📌 শরতের রূপগঞ্জে নারায়ণগঞ্জের জিন্দা পার্কের কাছে বিচিত্রা কেঁউগাছের সুন্দর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সাতজন পর্যটক। এই গাছের বিচিত্র রঙের পাতা ও সাদা ফুলের মঞ্জরি প্রকৃতির স্বপ্নের মতো দেখায়। কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায়ের লেখায় বিচিত্রা কেঁউগাছের বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য ও ঔষধি গুণ তুলে ধরা হয়েছে
শরতের ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রকৃতির স্বপ্নের মতো একটি দৃশ্য উপভোগ করেছেন সাতজন পর্যটক। গত ২৮ ভাদ্রের সকালে জিন্দা পার্কের কাছাকাছি বিলের ধারে পদ্ম ও শাপলা ফুলের মাঝে বিচিত্রা কেঁউগাছের সুন্দর দৃশ্য তাদের চোখে পড়েছে। এই গাছের আকর্ষণীয় রঙিন পাতা ও লাল মঞ্জরিতে ফুটে থাকা সাদা ফুল দেখে তারা মুগ্ধ হয়ে গেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ ভাদ্র তারিখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শরতের দৃশ্য উপভোগ করেছেন সাতজন পর্যটক।
- 📌 বিচিত্রা কেঁউগাছের পাতা ও ফুলের মঞ্জরি দেখে তারা প্রকৃতির স্বপ্নের মতো দৃশ্য উপলব্ধি করেছেন।
- 📌 বুনো কেঁউ ও বিচিত্রা কেঁউ দুটিই একই প্রজাতি, কিন্তু বিচিত্রা কেঁউয়ের পাতা বর্ণিল ও আলংকারিক মর্যাদা পেয়েছে।
- 📌 বিচিত্রা কেঁউগাছের উচ্চতা ২ মিটার এবং এর ফুলের ব্যাস ৮ সেন্টিমিটার।
- 📌 কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেছেন, বিচিত্রা কেঁউগাছের কন্দ, পাতা ও ফুলে ঔষধি গুণ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিন্দা পার্কের কাছাকাছি বিলের ধারে পদ্ম ও শাপলা ফুলের মাঝে বিচিত্রা কেঁউগাছের দৃশ্য দেখে সাতজন পর্যটক মুগ্ধ হয়ে গেছেন। তারা সকাল থেকে কাশবন ঘুরে দুপুর নাগাদ ফিরে এসেছিলেন জিন্দা পার্কে। পার্কের রেস্তোরাঁর সামনে বিচিত্রা কেঁউগাছের সুন্দর দৃশ্য দেখে তারা অবাক হয়ে পড়েন। এই গাছের পাতা ও ফুলের মঞ্জরি দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতি তাদের স্বপ্নের মতো দৃশ্য উপহার দিয়েছে।
বিচিত্রা কেঁউগাছের পাতা ও ফুলের মঞ্জরি দেখে তারা চিনতে পারেন যে, এটি কেমুক বা কেঁউগাছ। এই গাছের পাতা ও ফুলের মঞ্জরি দেখে তারা মনে করেন যে, এটি প্রকৃতির একটি অনন্য উপহার। বুনো কেঁউ ও বিচিত্রা কেঁউ দুটিই একই প্রজাতি ও গোত্রের, তবে বিচিত্রা কেঁউয়ের পাতা বর্ণিল ও আলংকারিক মর্যাদা পেয়েছে। বুনো কেঁউ জন্মে বনজঙ্গলে, কিন্তু বিচিত্রা কেঁউ জন্মে লালিত বা রোপিত হয়ে বাগান ও উদ্যানে।
বিচিত্রা কেঁউগাছের পাতা নানা রঙে চিত্রিত এবং এর কাণ্ড লালচে মেরুন রঙের বেতের মতো। পাতা সরল, লম্বাটে-আয়তাকার এবং ফলকের কিনারা চকচকে সবুজ। গাছের উচ্চতা প্রায় দুই মিটার এবং ফুলের ব্যাস প্রায় আট সেন্টিমিটার। ফুলের পাপড়ির রঙ সাদা এবং কেন্দ্রে হলুদ। ফুলের মঞ্জরি দেখে মনে হয় যেন সাদা সাদা পরি বসে আছে।
কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায়ের লেখায় বলা হয়েছে, বিচিত্রা কেঁউগাছের কন্দ, পাতা ও ফুলে ঔষধি গুণ রয়েছে। গ্রামের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই এই গাছের কন্দ, পাতা ও ফুল বিভিন্ন লৌকিক উপায়ে ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে শিশুদের পেটে গুঁড়া কৃমির উপদ্রব হলে গ্রামে অনেকে এ গাছের মূল বা কন্দ বেটে তার রস শিশুকে সকাল-বিকেল খাওয়ান। জ্বর, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করতে এর কন্দের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। গায়ে চুলকানি, পাঁচড়া বা একজিমা হলে কেমুকের মূল বেটে তার রস ত্বকে লাগানো হয়।
"বিচিত্রা কেঁউ বাড়ি, বাগান ও উদ্যানের ভূদৃশ্য রচনা বা ল্যান্ডস্কেপিংয়ের জন্য একটি চমৎকার গাছ। বিশেষ করে বাগানের প্রবেশপথে, আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে এরূপ স্থান অথবা দৃষ্টিকটু এলাকাকে আড়াল করার জন্য নিচু বেড়ার মতো এ গাছ ব্যবহার করা যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, জিন্দা পার্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মৃত্যুঞ্জয় রায় (কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ ভাদ্র, ২ মিটার, ৮ সেন্টিমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!