📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

নদী দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় ময়মনসিংহের জলাধার, বিপন্ন অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য

নদী দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় ময়মনসিংহের জলাধার, বিপন্ন অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 ময়মনসিংহ বিভাগের ১৭৯টি নদ-নদীর বেশিরভাগই এখন মৃতপ্রায়। শিল্পবর্জ্য ও অবৈধ দখলের কারণে ব্রহ্মপুত্রসহ নয়টি প্রধান নদী চরম সংকটে। স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

ময়মনসিংহ বিভাগের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণভোমরা ছিল এর বিস্তৃত নদী নেটওয়ার্ক। হিমালয় থেকে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসংখ্য শাখা-উপনদী, খাল ও প্লাবনভূমি এ অঞ্চলের জীবনধারাকে বহুদিন ধরে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু গত তিন দশকে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, নিয়ন্ত্রণহীন বর্জ্য নিষ্কাশন এবং নদী অববাহিকা দখলের ফলে এই বিশাল জলতন্ত্র এখন ধ্বংসের মুখে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 ময়মনসিংহ বিভাগে মোট নদ-নদীর সংখ্যা ১৭৯টি, যার মধ্যে নেত্রকোনায় ৯৪টি, জামালপুরে ১৫টি, শেরপুরে ১১টি এবং ময়মনসিংহ জেলায় ৫৯টি
  • 📌 ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, বেশিরভাগ নদীই এখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে
  • 📌 বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) চিহ্নিত করেছে নয়টি সবচেয়ে সংকটাপন্ন নদী: ব্রহ্মপুত্র, সোমেশ্বরী, মহাদেও, সুতিয়া, সুতিখালী, খিরু, বানার, আইমান ও মগড়া
  • 📌 ভালুকা ও ত্রিশালের শিল্পবর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে লাউতি খাল, খিরু ও বানার নদ
  • 📌 স্থানীয় কৃষকরা বিষাক্ত পানি দিয়ে ফসল সেচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে

📰 বিস্তারিত

ময়মনসিংহ বিভাগের নদীগুলো একসময় ছিল অঞ্চলটির অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রধান চালিকাশক্তি। ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা হিসেবে পরিচিত সোমেশ্বরী, মহাদেও, সুতিয়া প্রমুখ নদীগুলো কৃষি, মৎস্য চাষ ও পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। তবে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নিয়ন্ত্রণহীন দূষণের কারণে এই নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়।

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন চার জেলার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নদ-নদীর একটি তালিকা প্রস্তুত করে। সেই তালিকা অনুযায়ী, ময়মনসিংহ বিভাগে মোট নদ-নদীর সংখ্যা ১৭৯টি। এর মধ্যে নেত্রকোনায় রয়েছে ৯৪টি, জামালপুরে ১৫টি, শেরপুরে ১১টি এবং ময়মনসিংহ জেলায় রয়েছে ৫৯টি নদ-নদী। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই ১৭৯টি নদ-নদীর বেশিরভাগই এখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) তাদের মাঠপর্যায়ের গবেষণার ভিত্তিতে ময়মনসিংহ বিভাগের নয়টি নদ-নদীকে ‘সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই তালিকায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র, সোমেশ্বরী, মহাদেও, সুতিয়া, সুতিখালী, খিরু, বানার, আইমান ও মগড়া। আইমান নদকে একসময় ‘হারিয়ে যাওয়া নদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সম্প্রতি পাউবো এর কিছু অংশ খনন করেছে।

ভালুকা ও ত্রিশাল উপজেলাকে ময়মনসিংহের শিল্পায়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানকার টেক্সটাইল, ডাইং, গার্মেন্টস ও সিরামিক শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করলেও স্থানীয় নদ-নদীগুলোর জন্য তা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের লাউতি খাল মল্লিকবাড়ি এলাকায় গিয়ে মিশেছে খিরু নদে। শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে লাউতি খালের পানি এখন কুচকুচে কালো। এই বিষাক্ত পানির প্রবাহ খিরু নদে মিশে পুরো নদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করেছে।

ত্রিশাল উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বানার নদও একই দূষণের শিকার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিরামিক কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত তরল বর্জ্য দিনরাত এই নদে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদের পানি কখনো নীল, কখনো লাল, আবার কখনো গাঢ় বেগুনি বর্ণ ধারণ করছে। এই বিষাক্ত পানির প্রবাহ শেষ পর্যন্ত গিয়ে মিশছে শীতলক্ষ্যা নদীতে, যার প্রভাব পড়ছে ঢাকার চারপাশের নদীব্যবস্থাতেও।

লাউতি খাল ও খিরু নদের পাড়ের কৃষকরা এখন আর সেচ দেওয়ার মতো কোনো বিকল্প উৎস খুঁজে পাচ্ছেন না। ভূগর্ভস্থ পানি তোলার খরচ বেশি হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে নদ ও খালের বিষাক্ত পানি দিয়েই ধান ও অন্যান্য ফসলের জমিতে সেচ দিচ্ছেন। হবিরবাড়ি গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কৃষক মোস্তফা কামাল ১৮ কাঠা জমিতে আমন ও বোরো ধানের চাষ করেছেন। তিনি জানান, লাউতি খাল থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে পাম্প করে কারখানার বর্জ্যমিশ্রিত কালো পানিই তাঁকে জমিতে দিতে হয়।

"দুই দশক আগেও এই লাউতি খাল ও খিরু নদ ছিল স্বচ্ছ পানির উৎস এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রধান ভিত্তি। কিন্তু শিল্পবর্জ্যের বিষাক্ত প্রবাহের কারণে এখন তা মৃতপ্রায়।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: ময়মনসিংহ বিভাগ (নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ)
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কর্মকর্তাদের, স্থানীয় কৃষক মোস্তফা কামাল
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৯টি নদ-নদী, ৯টি সংকটাপন্ন নদী, ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ৬৫ বছর, ১৮ কাঠা

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖