📌 চা-বাগানের শ্রমিকদের দুই শতাব্দীর দাসত্বের ইতিহাস উন্মোচন করেছে আন্তর্জাতিক দাস-বাণিজ্য বিলোপ দিবস। ব্রিটিশ শাসনামলে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থা এখনো চলছে চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনে
আন্তর্জাতিক দাস-বাণিজ্য বিলোপ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক কলামে চা-শ্রমিকদের দুই শতাব্দীর দাসত্বের ইতিহাস তুলে ধরেছেন লেখক পাভেল পার্থ। তাঁর বর্ণনায় উঠে এসেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের আহমেদাবাদ ইউনিয়নের ত্রিপুরা সীমান্ত লাগোয়া ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন আমু চা-বাগানের নির্মম ইতিহাস।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮৭০ সালে ব্রিটিশ শাসকেরা আদিবাসীদের জোর করে চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করে
- 📌 চা-বাগানের শ্রমিকদের পরিবারের একজনকে আজীবন দাসত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ করা হতো
- 📌 স্বপন খাড়িয়া নামে একজন শ্রমিকের পরিবার চার প্রজন্ম ধরে একই চা-বাগানে কাজ করছে
- 📌 স্বপনের দাদার মজুরি ছিল মাত্র আট আনা, আর স্বপনের বর্তমান মজুরি ১৮৭ টাকা
- 📌 চা-বাগানে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত দৈনিক মজুরি ছিল ৫০০ টাকা, যা সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত ছিল না
📰 বিস্তারিত
পাভেল পার্থ তাঁর কলামে উল্লেখ করেছেন যে, ব্রিটিশ শাসকেরা ময়ূরভঞ্জ, নীলগিরি ও বিহার থেকে আদিবাসীদের জোর করে চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করেন। তাঁদের পরিবারের একজনকে আজীবন দাসত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ করা হতো। এই ব্যবস্থার অধীনে পরিবারের একজন সদস্য চা-বাগানে কাজ করলে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা স্থায়ীভাবে শ্রমিক হিসেবে বিবেচিত হতেন।
আমু চা-বাগানের মাটান বুঢ়হা ছিলেন এমনই একজন শ্রমিক। তাঁর কাজ পরবর্তীতে তাঁর ছেলে লড়গো খাড়িয়ার কাছে হস্তান্তরিত হয়। লড়গোর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বুধনী খাড়িয়া এবং পরে তাঁর ছেলে মনবধুয়া এই কাজটি গ্রহণ করেন। মনবধুয়ার মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী স্বপন খাড়িয়া এই কাজটি চালিয়ে যান। স্বপন ও তাঁর স্ত্রী রূপা খাড়িয়ার দুই সন্তান তন্ময় ও অঙ্কিত স্কুলে পড়াশোনা করছে। স্বপন জানান, তাঁর দাদার সময়ে দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র আট আনা। আর তাঁর নিজের সময়ে দৈনিক মজুরি দাঁড়িয়েছে ১৮৭ টাকায়।
কলামে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চা-বাগান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শ্রমিকদের জীবন ছিল এক ধরনের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ। শ্রমিকদের কাজের সময় পানি খাওয়ার জন্য কোনো গ্লাস দেওয়া হতো না। কর্মকর্তাদের বাংলোয় প্রবেশ করতে হতো পেছনের দরজা দিয়ে। দিনে ২৪ কেজি চা-পাতা তোলার মাপকে বলা হতো ‘নিরিখ’। এই নিরিখ পূর্ণ না হলে পুরো মজুরি দেওয়া হতো না। মালিকেরা প্রায়ই নিরিখ ফাঁকি দিতেন এবং শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রাখতেন।
কলামে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চা-বাগানের শ্রমিকদের সন্তানদের স্কুলে পড়াশোনা করতে দেওয়া হতো না। কর্তৃপক্ষ চাইতেন না যে শ্রমিকদের সন্তানেরা উচ্চশিক্ষা লাভ করুক। চা-বাগান প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পর ১৮৮৮ সালে আমু চা-বাগানে ঘনশ্যামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এর পরেও অনাহার ও অসুখে বহু মানুষ মারা যেতেন।
"চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবন ছিল এক ধরনের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ। তাঁদের জীবনযাত্রার মান ছিল অত্যন্ত নিম্নস্তরের। সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা হলেও তা মানা হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, আমু চা-বাগান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বপন খাড়িয়া, মাটান বুঢ়হা, লড়গো খাড়িয়া, মনবধুয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৭০ (চা-বাগান প্রতিষ্ঠা), ১৮৭ টাকা (বর্তমান দৈনিক মজুরি), ২৪ কেজি (দৈনিক চা-পাতা তোলার মাপ), ৫০০ টাকা (সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!