📌 নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নিবিড় জীবনযাপন পরিবর্তন কর্মসূচি অনুসরণ করে ছয় মাসে ৫৪ শতাংশ তরুণ টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগী রেমিশন পেয়েছেন। প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় এই কর্মসূচির ফলাফল ২১ গুণ বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে
বিশ্বের তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে নতুন গবেষণা আশার আলো দেখাচ্ছে — নিবিড় জীবনযাপন পরিবর্তন কর্মসূচি অনুসরণ করে মাত্র ছয় মাসে ৫৪ শতাংশ রোগী রেমিশন পেয়েছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় এই কর্মসূচির ফলাফল ২১ গুণ বেশি কার্যকর। গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ—আমেরিকাস-এ এবং ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব ডায়াবেটিসের বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৪ শতাংশ তরুণ টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগী মাত্র ছয় মাসে রেমিশন পেয়েছেন নিবিড় জীবনযাপন পরিবর্তন কর্মসূচি অনুসরণ করে।
- 📌 প্রচলিত চিকিৎসা গ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ রোগী রেমিশন পেয়েছেন — কর্মসূচি অনুসরণকারীদের তুলনায় ২১ গুণ বেশি সম্ভাবনা।
- 📌 ৯৬ জন অংশগ্রহণকারী মধ্যে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রাথমিক পর্যায়ের টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- 📌 গড়ে ৮.৪ কেজি ওজন কমিয়েছেন কর্মসূচি অনুসরণকারীরা, যেখানে প্রচলিত চিকিৎসা গ্রহণকারীরা মাত্র ১.২ কেজি ওজন কমিয়েছেন।
- 📌 গবেষণা পরিচালনা করেছেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাবেরী দাশগুপ্ত এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের অধ্যাপক থমাস ইয়েটস।
📰 বিস্তারিত
টাইপ ২ ডায়াবেটিস সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে শনাক্ত হওয়া এই রোগের রেমিশন সম্ভব। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ রোগী মাত্র ছয় মাসে রেমিশন পেয়েছেন। রেমিশন বলতে বোঝায় রক্তে শর্করার মাত্রা ডায়াবেটিস নির্ণয়ের সীমার নিচে নেমে আসা এবং কোনো ওষুধ ছাড়াই সেই অবস্থা বজায় রাখা। তবে রেমিশন মানেই ডায়াবেটিসের চিরতরে নিরাময় নয় — নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জীবনযাপনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক দলকে দেওয়া হয় নিবিড় জীবনযাপন পরিবর্তন কর্মসূচি, যেখানে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ এবং সপ্তাহে তিন দিন ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রথম ১২ সপ্তাহ ছিল ওজন কমানোর পর্যায়, যেখানে কঠোরভাবে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরবর্তী ১২ সপ্তাহে ওজন ধরে রাখার উপযোগী খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে দ্বিতীয় দলকে প্রচলিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিবিড় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ রেমিশন পেয়েছেন, যেখানে প্রচলিত চিকিৎসা গ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ রোগী রেমিশন পেয়েছেন। ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে — কর্মসূচি অনুসরণকারীরা গড়ে ৮.৪ কেজি ওজন কমিয়েছেন, যেখানে প্রচলিত চিকিৎসা গ্রহণকারীরা মাত্র ১.২ কেজি ওজন কমিয়েছেন। গবেষণায় গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, তবে কিছু হালকা উপসর্গ যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং ক্লান্তি দেখা গেছে।
"রেমিশন বলতে বোঝায় রক্তে শর্করার মাত্রা ডায়াবেটিস নির্ণয়ের সীমার নিচে নেমে আসা এবং কোনো গ্লুকোজ-কমানোর ওষুধ ছাড়াই সেই অবস্থা বজায় রাখা। তবে রেমিশন মানেই ডায়াবেটিসের চিরতরে নিরাময় নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইংল্যান্ড (লেস্টার), কানাডা (মন্ট্রিয়ল, এডমন্টন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক কাবেরী দাশগুপ্ত (ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক থমাস ইয়েটস (লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ শতাংশ (রেমিশন হার), ৯৬ জন (অংশগ্রহণকারী), ৮.৪ কেজি (ওজন কমানো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!