📌 ডায়রিয়া প্রতিরোধে ওআরএসের উদ্ভাবন ও বাংলাদেশের অবদান নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন প্রথোম আলোর কলামিস্ট। কলেরা নিয়ন্ত্রণে এই উদ্ভাবনকে শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা ওআরএস। এই উদ্ভাবনকে ঘিরেই রয়েছে পাঁচ কোটির বেশি মানুষের জীবন রক্ষার গল্প। খাওয়ার স্যালাইন নামে পরিচিত এই ওষুধটি কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো রোগের পানিশূন্যতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওআরএস উদ্ভাবনে বাংলাদেশের অবদান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়
- 📌 কলেরা নিয়ন্ত্রণে ওআরএসের কার্যকারিতা নিয়ে ১৯৫২ সালে কলকাতায় প্রথম গবেষণা পরিচালিত হয়
- 📌 ১৯৬৮ সালে ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় ওআরএসের ফর্মুলা তুলে ধরা হয়
- 📌 বাংলাদেশে ওআরএসের ব্যাপক ব্যবহারের প্রচলন শুরু করে ব্র্যাক, যার ফলে লক্ষাধিক জীবন রক্ষা পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
১৯৫২ সালে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে কলেরা রোগীদের চিকিৎসায় তরল খাওয়ানোর পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। ওই গবেষণায় কলেরা ও ডায়রিয়ার কারণে পানিশূন্যতা দূর করতে অ্যাভোমিন ট্যাবলেটের সঙ্গে পাথরকুচির পাতার রস ব্যবহারের ফলাফল প্রকাশিত হয় ল্যানসেট সাময়িকীর ১৯৫৩ সালের ২১ নভেম্বর সংখ্যায়। গবেষক হেমেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে, এই পদ্ধতি রোগীদের বমি বন্ধ ও পানিশূন্যতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ছিল।
ষাটের দশকের শুরুতে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ ভিয়েতনাম ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) কলেরা নিয়ন্ত্রণে গবেষণা পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত এই গবেষণায় পাক–সিয়াটো কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরির (বর্তমান আইসিডিডিআরবি) ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। চাঁদপুরের মতলব ও ঢাকা হাসপাতালে মাঠপর্যায়ে ওআরএসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞানী ডেভিড আর নেলিন, রিচার্ড ক্যাস, রফিকুল ইসলাম ও মজিদ মোল্লা।
১৯৬৮ সালের আগস্টে ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয় যে, কলেরা রোগীদের জন্য গ্লুকোজ, সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও পটাশিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণ কার্যকর। এই উপাদানগুলো সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুবিধা ছিল। ওই প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয় যে, পানি দিয়ে এই দ্রবণ তৈরি করা সম্ভব।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় শরণার্থীশিবিরে ওআরএসের প্রথম ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকার শরণার্থীদের মধ্যে কলেরা দেখা দিলে তাঁদের ওআরএস খাওয়ানো হয়। ভারতে এই কাজের নেতৃত্ব দেন দিলীপ মহলানবিশ। ওআরএসের উদ্ভাবনে একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিজ্ঞানী জড়িত ছিলেন না, বরং বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণার সম্মিলিত ফলাফল ছিল এটি।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ডায়রিয়া ও কলেরা মহামারি আকার ধারণ করলে ওআরএসের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। ব্র্যাক নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী ওআরএস ব্যবহারের প্রচলন শুরু করে। ব্র্যাকের কর্মীরা প্রতিটি পরিবারে গিয়ে শেখাতেন কীভাবে এক চিমটি লবণ, এক মুঠ গুড় ও আধা সের পানি মিশিয়ে খাওয়ার স্যালাইন তৈরি করতে হয়। এই প্রচেষ্টার ফলে দেশের লক্ষাধিক মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।
"ওআরএসের উদ্ভাবন চিকিৎসাক্ষেত্রে শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, কলকাতা, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেমেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি, ডেভিড আর নেলিন, রিচার্ড ক্যাস, রফিকুল ইসলাম, মজিদ মোল্লা, দিলীপ মহলানবিশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কোটি, ২১ নভেম্বর, ৫ আগস্ট, ২৮ বছর, ১৬ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!