ার পদ্ধতি, ভার্টিক্যাল টাওয়ার ড্রিপ সেচ পদ্ধতি, আলোর ফাঁদসহ ১২টি পদ্ধতিতে আমি সবজি চাষ করেছি। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজির বেশি সবজি বাজারে বিক্রি করি।”
ইতি বিশ্বাস দিপীকা রাণীর দেখাদেখি বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমি দিদির দেখাদেখি বাড়ির জমিতে সবজি চাষ করেছি। প্রথমে সবজির চারাগুলো মরে গিয়েছিল। কিন্তু দিদির সহায়তায় আমিও সফল হয়েছি। আমি ঢ্যাঁড়স, পুঁইশাক, বস্তার ভেতরে আদা, উচ্ছে, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক ও লালশাক চাষ করছি। সবকিছু আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে, যাতে লবণাক্ত পানি সেই মাটি স্পর্শ করতে না পারে। পুকুর কেটে আমরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখি। আর সেই পানি ব্যবহার করি।”
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশালতা বলেন, “শ্যামনগর উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের জমিই লবণাক্ত। এই লবণাক্তপ্রবণ এলাকায় কৃষির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত চাষাবাদ ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে কাজ করছি। বর্তমানে আমরা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘লিডার্স’র সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। সরকারি ও বেসরকারি উভয়পক্ষই সমন্বিতভাবে ভূমিকা রাখছে। লবণ-সহনশীল জাতের ফসল ও সার ব্যবহারের পাশাপাশি মাচা পদ্ধতি, মালচিং পদ্ধতি এবং বস্তায় সবজি চাষ পদ্ধতিতে চাষ করছে বিভিন্ন রকম সবজি। এই বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক কৌশলগুলো কাজে লাগিয়ে লবণাক্ত এলাকাগুলোতে সফলভাবে সবজি চাষ সম্প্রসারণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
"জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। বিশেষ করে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এই এলাকার মানুষ প্রথাগত কৃষিকাজ করতে পারছে না। তাই আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা, শ্যামনগর উপজেলা, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন, কুলতলি গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দিপীকা রাণী, ইতি বিশ্বাস, আশালতা (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা), মোহন কুমার মন্ডল (লিডার্স নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২টি কৃষি পদ্ধতি, দৈনিক ১০-১২ কেজি সবজি উৎপাদন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!