📌 নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোগীর কেনা স্যালাইনের টাকা পরিশোধ করেন। তিনি হাসপাতালের অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্কারের ঘোষণা দেন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোগীর কেনা স্যালাইনের টাকা পরিশোধ করেন
- 📌 হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে
- 📌 খাবার বরাদ্দ প্রতি বেডে ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার ঘোষণা
- 📌 চিকিৎসকদের দেরিতে আসা ও নার্সের অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ
- 📌 জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্যে ৬০টি মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন তিনি।
পরিদর্শনে রোগীদের কাছ থেকে সার্বিক সেবার মান নিয়ে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও বেশ কিছু অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি জানান, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও খাবার বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ শয্যার। এই সংকট দূর করতে প্রতি বেডে খাবার বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার ঘোষণা দেন তিনি।
এক চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে আসায় এবং এক নার্স বিনা মূল্যের স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বলায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর এই খাতে কোনো জবাবদিহি ছিল না। আমরা মাত্র ছয় মাসে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ফেরানোর কাজ শুরু করেছি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ডায়ালাইসিস সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো, শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের তীব্র সংকট দূর করতে আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যেই জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা লেভেলে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দৈনিক তিন শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে।
হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে শয্যার সংখ্যা ৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫১ শয্যা করার সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন ও টেন্ডারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রতিটি ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে থাকছে প্রসূতিদের চিকিৎসায় ২৫টি শয্যা এবং শিশুদের জন্য আলাদা ২০টি বিশেষ শয্যা। এ ছাড়া থাকবে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড এবং সমলিঙ্গের ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান।
‘বিগত ১৭ বছর এই খাতে কোনো জবাবদিহি ছিল না। আমরা মাত্র ছয় মাসে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ফেরানোর কাজ শুরু করেছি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল, নওগাঁ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ (শয্যা), ১৭৫ টাকা (খাবার বরাদ্দ), ২৫০ টাকা (খাবার বরাদ্দ বৃদ্ধি), ৪৫ মিনিট (চিকিৎসকের দেরি), ১৭ বছর (জবাবদিহিহীনতা), ৯ হাজার ৫০০ (নতুন জনবল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!