📌 কৃষিতে আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক প্যারাকোয়াটের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় ১ হাজার ৪২০টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়েছে ২১২ জনের। বিশ্বের ৭৭টি দেশে নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে
কৃষিতে আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘প্যারাকোয়াট’ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহারের ফলে বিষক্রিয়ার ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৩ সালে দেশে প্যারাকোয়াট পানে বিষক্রিয়ায় একটি মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়। তবে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১২ জনে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত জুলাইয়ে ১১৭ জন রোগী বিষক্রিয়া নিয়ে ভর্তি হন, যাদের বেশির ভাগই আগাছানাশক পান করেছিলেন বলে জানা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৩ সালে প্যারাকোয়াট পানে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছিল ১ জনের, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২১২ জনে।
- 📌 ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত জুলাইয়ে ১১৭ জন রোগী বিষক্রিয়া নিয়ে ভর্তি হন।
- 📌 বাংলাদেশে প্যারাকোয়াটের আমদানি ২০১৩ সালে ছিল ৫৩ টন, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৯৫ টনে।
- 📌 বিশ্বের ৭৭টি দেশে প্যারাকোয়াট নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।
- 📌 প্যারাকোয়াট পানে বিষক্রিয়ার ফলে ফুসফুস ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যায় এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষিকাজে আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘প্যারাকোয়াট’ বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ১০টি হাসপাতালের তথ্য নিয়ে করা এক গবেষণা অনুসারে, ২০১৩ সালে দেশে প্যারাকোয়াট পানে বিষক্রিয়ায় একটি মৃত্যুর ঘটনার রেকর্ড পাওয়া যায়। তবে ২০২৪ সালে একই রাসায়নিক পানে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১২ জনে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত জুলাইয়ে ১১৭ জন রোগী বিষক্রিয়া নিয়ে ভর্তি হন। এ জেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা বরাবরই বেশি থাকলেও ইদানীং আগাছানাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, জুলাইয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশির ভাগই আগাছানাশক পান করেছিলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৩ সালে দেশে প্যারাকোয়াটের আমদানি ছিল ৫৩ টন। কিন্তু ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৯৫ টনে। কৃষি–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে দিনমজুরের সংকট এবং পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কারণে কৃষকেরা হাত দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করার পরিবর্তে এই রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
"প্যারাকোয়াট পান করলে ধুঁকে ধুঁকে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হয়। এটি ফুসফুস ধীরে ধীরে অকেজো করে দেয় এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।"
গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফজলে রাব্বি চৌধুরী। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার গবেষকেরা অংশ নেন। গবেষকেরা দাবি করেছেন, প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়া নিয়ে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গবেষণা। গবেষণায় ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ১০টি হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় প্যারাকোয়াট পানে বিষক্রিয়ার মোট ১ হাজার ৪২০টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এসব হাসপাতাল দেশের ৬৫ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্যারাকোয়াট পানে বিষক্রিয়ার ৪৯৩টি ঘটনার রেকর্ড পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. ফজলে রাব্বি চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৪২০ (ঘটনা), ২১২ (মৃত্যু), ৪ হাজার ৬৯৫ টন (আমদানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!