📅 ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

রসায়নের কাইরালিটি গবেষণায় নোবেল বিজয়ী দু’জন বিজ্ঞানী: জীবনের রহস্য খুলে দিয়েছেন ডান-বাম অণুর গোপনীয়তা

রসায়নের কাইরালিটি গবেষণায় নোবেল বিজয়ী দু’জন বিজ্ঞানী: জীবনের রহস্য খুলে দিয়েছেন ডান-বাম অণুর গোপনীয়তা

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান ও জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। তাদের আবিষ্কার রসায়নের ডান-বাম অণু (এনান্টিওমার) নিয়ন্ত্রণে বিপ্লব ঘটিয়েছে, যা জীবনের আদি রাসায়নে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান এবং জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। তাদের গবেষণা রসায়নের একটি মৌলিক রহস্য সমাধান করেছে — কীভাবে একটি অণুর ডান-বাম প্রতিবিম্ব (এনান্টিওমার) নিয়ন্ত্রণ করে জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সময় বুধবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স এই বছরের রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান এবং জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই রসায়নে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের জন্য।
  • 📌 তাদের গবেষণা দেখিয়েছে, কীভাবে একটি অণুর সামান্য পার্থক্য (২ শতাংশ) শেষ পর্যন্ত ৯৯.৯৯ শতাংশ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে — যা জীবনের আদি রাসায়নে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
  • 📌 ১৯৬০-এর দশকের থালিডোমিড দুর্ঘটনা থেকে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ — কীভাবে শরীরে ক্ষতিকর অণু তৈরি না হয়ে ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
  • 📌 ১৯৮৬ সালে কাগান এবং ১৯৯৫ সালে সোয়াই যথাক্রমে অরৈখিক প্রভাব এবং স্ব-অনুঘটন প্রমাণ করেন, যা রসায়নের ডান-বাম অণু নিয়ন্ত্রণে বিপ্লব ঘটায়।
  • 📌 ১৯ শতকের ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর প্রথম দেখিয়েছিলেন, একই পদার্থের দুটি আয়না-প্রতিবিম্ব রূপ থাকতে পারে — যা কাইরালিটি নামে পরিচিত।

📰 বিস্তারিত

রসায়নের জগতে একটি অণুর ডান-বাম প্রতিবিম্ব (এনান্টিওমার) কীভাবে জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা বুঝতে পেরে দু’জন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই আবিষ্কার জীবনের আদি রাসায়নে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে — কীভাবে জীবনের শুরুতে একটি অণুর সামান্য পক্ষপাত পরবর্তীকালে পুরো জীবনের গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে?

জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটনের ভূমিকা আবিষ্কারের জন্য কাগান ও সোয়াইকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তাদের গবেষণা দেখিয়েছে, একটি অণুর সামান্য পার্থক্য (মাত্র ২ শতাংশ) শেষ পর্যন্ত ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এমনকি এমন বিক্রিয়া তৈরি করা সম্ভব যেখানে ৯৯.৯৯ শতাংশ উৎপাদন এক ধরনের অণু দিয়ে তৈরি হয়।

১৯৬০-এর দশকে থালিডোমিড দুর্ঘটনা থেকে উদ্ভূত সমস্যা ছিল ওষুধ তৈরিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সময় অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ঘুমের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত থালিডোমিডের একটি রূপ কাজ করলেও, এর আয়না-প্রতিবিম্ব রূপটি শিশুদের শারীরিক বিকলাঙ্গতা সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, কীভাবে একটি অণুর ডান-বাম প্রতিবিম্ব জীবনের জন্য বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে। কাগান ও সোয়াইের গবেষণা এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে — কীভাবে কেবল কাঙ্ক্ষিত নির্দিষ্ট রূপটিই বেশি পরিমাণে তৈরি করা যায়।

১৯ শতকের ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর প্রথম দেখিয়েছিলেন, একই পদার্থের দুটি আয়না-প্রতিবিম্ব রূপ থাকতে পারে। তিনি টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে গবেষণা করে দেখলেন, একটি রূপ আলোকে ডান দিকে ঘুরিয়ে দেয়, অন্যটি বাঁ দিকে। এই আবিষ্কার থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারলেন, কিছু অণুর দুটি আয়না-প্রতিবিম্ব রূপ থাকতে পারে — যা কাইরালিটি নামে পরিচিত।

১৯৫৩ সালে পদার্থবিদ চার্লস ফ্র্যাঙ্ক একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দেন যে, জীবনের শুরুতে কোনো একটি অণু সামান্য বেশি তৈরি হলে সেটিই আবার নিজের তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এই ধারণার বাস্তব প্রমাণ মিলতে আরও কয়েক দশক লেগে যায়। ১৯৮৬ সালে কাগান দেখান যে, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সামান্য একটি পার্থক্যকে অনেক বড় করা সম্ভব। এরপর ১৯৯৫ সালে সোয়াই এমন একটি বিক্রিয়া আবিষ্কার করেন যেখানে শুরুতে এক ধরনের অণু অন্যটির চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ বেশি ছিল, কিন্তু শেষে সেটিই ৮৭ শতাংশ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে তিনি আরও একটি বিক্রিয়া দেখান যেখানে শুরুতে কোনো কাইরাল অণু ছিল না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত উৎপাদিত অণুর ৯৯.৯৯ শতাংশ একই রূপের হয়ে যায়।

"এই আবিষ্কার জীবনের শুরু নিয়ে নতুন প্রশ্নের দরজা খুলে দিয়েছে। জীবনের আদিম রাসায়নেও কি এমন কোনো ছোট্ট পক্ষপাত কাজ করেছিল?"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: সুইডেনের স্টকহোম (নোবেল ঘোষণা), জাপান ও ফ্রান্স (বিজ্ঞানীদের গবেষণালয়)
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অঁরি কাগান (ফরাসি বিজ্ঞানী), কেনসো সোয়াই (জাপানি বিজ্ঞানী), লুই পাস্তুর (ফরাসি বিজ্ঞানী), চার্লস ফ্র্যাঙ্ক (পদার্থবিদ)
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৯.৯৯ শতাংশ (উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ), ৮৭ শতাংশ (অণু অনুপাত), ২ শতাংশ (সামান্য পার্থক্য), ১৯৮৬ (কাগানের আবিষ্কার), ১৯৯৫ (সোয়াইয়ের আবিষ্কার)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖