📌 সিআইডি পাবনা জেলায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচারের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে মনোয়ার হোসেন (৪১), মারুফ হোসেন হলি (২৭) ও ইলিয়াস হোসেন রাজু (২৬)। তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে অর্থ পাচার করত
সিআইডি পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনজন ব্যক্তি অনলাইন বেটিং পরিচালনা ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা জেলায় সিআইডি অভিযানে গ্রেপ্তার করে তিন সদস্য: মনোয়ার হোসেন (৪১), মারুফ হোসেন হলি (২৭) ও ইলিয়াস হোসেন রাজু (২৬)।
- 📌 ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার পাবনা সদর, আতাইকুলা ও সাঁথিয়া থানার এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।
- 📌 সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট বনগ্রাম বাজার থেকে ইলিয়াস হোসেন রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে মনোয়ার ও মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- 📌 সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় ১৯ মে পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছে।
- 📌 অনলাইন জুয়া সাইট থেকে সংগৃহীত অর্থ এমএফএস, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হতো।
- 📌 গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ও সিম উদ্ধার করা হয়েছে, তবে চক্রের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ও অর্থের পরিমাণ তদন্ত চলছে।
📰 বিস্তারিত
সিআইডির তথ্য মতে, গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অর্থ পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে পাবনা সদর থানার ঈদগাহ রোড বাইলেনের রাধানগর মাঠপাড়ার মো. মনোয়ার হোসেন (৪১), পাবনা সদর থানার রামচন্দ্রপুরের মো. মারুফ হোসেন হলি (২৭) এবং সাঁথিয়া থানার বনগ্রামের মো. ইলিয়াস হোসেন রাজু (২৬)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে আতাইকুলা থানার বনগ্রাম বাজার এলাকা থেকে ইলিয়াস হোসেন রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে সাঁথিয়ার কাশিনাথপুর বাজার এলাকা থেকে মনোয়ার হোসেন ও মারুফ হোসেন হলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার জুয়া আয়োজন করে ব্যবহারকারীদের টাকা জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের এমএফএস, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বেটিং সাইটে টাকা জমা ও উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হতো। চক্রটি নিয়মিত এসব নম্বর ও হিসাব পরিবর্তন করত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে একাধিক এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করা হতো। পরে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে এসব তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হতো। তদন্তে আরও জানা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এজেন্টরা একত্র করতেন এবং তা বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো।
"সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিআইডি জানতে পারে, দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করছে। এসব সাইটে জুয়ায় অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের টপ-আপ করতে হতো। টাকা জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি যুক্ত করা হতো। পরে ওই অর্থ দিয়ে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিতেন ব্যবহারকারীরা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা জেলা (পাবনা সদর, আতাইকুলা, সাঁথিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনোয়ার হোসেন (৪১), মারুফ হোসেন হলি (২৭), ইলিয়াস হোসেন রাজু (২৬)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ৭টা ২৫ মিনিট, ১১টা ৩৫ মিনিট, ১৯ মে (মামলা দায়ের), ৩৪ লাখ টাকা (অন্যান্য ঘটনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!