📌 যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৩ দিনে ৫৭ জন ডেঙ্গু ও ২২ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। পরীক্ষা ও ওষুধের সংকটে রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা ও চিকিৎসা করতে হচ্ছে। হাসপাতালের ৫০ শয্যা ধারণক্ষমতা থাকলেও প্রতিদিন ৯০-১০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু ও হামের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ২৩ দিনে ৫৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও ২২ জন হাম আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে পাঁচজন এবং মহিলা ওয়ার্ডে চারজন ডেঙ্গু রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ২৩ দিনে মনিরামপুর হাসপাতালে ৫৭ জন ডেঙ্গু ও ২২ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে
- 📌 ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্টের অভাবে রোগীদের বাইরে থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করতে হচ্ছে
- 📌 ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩১ জন চিকিৎসক ও কর্মী থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ৯০-১০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে
- 📌 রোগী মামুন হোসেনের চিকিৎসায় প্রথম দিনেই ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে
- 📌 হাসপাতালে স্যালাইন ও ওষুধের সংকটে রোগীদের নিজে কিনতে হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অনুপ বসু জানান, ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের বেশিরভাগই বিজয়রামপুর ও গাংড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ময়লা-ময়লা ড্রেনের কারণে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ না হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। অনুপ বসু আরও বলেন, ঢাকা ও খুলনা থেকে ফেরার পর অনেকের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। এসব এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিদের মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আনিছুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সিবিসি উইথ প্লাটিলেট পরীক্ষা জরুরি। কিন্তু রিএজেন্টের অভাবে এই পরীক্ষা বাইরে থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আগামী রোববার থেকে হাসপাতালে প্লাটিলেট পরীক্ষা শুরু হবে। তবে ওষুধের সংকট রয়েছে। বর্তমান মেডিসিন ১০ দিন চলবে, এরপর আবার কিনতে হবে।”
মামুন হোসেনের মা শাহিদা বেগম বলেন, “পাঁচ দিন ধরে ছেলের জ্বর। প্রথম দিনে ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। একটি স্যালাইন ৮০০ টাকা, দুটি পরীক্ষা হাসপাতালে ১০০ টাকা করে করিয়েছি। বাকি দুটি পরীক্ষা বাইরে থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েছি। বুধবার সকালে একটি সিবিসি পরীক্ষা বাইরে থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে করিয়েছি।”
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। গত সপ্তাহের বুধবার এক দিনেই ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। এছাড়াও প্রতিদিন প্রায় ১০০ রোগীকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনুপ বসু বলেন, “৫০ শয্যার ওষুধ দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। স্যালাইন ও ওষুধের সংকট রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ৫ হাজার স্যালাইন চাহিদা দেওয়া হলেও পেয়েছি মাত্র ৫০০টি।”
"আমাদের ল্যাবে প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি ও মেডিসিন সরবরাহ থাকলে রোগীদের হাসপাতালে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনুপ বসু (আরএমও), আনিছুজ্জামান (মেডিকেল টেকনোলজিস্ট), শাহিদা বেগম (মামুন হোসেনের মা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী, ২২ জন হাম আক্রান্ত শিশু, ২৩ দিন, ৪০০ টাকা (পরীক্ষা খরচ), ২ হাজার ৫০০ টাকা (প্রথম দিনের খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!