📌 নোয়াখালীতে বাসকারী মিতু সাপের ভয় জয় করে সাপ উদ্ধারের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। সাপের খবর পেলেই তিনি দ্রুত সেখানে যান এবং নিরাপদে সাপগুলোকে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেন। তার কাজের জন্য তাকে বিভিন্ন ডাকনাম দেওয়া হয়, যেমন 'সাপুড়ে আপা' ও 'কালনাগিনী'
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাসকারী মিতু সাপের ভয়কে দায়িত্বে রূপান্তরিত করেছেন। সাপের খবর পেলেই তিনি ব্যাগে সরঞ্জাম নিয়ে ছুটে যান এবং নিরাপদে সাপগুলোকে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বন্যপ্রাণিবিদ্যা বিষয়ে মাস্টার্স করছেন মিতু। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে, তবে বেড়ে ওঠা ঢাকায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নোয়াখালীর নারী মিতু সাপের ভয় জয় করে সাপ উদ্ধারের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন এবং সাপের খবর পেলেই দ্রুত সেখানে যান
- 📌 মিতু সাপের গতিবিধি বুঝে নিরাপদে উদ্ধার করেন এবং তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেন
- 📌 তিনি ‘ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’ (WSRTBD) সংগঠনের লার্নার ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেন এবং সাপ উদ্ধারের কাজে নিযুক্ত হন
- 📌 মিতু প্রথমে সাপকে ভয় পেতেন, কিন্তু সাপ সম্পর্কে জানার পর সেই ভয়টি দায়িত্বে রূপান্তরিত হয়
- 📌 কবিরহাটে জোড়া পদ্মগোখরো উদ্ধারের ঘটনা এবং মাইজদীর রশিদ কলোনিতে ১৭টি ডিম পাওয়ার ঘটনাগুলো তার স্মৃতিতে গেঁথে আছে
- 📌 মিতুর পরিবারও শুরুতে তার কাজকে সহজভাবে নেয়নি, কিন্তু ধীরে ধীরে তার কাজ সম্পর্কে বুঝতে পেরে পাশে দাঁড়িয়েছে
📰 বিস্তারিত
মিতু সাপের খবর পেলেই ব্যাগে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ছুটে যান। বাড়ির ঘর, মুরগির খোপ বা স্টোররুমের মেঝের নিচে—যেখানেই সাপ আটকে পড়ুক, খবর পেলেই সেখানে পৌঁছে যান তিনি। নোয়াখালীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় প্রতিদিনই তার কাছে আসে সাপ উদ্ধারের ফোন। কখনো চৌমুহনী, কখনো বেগমগঞ্জ, মাইজদী সদর কিংবা কবিরহাট। ক্লাস, পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মধ্যেও সুযোগ পেলেই ছুটে যান তিনি।
মিতু ‘ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’ (WSRTBD) সংগঠনের লার্নার ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেন। সাপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রায় আট মাস ক্লাস করেন। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণের পর সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন রেসকিউ অভিযানে যেতে শুরু করেন। তিনি জানেন কোন সাপের ক্ষেত্রে কী কৌশল ব্যবহার করতে হয় এবং কীভাবে নিরাপদে সাপ হ্যান্ডেল করতে হয়।
মিতু বলেন, ‘আমি শুরুতে সাপকে বেশ ভয় পেতাম। কিন্তু সাপ সম্পর্কে জানার পর এবং তাদের গতিবিধি বোঝার পর সেই ভয়টা ধীরে ধীরে দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।’ প্রথম সাপ ধরার স্মৃতিটিও তার কাছে বিশেষ। সদ্য স্নাতক শেষ করার পর সন্দ্বীপে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে প্রথমবার সাপ উদ্ধার করেন তিনি। এরপর নোয়াখালীর বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক রেসকিউয়ে যেতে থাকেন মিতু।
কবিরহাটে জোড়া পদ্মগোখরো উদ্ধারের ঘটনাটি তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। একটি বাড়িতে মুরগি ও কবুতর পালন করা হতো। কয়েক দিন ধরে বাড়ির লোকজন লক্ষ্য করছিলেন, মুরগির ডিম উধাও হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ছোট বাচ্চাগুলোও কোনো কিছুর কামড়ে মারা যাচ্ছিল। তিন-চার দিন পর তারা দেখতে পান, দুটি পদ্মগোখরো মুরগির ঘরের মেঝেতে থাকা ডিম খাচ্ছে। বিষধর সাপ হওয়ায় বাড়ির লোকজন সাপ দুটিকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। তবে বাড়ির একজন যুবক সাপ উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতেন এবং সংগঠনটির হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। পরে রেসকিউ কলটি মিতুর কাছে পৌঁছায়।
মাইজদীর রশিদ কলোনির একটি রেসকিউয়ের ঘটনাও তার মনে গেঁথে আছে। বন্যার পর একটি বাড়িতে সাপের আনাগোনা দেখা দিলে খবর পেয়ে সেখানে যান তিনি। সাপটি লুকিয়ে ছিল স্টোররুমের মেঝের নিচে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির মানুষের সহযোগিতায় মেঝে খোঁড়া হলেও সাপটির দেখা মিলছিল না। একপর্যায়ে সাপটি আর পাওয়া যাবে না বলেই মনে হচ্ছিল। ঠিক তখনই সন্ধান মেলে সাপটির। মেঝের নিচে একটি ইঁদুরের গর্তে সাপটি ১৭টি ডিম দিয়েছিল। পরে ডিমসহ সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
"আমি শুরুতে সাপকে বেশ ভয় পেতাম। কিন্তু সাপ সম্পর্কে জানার পর এবং তাদের গতিবিধি বোঝার পর সেই ভয়টা ধীরে ধীরে দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নোয়াখালী, নোয়াখালীর সুবর্ণচর, চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, মাইজদী সদর, কবিরহাট, সন্দ্বীপ, মাইজদীর রশিদ কলোনি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিতু (জান্নাতুন নেসা মিতু)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭টি ডিম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!