📌 সরকার জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশের দূষণকারী লাল শ্রেণি থেকে কমলা শ্রেণিতে স্থানান্তর করেছে। এতে ইয়ার্ড স্থাপনের জন্য পরিবেশগত সমীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা কমে যাবে, যা পরিবেশ ও শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। পরিবেশবাদীরা সতর্কতা জানিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিপজ্জনক শিল্পের তালিকায় থাকা জাহাজভাঙা শিল্পের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে
জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য সরকার লাল শ্রেণি থেকে কমলা শ্রেণিতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পরিবেশ ও শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। পরিবেশবাদীরা দাবি করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জাহাজভাঙা কার্যক্রমের উপর তদারকি দুর্বল হয়ে পড়বে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শিথিল হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রেণি পরিবর্তন**: সরকার জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশের দূষণকারী লাল শ্রেণি থেকে কমলা শ্রেণিতে স্থানান্তর করেছে।
- 📌 **ইয়ার্ড স্থাপনের বাধ্যবাধকতা কমে যাবে**: এতে ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করার বাধ্যবাধকতা কমে যাবে, যা ৯০ দিনের প্রক্রিয়া থেকে বাঁচাবে।
- 📌 **শিল্পমন্ত্রী ও পরিবেশমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত**: পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটিতে পরিবেশবাদী বা বিশেষজ্ঞদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না।
- 📌 **আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সতর্কতা**: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জাহাজভাঙা শিল্পকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
- 📌 **চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ এশিয়ার উপকূলের দূষণ**: চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ এশিয়ার সৈকতে জাহাজভাঙা কার্যক্রমের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, মাটি ও বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে।
📰 বিস্তারিত
জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশের জন্য সর্বোচ্চ দূষণকারী শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করাসহ বেশ কয়েকটি ধাপে অনুমোদন নিতে হয়। তবে সরকারের সিদ্ধান্তে জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এ শিল্পকে লাল থেকে কমলা শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জাহাজভাঙা শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, লাল শ্রেণিতে থাকায় ইয়ার্ড স্থাপনের অনুমোদন পেতে ৯০ দিনের মতো সময় লাগে, যা তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কিন্তু পরিবেশবাদীরা সতর্কতা জানিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শ্রমিক ও পরিবেশ উভয়ই ঝুঁকিতে পড়বে। তারা দাবি করছেন, জাহাজভাঙা শিল্প উচ্চ ঝুঁকি ও দূষণকারী শিল্প, যা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, হংকং কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২০টি গ্রিন ইয়ার্ড রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, তারা প্রতিটি ইয়ার্ডে ১৫০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছেন। তিনি বলেছেন, জাহাজভাঙা শিল্প লাল শ্রেণিতে থাকায় ইয়ার্ড স্থাপনে অনুমতি পেতে তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়, যা ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পরিবেশ ও শিল্প উভয়ই বাঁচাতে হবে, বলে তিনি বলেছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, জাহাজভাঙা কার্যক্রম ও জাহাজভাঙা ইয়ার্ড দুটোই লাল শ্রেণির শিল্প। বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, লাল শ্রেণির কারখানা বা স্থাপনা পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে। এই প্রভাব মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক। তবে নতুন সিদ্ধান্তে এই বিধিমালা শিথিল হয়ে পড়বে।
"পরিবেশ ও শিল্প দুটোই বাঁচাতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, জাহাজভাঙা কার্যক্রম ও জাহাজভাঙা ইয়ার্ড দুটোই লাল শ্রেণির শিল্প। এই প্রভাব মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।"
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিধিমালা পরিবর্তনের ফলে একটি ইয়ার্ড কী পরিমাণ দূষণ করবে এবং পরিবেশে সেটার প্রভাব কতটুকু পড়বে, সে বিষয়ে জানার সুযোগ থাকবে না। এ শিল্পের তদারকব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, জাহাজভাঙার জন্য কোনো ইয়ার্ড স্থাপন করতে হলে প্রথমে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করতে হয়, যা ভারত ও পাকিস্তানের জাহাজভাঙা শিল্পের জন্যও বাধ্যতামূলক। বর্তমানে ইয়ার্ডের দূষণ রোধে কী কী ব্যবস্থা থাকবে, সেটার বিস্তারিত কার্যপরিধি (টিওআর) পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে জমা দিয়ে অনুমোদন প্রাপ্তির পর ইআইএর কার্যক্রম শুরু করে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ড।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বেলা এখন-এর প্রধান নির্বাহী, বলেছেন, জাহাজভাঙা শিল্পকে কমলা শ্রেণিতে নিয়ে আসা হলে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, কমলা শ্রেণির শিল্পের জন্য প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করতে হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে। তবে এ সুপারিশ মানার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, দক্ষিণ এশিয়ার উপকূল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিল্পমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ দিন (ইয়ার্ড অনুমোদনের সময়সীমা), ১৫০ কোটি টাকা (প্রতিটি ইয়ার্ডে বিনিয়োগ), ১৫-২০টি গ্রিন ইয়ার্ড (বাংলাদেশে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!