📌 কোপেনহেগেন ও আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, খাবার খাওয়ার সময় সংগীত শুনলে মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল সক্রিয় হয়ে স্বাদের অনুভূতি বাড়ায়। ৪৮ জন অংশগ্রহণকারীর উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, মিষ্টি সংগীতের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে
খাবার খাওয়ার সময় পছন্দের গানের সঙ্গে মিলিয়ে শুনলে স্বাদের অনুভূতি কতটা পরিবর্তিত হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন কোপেনহেগেন ও আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাদের গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, সংগীত মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলকে সক্রিয় করে, যা খাবারের স্বাদের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। গত জুনে বিজ্ঞান জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টসতে প্রকাশিত এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৪৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংগীতের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা মানুষের কাছে অনেক বেশি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৮ জন অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, সংগীত স্বাদের অনুভূতি বাড়ায়
- 📌 এফএমআরআই স্ক্যান থেকে দেখা গেছে, খাবার খাওয়ার সময় সংগীত শুনলে মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল জোরালোভাবে সাড়া দেয়
- 📌 ৯-পয়েন্ট স্কেলে আচরণগত মূল্যায়নে দেখা গেছে, মিষ্টি সংগীতের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি প্রীতিকর মনে হয়েছে
- 📌 গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি: অডিটরি স্টিমুলি, এমআরআই, এফএমআরআই, গাস্টোমিটার ও নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্বাদ কেবল জিহ্বার কাজ নয়। এটি একটি বহু-ইন্দ্রিয়ভিত্তিক অনুভূতি, যেখানে গন্ধ, দৃষ্টি, স্পর্শ ও শ্রবণেন্দ্রিয়ের সমন্বয়ে মস্তিষ্ক স্বাদের অনুভূতি তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, শব্দের সঙ্গে স্বাদের একটি সুনির্দিষ্ট সংযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, উচ্চ পিচের সংগীত মিষ্টির স্বাদের অনুভূতি বাড়াতে পারে। তবে এ পর্যন্ত মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে শব্দ ও স্বাদকে একসঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করে, তা অজানা ছিল। এই গবেষণা মূলত এই স্নায়বিক মেকানিজম উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল।
গবেষণাপদ্ধতিতে তিনটি ধাপ ছিল। প্রথম ধাপে, অংশগ্রহণকারীদের এমআরআই স্ক্যানারের ভেতরে শুয়ে থাকা অবস্থায় একই সঙ্গে সংগীত শোনানো হয় এবং তাদের জিবে মিষ্টি বা টক দ্রবণ দেওয়া হয়। চারটি ভিন্ন মিশ্রণ পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে শুধু সংগীত শুনিয়ে এবং আলাদাভাবে স্বাদের দ্রবণ খাইয়ে মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া মাপা হয়। তৃতীয় ধাপে, স্ক্যান শেষ করার পর অংশগ্রহণকারীদের আইপ্যাডে স্বাদের তীব্রতা, পছন্দ ও শব্দ ও স্বাদের সামঞ্জস্য ৯-পয়েন্ট স্কেলে রেট করতে বলা হয়।
গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে, সংগীত মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলকে সক্রিয় করে, যা খাবারের স্বাদের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে, মিষ্টি সংগীতের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি আনন্দদায়ক মনে হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জ্ঞান রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, স্কুল ক্যানটিনসহ বিভিন্ন স্থানে খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে উন্নত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
"স্বাদ কেবল জিহ্বার কাজ নয়। এটি গন্ধ, দৃষ্টি, স্পর্শ ও শ্রবণেন্দ্রিয়ের যৌথ অনুভূতির ফসল। সংগীত মস্তিষ্কের ভেতরে স্বাদ গ্রহণের অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কোপেনহেগেন ও আরহাস বিশ্ববিদ্যালয় (ডেনমার্ক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৪৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮ জন অংশগ্রহণকারী, ৯-পয়েন্ট স্কেল, ৪টি মিশ্রণ পরীক্ষা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!